রুমী কবিতা (নবম কিস্তি)

* * * * *
তোমার হৃদয় থেকে আমার হৃদয় পর্যন্ত একটা পথ আছে। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
দরজা খুলতে এত সংগ্রাম কেন করছ যখন চারপাশের দেয়ালগুলো শুধুই বিভ্রম। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
সুনসান-নীরবতাপূর্ণ আমার হৃদয়ের মাঝে নৌকা বাওয়ার মতন আনন্দ আমি আর কিছুতেই পাইনা। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
তোমার নিজের ছোট্ট পুকুরটির মাঝে সাঁতরে বেড়াও। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
চাঁদ তো তার আলোর বন্যায় আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভাসিয়ে দেয়;
তোমার ঘরটিকে কতটুকু আলোয় পূর্ণ করে তা নির্ভর করে তোমার জানালার উপর।
~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
বেদনার মাঝে রয়েছে রত্নভান্ডার; এতে লুকিয়ে থাকে দয়া। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
যা কিছু আসে, তা চলে যাবে। যা কিছু পাওয়া গেছে, তা হারিয়ে যাবে। কিন্তু তুমি তো এই আসা-যাওয়া এবং যেকোন বর্ণনার উর্ধে। তুমি এমনই। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
আমি ছিলাম মৃত, তারপর জীবন পেলাম
কাঁদলাম, তারপর হাসলাম।
ভালোবাসার শক্তি আমার মাঝে এলো,
আমি সিংহের মতন হিংস্র
আর তারাদের মতন স্নিগ্ধ হলাম ।
~জালালুদ্দিন রুমী

* * *
পাখিরা তাদের স্বাধীনতায় আকাশের শূণ্যে বৃত্ত এঁকে ঘুরে ঘুরে উড়ে।
তারা কীভাবে শেখে সেটা?
তারা শূণ্যে থেকে পড়ে যায়, যেতেই থাকে,
আর তাদের রয়েছে ডানা।
~ জালালুদ্দিন রুমী

আশা ও ভালোবাসার কথা

মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত। যখন আপনি এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পাবেন যারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, যারা এই চলমান অন্যায়-অস্থিরতা-হত্যা-খুনের পৃথিবীর মাঝেও অদম্য আশাবাদের সুতোয় মালা গাঁথে–তখন আপনিও আশাবাদী হবেন আপনার জীবন নিয়ে। তখন নিজ জীবনকেও সম্ভাবনার আধার মনে হবে, মনে হবে একদিন চারপাশকে নিয়ে আপনি সুখ আনতে পারবেন। টের পাবেন আপনি বিশ্বাস করছেন যে চলমান কষ্টের সময়টা কেটে গেলেই আপনি আবার সুন্দর সময় খুঁজে পাবেন। এই আশাবাদের তরী বেয়ে চলেই এসেছে মানবজাতি এতটা পথ। নতুবা প্রতিটি মানুষের জীবনেই যে ভীষণ ধাক্কা আসে জীবনের একেকটি ক্ষেত্রে, মানুষকে পরাজিত হয়ে পদদলিত হতে থাকতে হত। কিন্তু সম্ভাবনাকে আঁকড়েই মানুষ এগিয়ে যায়।

আপনি যখন অসার ও নিরর্থক কথাবার্তা বলা, কুচিন্তা করা মানুষদের সাথে চলতে থাকবেন। দেখবেন আপনি একজন মানুষকে দেখলে তাকে সন্দেহভাজন মনে করবেন। অতিরিক্ত পাপ নিয়ে আলোচনা করতে করতে হয়ত আপনার কাউকে দেখলেই তার পাপ নিয়ে ধারণা করতে শুরু করবেন। অথচ অধিকাংশ মানুষের মাঝেই সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে। আপনি কেন কাউকে দেখলে অযথা সন্দেহ করতে থাকবেন? অকারণে কাউকে নিয়ে সন্দেহ করা ও ধারণা পোষণ করা তো আমাদের মনগুলোকে বিষিয়ে দেয়, তিক্ত করে দেয়–আমাদেরকে বন্দী করে এক অজানা কারাগারে।

