অনুপ্রেরণা -৩

​​​
 * * * আল্লাহর কাছে নিজ দুর্বলতা ও অক্ষমতাকে স্বীকার করতে লজ্জা পাবেন না কেননা আল্লাহ আপনার সেই দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে সাহায্য করবেন।

* * *
​মনে রাখবেন, আল্লাহ ক্ষমা করতে কখনো ক্লান্ত হন না।

* * *
জ্ঞানার্জনের ​ ফলে আমাদের অনেক বেশি বিনয়ী হবার কথা। যদি জ্ঞান অর্জন আমাদেরকে উদ্ধত করে দেয় ​ তাহলে ​ আমরা কী নিয়াতে কী শিখছি তা নিয়ে চিন্তা করা দরকার।​

 * * *
প্রশান্তি খুঁজতে বরং সলাতে দাঁড়িয়ে পড়ুন।

* * *
কখনো কখনো লোকে হয়ত আপনাকে ফিরিয়ে দেবে। বিষয়টাকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েন না, কষ্ট পেয়েন না। কেননা লোকের ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ হয়ত আপনাকে তার পথে ঘুরিয়ে দেবেন।

 * * *
যদি আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মূহুর্তগুলো পৃথিবীর বিষয়গুলোর কারণে হয়ে থাকে। তাহলে আপনি কোনদিন সত্যিকারের আনন্দ পাননি।

 * * *
এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও সৌভাগ্যময় মূহুর্তগুলোর একটি হলো সিজদাহ।

 * * *
ঠিক যেই মূহুর্তে আমরা আল্লাহকে ভুলে যাই, আমরা আসলে সবকিছুকেই হারিয়ে ফেলি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাই।

 * * *
কখনো কখনো অন্য কারো হৃদয়কে প্রশান্ত করতে আপনার মুখের কয়েকটি শব্দই যথেষ্ট।

 * * *
সালাতকে বোঝা মনে করা উচিত নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে সলাত দিয়েছেন যেন আমরা আমাদের উপরের বোঝাকে হালকা করতে পারি।

 * * *
কারো চরিত্র সম্পর্কে যদি ধারণা পেতে চান তাহলে খেয়াল করুন সে কাদের সাথে মেলামেশা করে।

 * * *
ছোট ছোট কিছু কাজ মিলে বিশাল অর্জন আর সফলতাকে তৈরি করে। ছোট কাজগুলো কখনই কম মূল্যবান নয়।

 * * *
অসুস্থতা দিয়ে আল্লাহ ঈমানদারদের গুনাহ মাফ করিয়ে নেন।

 * * *
মুভিতে দেখা বিয়েগুলোর সাথে আপনার বিয়ের তুলনা করতে যাবেন না। মুভির বিয়েগুলো লিখেছে স্ক্রিন-রাইটাররা, আপনারটা লিখেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা।

 * * *
যে মানুষটার সাথে আমরা ভালো হবার প্রতিযোগিতা করতে পারি সে হলো আমাদের গতকালকের আমি।

 * * *
যে আল্লাহর সামনে হাঁটু গেঁড়ে সিজদাহ করতে পারে সে সবার সামনে দৃঢ় হয়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

 * * *
আমি আল্লাহর কাছে অনেককিছু চেয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে কিছু সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি হয়ত যা চেয়েছি তা পাইনি কিন্তু তা-ই পেয়েছি যা আমার প্রয়োজন ছিলো।

 * * *
ভালোবাসার গভীরতম সম্পর্কটি আল্লাহর সাথে ঠিক করে রাখুন, তিনি গোটা পৃথিবীকে আপনার জন্য ঠিক করে দেবেন।

 * * *
কেবলমাত্র বোকারাই অস্থায়ী পৃথিবীতে স্থায়ী বাড়ি/গাড়ি/সম্পর্ক খুঁজে হয়রান হয়।

 * * *
এই যে জীবনের এত কষ্ট-ক্লান্তি-চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-হাসি-গান … কিছুই রবে না বেশিদিন। থাকবেন শুধু আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আল হাইয়্যু, আল কাইয়্যুম।