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে এই বাংলার স্বাধীনতাকে উপনিবেশিকতায় বানিয়ে দিলো, মানুষ যখন ব্রিটিশদের খেলার বস্তু, দাসে পরিণত হলো–তখন কিছু মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফকির ও আলেমগণ করেছিলেন বিদ্রোহ। ফরায়েজি আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলন, ফকির বিদ্রোহ এবং সিপাহী বিদ্রোহে মুক্তিপাগল অসম্ভবকে কল্পনাকারী প্রতিপক্ষ সমগ্র পৃথিবীতে আধিপত্যবাদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। তাদের লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ধীরে ধীরে ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি পায় এই বাংলা। আধিপত্যবাদ কি থেমে থেকেছে? হয়ত মুক্তিপাগল প্রাণ, আশাবাদী প্রাণ কমে গেছে।

অথচ সবকিছু বদলে দিতে লাগে কেবল ইচ্ছা। আশাবাদী প্রাণগুলোই বদলে দেয় কদর্যতা ও কঠিন সময়। তারা গড়ে নেয় অসম্ভবকে সম্ভব করে। যারা মনের বাঁধা, নেগেটিভ চিন্তার বলয় পেরিয়ে স্বপ্ন দেখে সুন্দর ভবিষ্যতের, কেবল তারাই গড়ে তোলে সুন্দর পৃথিবী। অলসতা যাদের থাকে, যাদের থাকে ‘হবে না’, পারা যাবে না’ টাইপের চিন্তাভাবনা– তারা কেবল পদদলিত হয়। ধ্বংস করে নিজ জীবন এবং চারপাশকে। তাই, “আমি পারবোই” একথা বলে যারা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারাই নিয়ে আসে অন্ধকার রাতের পরে একটি সুন্দর দিনের সূর্যোদয়।

তবে যেকোন পরিবর্তনের শুরুতেই প্রয়োজন হয় ভালোবাসা। নিজ জীবনের, পরিবারের, সমাজের সকল পরিবর্তনের শুরু হয় ভালোবাসার স্ফূলিঙ্গ থেকে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারা একটি অমূল্য গুণ। পৃথিবীতে ভালোবাসার বড্ড আকাল। কুৎসা, নোংরামি, পরনিন্দা, কুধারণা, কূটনামিতে ভরে গেছে নাগরিক মনগুলো। আমরা চাইলেই বদলে দিতে পারি আমাদের উজাড় করা ভালবাসা দিয়ে। একদিনে কিছু বদলে যায় না, কিন্তু এরকম প্রতিদিনের একেকটি প্রত্যয় আমাদের বদলে দেবে অনেকখানি, অ-নে-ক বেশি! হয়ত সেদিন আপনার নিজেকেই আপনি চিনতে পারবেন না!

সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে সবখানে! তাকে কুড়িয়ে নিয়ে রাখুন আপন মনের মাঝারে…

[১৩ আগস্ট, ২০১৫]

অদ্ভুত সুন্দর অনুপ্রেরণার গল্প : ডুবন্ত জাহাজ ও বেঁচে যাওয়া নাবিক

​একবার একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। ঝড়ের তোড়ে সবাই হারিয়ে গেলেও মাত্র একজন লোক বেঁচে গেলো। জ্ঞান ফিরে পাবার পর লোকটি নিজেকে একটি নির্জন দ্বীপের আবিস্কার করলো। প্রতিটা মূহুর্ত সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো যেন কেউ এসে তাকে উদ্ধার করে। তার প্রার্থনা এক সময় হতাশায় পরিণত হলো; কেউ এলো না তাকে উদ্ধার করতে। সে উদ্ধার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে শেষতক নিজেকে দ্বীপটির সাথে মানিয়ে নিলো।

এভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলো। লোকটি এর মধ্যে নির্জন দ্বীপটিতে যুদ্ধ করে টিকে থাকা শিখে গেছে। খিদে লাগলে সে মাছ ধরে, ছোট প্রানী শিকার করে কিংবা ফলমূল দিয়ে আহার করে। শক্ত লতাপাতা, খড়কুটো এবং বড় গাছের গুড়ি দিয়ে সে একটি কুড়েঘর ও বানিয়ে ফেললো।

একদিন লোকটি খাবারের সন্ধানে বের হলো। সন্ধ্যার দিকে কিছু পাখি ধরে আনার পর সেগুলো আগুনে ঝলসাতে বসলো কিন্তু অসাবধানতাবশতঃ কুঁড়েঘরে আগুন লেগে গেলো। কুঁড়েঘরটি সমুদ্র তীর থেকে কিছুটা দূরে ছিলো, তাই সে পানি ব্যবহার করতে পারলো না এবং অন্য কোনোভাবেই আগুন নেভাতে পারলো না। মোটা কাঠের গুড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। লোকটির এতদিনকার সব পরিশ্রম চোখের সামনে ভস্মীভূত হতে দেখে লোক টি প্রচন্ড রাগ এবং ক্ষোভে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে দুই হাত উচু করে চিৎকার করতে লাগলো-

“হে খোদা, আমার সাথে এমন কেন করলে? আমি দিনের পর দিন তোমার কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমাকে কেউ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, কিন্তু কেউ আসেনি। এখন তুমি আমার শেষ সম্বলটাও আগুনে জ্বালিয়ে দিলে। কেন এমন করলে আমার সাথে?”

এরপর লোকটি বালুতে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে শুরু করলো। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর লোকটি জাহাজের ভেঁপু শুনে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো একটি জাহাজ এদিকেই আসছে। জাহাজ থেকে লোক নেমে এসে লোকটিকে উদ্ধার করার পর লোকটি ক্যাপ্টেনের কাছে তাকে কিভাবে খুঁজে পেলো জানতে চাইলো।
ক্যাপ্টেন উত্তর দিলেন, আমরা দ্বীপের অপর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত এদিকে আগুনের শিখা দেখে ভাবলাম কেউ উদ্ধার পাবার জন্য আগুন জ্বালিয়েছে। তাই জাহাজ ঘুরিয়ে এদিকে আসতেই আপনাকে পেয়ে গেলাম।

…………….

আমাদের জীবনেও এমন একের পর এক সমস্যা আর বিপদ এসে আমাদেরকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। কিন্তু আল্লাহ এই খারাপ সময় এবং সমস্যাগুলোতে যে পরবর্তীতে আমাদের কল্যাণ সাধন করার জন্যই দেন এটা আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা।

তাই বিপদে বা সমস্যায় পড়লে আল্লাহকে ভুলে না গিয়ে তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস রাখুন, যা কিছু হয়েছে তা কল্যাণকর হয়েছে। ইনশাআল্লাহ যা কিছু হবে, তা ভালো হবে। নিশ্চয়ই মু’মিনদের জীবনের বিপদ-আপদ ও কষ্ট-যন্ত্রণা সবই কল্যাণকর।

[গল্পটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত]

হাফিজের কবিতা [২]

​তোমার সমস্ত কষ্ট, দুশ্চিন্তা, দুঃখগুলো কোন একদিন এসে দুঃখপ্রকাশ করবে এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করবে যে তারা সবাই নিতান্ত মিথ্যা ছিলো। ~হাফিজ

* * *
একটি দিনের জন্য, কেবল একটি দিনের জন্য,
এমন বিষয়ে কথা বলো যা কাউকে বিরক্ত করবে না
এবং যা শান্তির স্পর্শ বয়ে আনবে
তোমার সুন্দর চোখগুলোয়।
~ হাফিজ, পারস্যের কিংবদন্তী কবি

* * *
আমরা যা বলি তা হয়ে যায় আমরা যে ঘরটিতে বাস করছি সেই নীড়।~ হাফিজ

* * *
সচেতন হৃদয় তো আলো ঢেলে দেয়া আকাশটার মতন।~ হাফিজ

* * *
এই অজস্র শব্দমালার মূলে কী?
একটাই জিনিস: ভালোবাসা।
কিন্তু এই গভীর ও মিষ্টি ভালোবাসার উচিত তার নিজেকে সুঘ্রাণ, সুললিত শব্দ ও অনন্য রঙ দিয়ে প্রকাশ ঘটানো যা আগে কোনদিন ছিলো না।
~ হাফিজ

* * *
দৌড়ে পালাও বন্ধু
এমন সব কিছু থেকে
যারা  তোমার মূল্যবান সুপ্ত ডানাকে
হয়ত আরো শক্তিশালী করে না।
~ হাফিজ

* * *
তোমার বেঁচে থাকাকে আনন্দময় করে এমন যেকোন কিছুর কাছাকাছি থাকো। ~ হাফিজ

* * *
আমি শিখেছি প্রতিটি হৃদয় তো সেটাই পাবে
যা পাওয়ার জন্য সে সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করে।
~ হাফিজ

* * *
চলে এসো প্রিয়,
সেই নির্মম পৃথিবী থেকে
যা তোমার স্নিগ্ধ মুখে
ধূলিকণার বৃষ্টি ঝরিয়েছে।
~ হাফিজ

* * *
প্রতিটি প্রাণ
আমাদের কাছ থেকে উপহার পাওয়া উচিত
তার সাহসিকতার জন্য!
~ হাফিজ

শিক্ষার সাথে উত্তম আচরণের কোন সম্পর্ক আছে কি?

শিক্ষা আমাদের আচরণকে পরিশীলিত করে। এই কথা কতবারই তো শুনেছি। তোহ, আসলেই কি শিক্ষিতজনেরা পরিশীলিত ও সুন্দর আচরণের হয়ে থাকেন? কিংবা, যারা হন, তারা কেন হন? চিন্তা করে দেখলে বোঝা যায়, শিক্ষা মানেই পথ পাড়ি দেয়া। সে পথে আমাদের ইচ্ছেমতন না, একটা নিয়মতান্ত্রিক ছাঁচে পথ চলতে হয়। সেখানে একটা শৃংখলার মাঝে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হয়, সময় অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এসবের মাঝে প্রকৃত শিক্ষা হয় শৃংখলার। কোথায় কেমন করে চলতে হয়, সেটার একটা অনুশীলন হয়। একটা বিষয়কে গভীরভাবে বিভিন্নভাবে চিন্তা করার দলবদ্ধ আয়োজন সেখানে থাকে। দলগতভাবে সমস্যা নিয়ে সামাজিকভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে চিন্তাভাবনা করা হয় শিক্ষার্জনের সময়ে। সবার ব্যক্তিগত স্বপ্ন, দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাভাবনার একটা প্রস্ফূটন হয় শিক্ষার মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় কথা, নানান বয়সের, নানান পেশার, নানান পরিবারের, নানান মতবাদের মানুষদের সাথে নারী-পুরুষ ব্যতিরেকে মিথস্ক্রিয়া ও আচার-আচরণের একটি অনুশীলন হয় শিক্ষার্জনের সময়ে। এই সামাজিকতার শিক্ষা অনেক বড় শিক্ষা।

ব্যক্তির চিন্তাকে উদ্বোধিত করতে হলে, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণকে পরিশীলিত করতে হলে মূলত শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকতে হয়। কিন্তু যারা এসবের ধার না ধরে কেবল গ্রেড অর্জনের পড়াশোনা করে তারা তাদের মনের ক্ষুদ্রতাকে ছাপিয়ে চিন্তার ও অনুভূতির বিশালতাকে অর্জন করতে পারে না।