 * * *
রেগে গিয়ে করা ভুলের ক্ষতির আফসোস করা ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিশ্রমের চেয়ে না রাগ করে সেই বিষয়টিতে ভুগতে থাকাও তো অনেক ভালো।

 * * *
অযুর পানির সাথে সাথে যখন অশ্রুগুলো ধুয়ে যায়, তখন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়…

 * * *
পৃথিবীতে সুন্দর মানুষ আছে। অবশ্যই আছে। এই বিশ্বাস থাকলে তার দেখাও আপনি পাবেন। হয়ত নিজের ইচ্ছেমতন সময়ে না, ইচ্ছেমতন জায়াগায় না। অন্য কোথাও, অন্যসময়। আল্লাহর ইচ্ছেমতন…

 * * *
দুশ্চিন্তা আপনার আগামীকালের সমস্যা দূর করতে পারবে না, বরং আজকের শান্তিটুকু দূর করে দিবে।

 * * *
আমরা ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে, ভুলগুলোই আমাদেরকে শিক্ষা দেয়…

 * * *
দু’আ করার সময় তাদেরকে স্মরণ রাখুন যারা আপনাকে একজন উন্নত মুসলিম হবার পথে সাহায্য করেছেন, করছেন।

 * * *
জীবনের পরতে পরতে খুশি-আনন্দ-কষ্টের মাঝে আল্লাহ আপনাকে মেসেজ দিয়ে চলেছেন… তার আরো কাছে যেতে, তার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বলছেন। খেয়াল করে পড়ে দেখুন…

 * * *
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গার আগে একটু ভাবুন, আপনার ব্যাপারে আল্লাহ কতটা ধৈর্যশীল…

 * * *
জ্ঞানী মানুষেরা সবসময় চুপ থাকেন না, কিন্তু তারা জানেন কখন চুপ থাকতে হয়।

 * * *
একদিন আপনি কিছু মানুষের কাছে কেবলই স্মৃতি হয়ে যাবেন। প্রাণপন চেষ্টা করুন যেন তা ভালো স্মৃতি হয়…

 * * *
আপনি যখন ভালোবাসার জন্য আহাজারি করছেন। ডানে-বামে তাকিয়ে দেখেন কেউ খাবারের জন্য কাঁদছে, মরেও যাচ্ছ। আবার অসুস্থতায় ও চিকিৎসাহীনতায় মারা যাচ্ছে।

 * * *
হাল ছাড়বেন না! ভালো কিছু হতে সময় লাগেই…

জীবনে যা হয় তা আসলে কল্যাণময়

এক রাজার একজন কর্মচারি ছিলো যে সবসময় যেকোন অবস্থাতেই রাজাকে বলতো, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না কেননা আল্লাহ যা করেন সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।”

একদিন তারা শিকারে বের হয় এবং এক হিংস্র প্রাণি তাদের আক্রমণ করে। রাজার কর্মচারীটি সেই প্রাণীকে মেরে ফেলতে সমর্থ হলেও রাজাকে তার একটি আঙ্গুল হারানো থেকে রক্ষা করতে পারেনি। কৃতজ্ঞ না হয়ে বরং ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা তাকে বলে ওঠে, “আল্লাহ যদি ভালো হতেন তাহলে আমাকে এই আক্রমণে পড়ে আঙ্গুল হারাতে হতো না।”

সেই কর্মচারি উত্তর দিলো, “এতকিছুর পরেও আমি বলবো, আল্লাহ অত্যন্ত ভালো এবং তিনি যা করেন সবই নিখুঁত এবং কল্যাণময়।” এ কথায় অপমানিত হয়ে রাজা তার কর্মচারিকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়।

এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হন এবং একদল বন্য মানুষদের হাতে বন্দী হয় যারা মানুষকে বলী দিত। অন্যদিকে সেই বন্য মানুষরা দেখতে পেলো রাজার একটি আঙ্গুল নেই। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিলো কেননা তারা বিশ্বাস করতো শারীরিক খুঁতসম্পন্ন কোন মানুষকে দেবতার উদ্দেশ্যে বলী দিলে তা গ্রহণ হয় না।

মুক্ত হয়ে প্রাসাদের ফেরার পথে রাজা সেই কর্মচারীটির মুক্তি ঘোষণা করে ডেকে এনে বলে, “বন্ধু, আল্লাহ আমার প্রতি সত্যি সদয় ছিলেন। আমি মৃত্যুর মুখোমুখি চলে গিয়েছিলাম কিন্তু আঙ্গুল হারানোর কারণে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে,  আল্লাহ যদি এতই ভালো হবেন, তাহলে তিনি কেন আমার দ্বারা তোমাকে কারাভোগ করতে দিলেন?”

কর্মচারী উত্তর দিলো, “রাজামশাই, আমি যদি আপনার সাথে যেতাম তাহলে তারা আমাকে বলী দিতো কেননা আমার কোন আঙ্গুলে ক্ষত নেই।  আল্লাহ যা করেন সবই নিপুণ এবং সঠিক, তিনি কখনো কোন ভুল করেন না।”

আমরা প্রায়ই জীবনের ব্যাপারে এবং জীবনে যেসব কষ্টকর বিষয়ের মুখোমুখি হই সেসব নিয়ে অভিযোগ করি। আমরা ভুলে যাই কোন কিছুই আপনাআপনি হয় না, বরং সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।  আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কেন এই কথাগুলো আপনাকে পড়ার সুযোগ করে দিলেন আজকে, তাই অনুগ্রহ করে এই মেসেজটি মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের প্রতি দয়া করুন।

সবকিছুই নির্দিষ্ট কোন কারণে ঘটে, সবকিছুর একটি উদ্দেশ্য আছে এবং তা আমাদের কল্যাণের জন্যই। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান, আল্লাহু আকবার!

(লেখাটি শাইখ যাহির মাহমুদের পেইজ থেকে সংগৃহীত ও অনূদিত)
* * * *

[২৯ আগস্ট, ২০১৩]

কৃতজ্ঞতা

আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামাত ​বাতাসের মাঝে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের মূল্য ও বিশুদ্ধ বাতাসের মর্ম বুঝিনা, কিন্তু কিছুটা হয়ত বুঝতে পারে তারা যখন কেউ থাকে অ্যাজমা রোগী, নাক দু’টোর ফুটোকে তখন সুঁইয়ের ডগার মতন ক্ষুদ্র ছিদ্র মনে হয়, বুক আকুলি-বিকুলি করতে থাকে একটু বাতাসের জন্য…

আমাদের জীবনের ভালোবাসার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা বড্ড উদাসীন থাকি। অনেক মানুষদের কাছে পাওয়া আদর, যত্ন-আত্মি ভালোবাসাকে আমরা ‘স্বাভাবিক’ প্রাপ্তি হিসেবে হিসেব করে বেখেয়াল থাকি। অথচ মানুষের প্রতিটি সুন্দর আচরণই কষ্টের একটা ফলাফল। ভালো মানুষেরা সেগুলো নিয়মিত প্রচেষ্টার পরে তবেই অর্জন করেন। এমনকি মা-বাবার ভালোবাসাও সবক্ষেত্রে একই না। এই জগতেও অনেক মা-বাবা আছেন চরম বেখেয়াল, আবার অনেকে আছেন তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য… তাই কোনকিছুই যে আপনাআপনি হয়না বা আমরা এমনিতেই পাইনা সে কথা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।

আমাদের চারপাশে অনেক নিদর্শন আছে যা দেখে আমাদের বুঝে নেয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামাত। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কেননা যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও হয় না। একইভাবে, যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, তার প্রকৃতপক্ষে বান্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন, অন্য বান্দাদের প্রতি সহমর্মী হবার তাওফিক দিন।

[১০ জুলাই, ২০১৪]

রুমী কবিতা (দ্বিতীয় কিস্তি)

* * *
তুমি জন্মেছিলে
অমিত সম্ভাবনা নিয়ে,
বিশ্বস্ততা আর কল্যাণ নিয়ে,
আদর্শ আর স্বপ্ন নিয়ে
বিশালতা নিয়ে,
উন্মুক্ত ডানা নিয়ে।