শিক্ষা অর্জন আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষা অর্জন করতে হয় গুরু/ওস্তাদ/শিক্ষকের কাছে। তারা কেবল গুটিকতক পাঠই নয়, শেখান ব্যবহার, আচরণ, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা। গোটা মানবজাতির শেকড় তো শিক্ষকদের হাতে, শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে। শিক্ষা ও শিক্ষালয়কে তাই গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাদের উন্নয়নের চেষ্টা করা আমাদের জীবনের যেকোন সময়ে, যেকোন বয়সেই একটি বড় দায়িত্ব।

[১৪ মে, ২০১৫]

১০টি চীনা প্রবাদ যা অনেক কিছুকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়ে দেবে

নদীর স্রোতধারার গভীরতা মাপতে যেয়ে কখনো দু’টি পা-ই ডুবিয়ো না।

যে ফুল উপহার দেয়, তার হাতে কিছুটা সুগন্ধ লেগে থাকে।

পাখি এই কারণে গান গায় না যে সে কোন প্রশ্নের উত্তর জানে। পাখি গান গায় কারণ তার একটি গান আছে।

ধীরগতিতে বড় হবার কারণে ভয় পেয়ো না, ভয় করো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকে।

কাউকে একটি মাছ দিলে তাকে তুমি একদিন খেতে দিলে, কাউকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে তুমি তাকে সারাজীবন খাওয়ার সুযোগ করে দিলে।

তুমি যা করো  তা যদি তুমি কাউকে জানতে দিতে না চাও, তাহলে সে কাজ কখনো করিয়ো না।

ভালো উপদেশ তিতা ঔষধের মতন।

চরিত্রে যদি সৌন্দর্য থাকে তাহলে ঘরে মিল থাকবে। ঘরে মিল থাকলে তা জাতির মাঝে শৃঙ্খলা বয়ে আনবে। জাতির মাঝে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে।

“চেষ্টা” শব্দটি বুঝায় সাহস, “পারি” শব্দটি বুঝায় ক্ষমতা।

নদীর পাশে দাঁড়িয়ে মাছের আশা করে বসে থেকো না, বাড়ি ফিরে যাও এবং জাল বুনে নিয়ে এসো।