তুমি হামাগুড়ি দিতে আসনি,
এভাবে আর নয়, থেমে যাও।

তোমার আছে ডানা, মেলে দাও
উড়তে শিখে দূরে হারিয়ে যাও।

~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
 তোমার কিছু চিন্তাকে ঘুম পাড়াও! ওদের ছায়া হতে দিও না, তোমার অন্তরের চাঁদটাকে ঢেকে ফেলে যে ছায়া। ছায়ারূপী ভাবনায় নিমগ্ন থেকো না।~রুমী

* * *
আমি সমস্ত কাঁটা তুলে ফেলতাম! কিন্তু তুমি আবার ফিরে এলে, আমার কন্টকময়তাকেই করে তুললে পাঁপড়িশোভিত সুগন্ধময়। ~ রুমী

* * *
​আল্লাহ তোমাকে একটা অনুভূতি থেকে আরেকটা অনুভূতির দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং এই বিপরীতধর্মী দুই অনুভূতি দিয়ে তোমাকে কিছু শেখাতে চান, যেন তুমি তোমার দু’টো ডানা দিয়ে উড়তে পারো, একটি দিয়ে নয়! ~ জালালুদ্দিন রুমী​

* * *
এমন কি যখন পৃথিবী দগ্ধ হয়, সুপ্ত বীণার তান তখনও বেজে যায়। ~ রুমী

* * *
গ্রন্থি পড়ুক সহস্র, রজ্জু কিন্তু একটাই! ~রুমী
 (এইটার ফাজলামি অনুবাদ হলোঃ যতই গিট্টু বাঁধো, দড়ি কিন্তু একখানাই আছে!)

* * *
ভালোবাসার বাগানে অনন্ত শ্যামলিমা বিরাজ করে। সেখানে দুঃখ কিংবা সুখ ছাড়াও অজস্র ফল ফলে।~ রুমী

* * *
একটা প্রদীপ হও, অথবা প্রাণরক্ষাকারী কোন তরী, কিংবা উর্ধ্বগামী কোন সিঁড়ি। কারো হৃদয়ের যন্ত্রণার উপশম করো।~রুমী

নাটক-সিনেমা-উপন্যাসে সবকিছু এক্সট্রিম হয় কিন্তু বাস্তব জীবন তেমন নয়

নাটক-সিনেমায় সবকিছু বেশি বেশি হয়। যখন প্রেম হয়, তখন বেশি বেশি। নায়ক নায়িকা কলেজে ব্যাগ ছাড়া বই বহনকালে ঠুয়া খেয়েই প্রেমে পড়ে যায়। আবার তাদের ট্র্যাজেডিটাও বেশি বেশি। রাস্তার রিকসাওয়ালা কোটিপতি চৌধুরী সাহেবের মেয়ের সাথে প্রেম করে। রোমিও আর জুলিয়েটের পরিবারের শত দ্বন্দ্বের পরেও তাদের পেরেম চলতেই থাকে। একটা বেকুব মরে দেখে অপরজনেও আত্মহত্যা করে। এইরকম ‘এক্সট্রিম’ (Extreme) বিষয় মানব জীবনের জন্য স্বাভাবিক না। আসলে, বাস্তবতা আর নাটক-উপন্যাসের কোন তুলনাই চলে না।

বাস্তব জীবন অনেক অন্যরকম। এখানকার ট্র্যাজেডিতে এইরকম প্রেম কাহিনী থাকে না। এই ট্র্যাজেডিতে আত্মসম্মানবোধ রাখতে, সামাজিক মর্যাদা অটুট রাখতে যে কষ্ট হয়, তার মাঝে সব পেরেম-টেরেম হারিয়ে যায়, পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে রাস্তার পাশের খুপরিতে বড় হওয়া পিচ্চিটার কাছে ডাবগাছের শাখাটা নিয়ে আনন্দের খেলাধূলার অংশ থাকে। চৌধুরী সাহেবদের কাছে চাঁদাবাজের আতঙ্ক, মেয়ের বেয়াড়া হয়ে যাওয়া, শাশুড়ির ক্যান্সার ধরা পড়ায় কেমোথেরাপির শিডিউল সামলানোর মতন কষ্ট থাকে। সব চৌধুরী সাহেবরা এখন নাইট ড্রেস পরে ডুপ্লেক্সে ঘুমাতে পারে না।

বাস্তব জীবনটা সুন্দর, তবে ভাষায় অপ্রকাশ্য। প্রতিটি মানুষের জীবনই একেকটা গল্পের চেয়েও বেশি। প্রত্যেকের জীবনেই সুন্দর কিছু গল্প আছে, কিছু প্রাপ্তি আছে, কিছু তীব্র বেদনা আছে। সব মিলিয়েই, সবাই মানুষ। এই সকল অপ্রাপ্তি-বঞ্চনা-গঞ্জনার বিপরীতে উত্তম প্রতিদান মিলিয়ে দিবেন আল্লাহ। বেঁচে থাকার সুখ আর দুঃখ সবই আল্লাহর জন্যই। সবাই আমরা তারই, তার কাছেই তো ফিরে যাবো। দুনিয়াতে এসে এই ফিরে যাওয়া অবধি কাহিনীগুলো হোক অনন্যসুন্দর এক ভালোবাসার মহাকাব্য…

[৩১ মার্চ, ২০১৪]

হাফিজের কবিতা [১] : আশা ও আনন্দ

​কেউ যদি আমার সাথে বসে,
আর আমরা আমাদের সেই প্রিয়তমকে নিয়ে আলাপ করি

যদি আমি তার অন্তরে স্বস্তি বয়ে আনতে না পারি.
যদি আমি তাকে আগের চেয়ে ভালো অনুভব করাতে না পারি
তাকে নিয়ে এবং এই পৃথিবীকে নিয়ে,

তাহলে হাফিজ,
দ্রুত ছুটে যাও মসজিদে আর সিজদাবনত হও —

কেননা তুমি এইমাত্র
আমার জানা একমাত্র পাপটি করেছ।

— পারস্যের কবি হাফিজ

[আই হার্ড গড লাফিং: পোয়েমস অফ হোপ এন্ড জয়]

শামস তাবরিজি [১]

অতীত আমাদের মনে ঘন কুয়াশার মত। আর ভবিষ্যত? সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন। আমরা ভবিষ্যত কেমন হবে তা ধারণাই করতে পারি না, যেমন পারিনা অতীতকে বদলে দিতে।~ শামস তাবরিজি

 * * *
যখন সবাই কিছু একটা হতে চাইছে, তখন তুমি বরং কিছুই হতে যেয়ো না। শূণ্যতার সীমানায় নিজেকে মেলে দাও। মানুষের উচিত একটা পাত্রের মতন হওয়া। একটি পাত্রের মধ্যকার শূণ্যতা যেমন তাকে ধরে রাখে, তেমনি একজন মানুষকে ধরে থাকে তার নিজের কিছুই না হয়ে থাকার সচেতনতা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
“লোকের ছলচাতুরি আর প্রতারণা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। কিছু লোক যদি তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং তোমাকে কষ্ট দিতে চায়, তবে আল্লাহও তো তাদের জন্য  কৌশল করছেন। যারা ফাঁদ পাতে তারা তাদের নিজেদের পাতা ফাঁদেই পড়ে যায়। কোন খারাপ কাজই শাস্তিবিহীন থাকে না, কোন ভালো কাজই পুরষ্কার ছাড়া যায় না। ন্যায়বিচারের উপরে বিশ্বাস রাখো এবং বাকিটা ছেড়ে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
শেখার জন্য তুমি পড়াশোনা করো, কিন্তু বুঝতে হলো তোমার প্রয়োজন ভালোবাসা। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
​এই​ পথ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা জানার চেষ্টা করা অর্থহীন। তুমি শুধু প্রথম ধাপটি নিয়ে চিন্তা করো, পরেরগুলো এমনিতেই চলে আসবে।” ~ শামস তাবরিজি ​

 * * *
পৃথিবীটা সুউচ্চ পর্বতের মতন, এখানে প্রতিধ্বনি নির্ভর করে তোমার উপরেই। তুমি যদি ভালো কিছুর জন্য চিৎকার করো, পৃথিবীও তোমাকে তেমন প্রতিদান দিবে। তুমি যদি খারাপ কথা বলে চিৎকার দাও, সে তোমাকে তেমনই ফেরত দিবে। কেউ যদি তোমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে, তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলো। পৃথিবীকে বদলে দিতে তোমার হৃদয়কে বদলে দাও। ~ শামস তাবরিজি

 * * *
জীবনের পরিবর্তনগুলোর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং আত্মসমর্পণ করুন। জীবনকে আপনার বিরুদ্ধে না রেখে বরং আপনার সঙ্গী করে নিন। “আমার জীবনটা পুরো উলটে যাবে” মনে করে দুশ্চিন্তা করতে যাবেন না। আপনি কেমন করে জানেন সেই ওলটানো জীবন এই সোজা অবস্থাটির চেয়ে ভালো হবে না? ~ শামস তাবরিজি

[উদ্ধৃতিগুলোর ইন্টারনেট থেকে ইংরেজিতে সংগৃহীত এবং অনুবাদকৃত]

আমাদের হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন

আমরা কত্তো কিছুই তো করি… নিজের জন্য, অন্যের জন্য। অন্য কারো সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেও চেষ্টা করি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই, তাদের চেষ্টাও থাকে যত বেশি পারা যায় লোকের সামনে হোক অথবা অগোচরেই হোক, বেশি বেশি অন্যের উপকার করতে থাকা। কখনো জনমভোর অন্যের জন্য করে একসময় কষ্ট পেয়ে যাওয়া, অথবা কারো ভালো করতে গিয়ে যেন হয়ত নিজের ক্ষতি হলেও মেনে নিই, ভালোবাসা থেকে, দয়া থেকে। অন্যের জন্য নিজের কেমন ধরণের ক্ষতি মেনে নিচ্ছি, সেটা নিয়েও একপ্রস্ত চিন্তা করার আছে…

মনে হয় একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে, যেটা হয়ত আমাদের চিন্তা থেকে এড়িয়ে যায়–  আল্লাহ যেদিন আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, সেদিন আমরা কারো ভাই হিসেবে না, কারো বোন হিসেবে না, কারো ছেলে কিংবা মেয়ে হয়ে নয়, কারো সন্তান কিংবা বাবা/মা হয়েও নয়, কারো স্বামী বা স্ত্রী হয়েও নয় — আমরা দাঁড়াবো ‘আমি’ হয়ে। যেই আমি আমার অন্তরটাকে ধারণ করতাম, যেই আমি আমার হৃদয় নিয়ে কাজ করেছি পৃথিবীতে… বাইরে যা-ই করেছি, হৃদয় জানতো আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো, কী করতে পারা যেত অথচ হয়ত করা হয়নি… এমন আরো অনেক কিছু…


হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন। হৃদয়ের ব্যাপারে সচেতন হওয়াও প্রয়োজন। হৃদয়ে কীসের স্পর্শ লাগছে, হৃদয় কীসের জন্য আকুল হচ্ছে, হৃদয় আমার কাকে বেশি ভালোবাসে, কী বেশি ভালোবাসে… হৃদয় আমার কাকে খুশি করতে চায়, কেন চায়। অশান্ত আর অন্যায়ের মাঝে আমার হৃদয় কাকে আশ্রয় হিসেবে নেয়… এমন হয়তো আরো অজস্র বিষয় আছে, তা নিজ নিজ জীবনে আমাদের উপলব্ধি ও আবিষ্কারের বিষয়, সচেতনতার বিষয়। কারণ, সেই দিনটি অবধারিত যেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, আমাদেরকে বলতে হবে কী করেছিলাম, কেন করেছিলাম।  এই দুনিয়াতেও আল্লাহ আমাদের এই হৃদয়ের দিকেই তাকান, বাহ্যিক বিষয়গুলো তো বাহ্যিকই।

যার সামনে যেমন উপকরণ তার ‘আউটপুট’ তেমনি বদলে যায়। এই এখন, হাতের সামনে কম্পিউটার-ইন্টারনেট কানেকশন থাকায় এই কথাগুলো হয়ত কিছু মানুষের কাছে পঠিত হবে কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অনেক কঠিন পরীক্ষার মাঝে অনেক অনেক গভীর থেকে উপলব্ধি করেন, নিজেদের বদলে দেন — কিন্তু তাদের সুযোগ নেই/ইচ্ছা নেই অন্যদের কাছে ছড়ানোর। তাই বলে অনুভব আটকে থাকে না। আল্লাহ ঐ অন্তরটাকেই দেখেন, বাহ্যিক বিষয়গুলো তো কেবলই ‘শো-অফ’, এ থেকে কেমন অর্জন হতে পারে, তা হৃদয় বুঝতে পারে একটু হলেও…

হৃদয় নিয়ে শঙ্কা-ভীতি-সন্দেহ-অসহায়ত্ব হয়ই, তবে নিজের জন্য রোগের উপশম হিসেবে শিখেছি সেই দু’আ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম হৃদয়ের মানুষটি শিখিয়েছিলেন যেন অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহর কাছে আমাদের অন্তরকে দ্বীনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার সাহায্য চাওয়া যায় প্রতিনিয়ত, “ইয়া মুক্কাল্লিবাল ক্কুলুব, সাব্বিত ক্কুলুবানা ‘আলা দ্বীনিক”…

[১০ জানুয়ারি, ২০১৪]

রুমী কবিতা (প্রথম কিস্তি)

* * *
এই পথটা তোমার, তুমি পথ চলো একা
তোমার চলার পথে হয়ত কেউ সঙ্গী হবে
কিন্তু তোমার পথটা অন্য কেউ হেঁটে দিবে না।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তুমি হয়ত শাখা-প্রশাখায় যা কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছ, তা শুধু শেকড়েই পাওয়া যায়। ~ রুমী

* * *
শুধুমাত্র এই হৃদয় দিয়েই তুমি আকাশ ছুঁতে পারো।”  — রুমী

* * *
আঁকড়ে ধরে রাখা আর চলে যেতে দেয়ার এক ভারসাম্য হলো জীবন। ~ রুমী

* * *
গলে যাওয়া বরফের মতন হও। নিজেকে দিয়ে নিজেকে ধুয়ে দাও।” — রুমী

* * *
দুঃখ করো না। তুমি যা হারাও তা অন্য কোন রূপে তোমার কাছে ফিরে আসে।” — রুমী

* * *
তোমার চালাকি বিক্রি করে মুগ্ধতা কিনে নিয়ে এসো।” — রুমী

* * *
কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন
বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জল করবেন
লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন
নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন।
 ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তোমার নিজের হৃদয়ের মাধুর্য খুঁজে বের করো, তখন সম্ভবত সবার হৃদয়ের মাধুর্য তুমি খুঁজে পাবে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
খাঁচার বন্দীশালা থেকে তুমি পালিয়েছ,
তোমার ডানা দু’টো তুমি মেলে ধরেছ,
এবার উড়াল দাও।
~ জালালুদ্দিন রুমী

অনুপ্রেরণা – ২

* * *
ভালোকাজের মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে। যখন সময় হয় কেবল তখনই তার বর্ষণ হয়। আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করেন শুকনো মৃত মাটির উপরে; একদম সঠিক সময়েই। যখন পথ অবারিত হবার সময় হবে, তখনই সেই পথ প্রশস্ত হবে। তিনি তার সময় অনুযায়ীই সেই কাজটি করেন, আমাদের সময়ের হিসেবে নয়। আর এটা আমাদের ক্বাদরের ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকার একটি অংশ এবং যা হয়েছে তা আপনার জন্য নির্ধারিত ছিলো বলেই হয়েছে। ~ শাইখ হামজা ইউসুফ, [সংক্ষেপিত, ২০১১ রিহলা]

* * *
“যাদের হৃদয় ভেঙ্গে যায় তাদের সাথে আল্লাহ থাকেন। আপনার হৃদয় যখন ভেঙ্গে যায়, তা একটা ভালো ঘটনা, কেননা ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়টি তার মাঝে আল্লাহর আলো প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে দেয়। দুনিয়া তো সাজানোই হয়েছে এমন করে যা আপনার অন্তরকে ভাঙ্গবে, চুরমার করে দিবে।” ~ শাইখ হামজা ইউসুফ

* * *
পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ আছে, একদল কাজ করে এবং অপরদল যারা কাজ করে তাদের সমালোচনা করে।” ~ শাইখ হামজা ইউসুফ

* * *
অতীত আমাদের মনে ঘন কুয়াশার মত। আর ভবিষ্যত? সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন। আমরা ভবিষ্যত কেমন হবে তা ধারণাই করতে পারি না, যেমন পারিনা অতীতকে বদলে দিতে।~ শামস তাবরিজি

* * *
পৃথিবীটা সুউচ্চ পর্বতের মতন, এখানে প্রতিধ্বনি নির্ভর করে তোমার উপরেই। তুমি যদি ভালো কিছুর জন্য চিৎকার করো, পৃথিবীও তোমাকে তেমন প্রতিদান দিবে। তুমি যদি খারাপ কথা বলে চিৎকার দাও, সে তোমাকে তেমনই ফেরত দিবে। কেউ যদি তোমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে, তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলো।  পৃথিবীকে বদলে দিতে তোমার হৃদয়কে বদলে দাও। ~ শামস তাবরিজি

* * *
​​​​এই​ পথ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা জানার চেষ্টা করা অর্থহীন। তুমি শুধু প্রথম ধাপটি নিয়ে চিন্তা করো, পরেরগুলো এমনিতেই চলে আসবে। ~ শামস তাবরিজি ​

* * *
ধুলো-মাটিকে তাচ্ছিল্য করো না। তুমি বেঁচে থাকতে সে তোমার পায়ের নিচে থাকে। তুমি মরে গেলে সে তোমার ওপরে থাকবে। ~ জনৈক পীর সাহেব

* * *
​”আপনার গোটা জীবনটা হয়ত আপনি ভালোবাসা খুঁজে পার করেছেন। কিন্তু একটা দিন আসবে যখন আপনি উপলব্ধি করবেন, ভালোবাসা পাওয়ার সময় নয় বরং যখন আপনি মানুষকে ভালোবাসা দিয়েছিলেন, তখনই আনন্দ পেয়েছিলেন।” ~ অমল আহমেদ আলবাজ

* * *
“আল্লাহকে যারা ভালোবাসেনা, তাদেরকে ভালোবাসবেন না। তারা যদি আল্লাহকে ছেড়ে থাকতে পারে, তারা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।” ~ইমাম শাফিঈ

* * *
“কারো উপরে বেশি নির্ভরশীল হয়ে যেয়ো না। মনে রেখো, অন্ধকারে তোমার নিজের ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।”~ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা

* * *
যাদের হৃদয় অন্ধ তাদের চাইতে যাদের চোখ অন্ধ তারা বেশি দেখতে পায়। ~ আরবি প্রবাদ

* * *
অতীত আপনার যেমনটাই হোক না কেন, ভবিষ্যত কিন্তু আপনার এখনো দাগহীন।~ বুনা মুহাম্মাদ

* * *
সুখ জীবনের গন্তব্য নয়, এটা আমাদের জীবনের চলার পথের একটা রাস্তা। ~ ইয়াসমিন মোজাহেদ

* * *
আপনি যত্ক্ষণ বেঁচে আছেন, ততক্ষণ নতুন করে আবার সব শুরু করতে পারেন। ~ বুনা মুহাম্মাদ

* * *
সবচেয়ে ধনী তিনি নন যার সম্পদ সবচাইতে বেশি, বরং তিনিই যার প্রয়োজন সবচেয়ে কম।” ~ জনৈক

* * *
“আপনার জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যদি দুই পর্বতের নিচেও থাকে, তবু তা আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। আপনার জন্য যা নির্ধারণ করা হয়নি, তা যদি দুই ঠোঁটের মাঝেও থাকে, তবু তা আপনার কাছে পৌঁছবে না।” ~আরবি প্রবাদ