….
উৎস: স্পিরিট সাইন্স ডট নেট

বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠায় দরকার শরীরের সচেতনতা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলেই অনেকে অন্ধকার পছন্দ করতে শুরু করে। কম-কম খায় কেননা খাওয়ায় অরুচি হয়। কিছুতেই ভালো লাগে না বলে পারলে অন্ধকার ঘরের কোণার দিকে পড়ে থাকে। এই অভ্যাস একসময় মানুষকেই দখল করে ফেলে। ডিপ্রেশনই তখন মানুষটাকে কন্ট্রোল করতে শুরু করে।
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য অনেকে অনেক কিছু বলে। সত্যিকার অর্থে, ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই দরকার নিজের ইচ্ছা হওয়া। আপনি যখন নিজেকে বিষণ্ণ রূপে দেখতে অপছন্দ করবেন, তখনই আপনার নিজেকে আপনি প্রথম সাহায্যটি করবেন।
গুটিয়ে পড়ে থেকে কী লাভ? প্রকৃতপক্ষে, আপনার দুর্দশায় অন্য কারো তেমন কিছুই আসে যায় না। আপনি বিষণ্ণতায় কেমন রকমের কষ্টে ভুগছেন তা অন্যেরা চাইলেও অনুভব করতে পারবে না তাই কাউকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আপনার নিজেকে নিজেরই সাহায্য করতে হবে। অন্য কেউ আপনাকে টেনে তুলবে না কখনই। এই আশা করাও ভুল, অনুচিত এবং বোকামি। তাছাড়া, আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিই ‘সিস্টেমেটিক’ উপায়ে চলছে, সেগুলো একটা ছন্দের মধ্যে আবর্তিত। তাই, আপনাকে নিজের সুদিন বয়ে আনতে প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি তৈরি করতে হবে নিজের ভেতরে। 
 প্রতিজ্ঞা করুন, যেকোন উপায়ে আপনি আপনার মাঝে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। এরপর আরো যেসব পদক্ষেপ আপনাকে সাহায্য করতে পারে সেগুলো হলো–
(১) জীবন থেকে আলসেমি দূর করুন। যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো নিজে করুন। সম্ভব হলে অন্যদের কাজও করে দিন। শরীরকে কাজ দিন। কাজ করে ঘেমে উঠুন, তারপর গোসল করে নিজেকে ‘ফ্রেশ’ ফিলিং দিন।
(২) পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি থাকুন। আপনি যে ঘরে থাকেন, যে বিছানায় ঘুমান, যে টেবিলে বসেন তা পরিপাটি করে রাখুন। নিজেকে ‘ফ্রেশ’ ফিলিং দিন। সুন্দর ঘর, সুন্দর বিছানা আপনার মনের মাঝে একটি সুন্দর প্রতিচ্ছবি তৈরি করবে। এই ভালোলাগার ‘গিয়ার’ ধরে আপনি আপনাকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করুন।
(৩) মজা করে খাওয়া দাওয়া করুন। নিজের প্রিয় মেনু খাওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেকে ‘ট্রিট’ দিন। ডিপ্রেশনে ভুগলে অরুচি তৈরি হয়, অরুচির কারণে খাওয়া কম হয়, এর প্রভাব পড়ে ব্রেইনে। ঝিম-ঝিম ভাব, নিঃস্পৃহ ভাব তৈরি হয়। তাই আগ্রহ করে খান, এবং আগ্রহ করে কাজ করুন।
(৪) ভালোকাজ করুন, পরোপকার করুন। অন্যদের সাহায্য করতে কাজ করুন। অন্যদের কাজে যারা লাগে, যারা অন্যদের অভাব পূরণে এগিয়ে যায়, আল্লাহ তাদের  অভাব পূরণ করে দেয়। আপনি নিজেকে অন্য কারো হাসিমুখ হবার কারণ হিসেবে তৈরি করুন। মনে রাখবেন, আপনার হাসিমুখ কিন্তু একটি সাদাকাহ।
(৫) আলোকময় ঘরে থাকুন। অন্ধকার থেকে দূরে থাকুন। অন্ধকার হলো কালো, আলোর বিপরীত অন্ধকার। সত্য হলো নূর। আল্লাহ হলেন নূর। ঈমানের দীপ্তি হলো আলোকময়। আলো হলো ইতিবাচকতা, অন্ধকার হলো নেতিবাচকতা। তাই আলোকে পছন্দ করুন। ঘরে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করুন। সূর্যের আলো যেন ঘরে ঢুকে এমন ব্যবস্থা করুন সম্ভব হলে।
(৬) শরীরচর্চা করুন, খেলাধূলা করুন। নিজেকে কাজ দিন। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে অবশ্যই সূর্যালোকে হাঁটুন, খেলাধূলা করুন। বাইরের বাতাসের স্পর্শ দিন নিজ শরীরকে।
(৭) সচেতনভাবে শরীরকে ব্যস্ত রাখুন, মনকেও। যখন নড়াচড়া করবেন, গা এলিয়ে নড়বেন না। সচেতনভাবে নড়াচড়া করুন। আলসেমি বা যাচ্ছেতাইভাবে কোন কাজ করবেন না। হাঁটার সময় এমনভাবে হাঁটুন যেন স্টেজে হাঁটলে শত-শত দর্শক আপনাকে তাকিয়ে দেখলে আপনি যতটা সচেতন হয়ে হাঁটবেন সেভাবে সকল হাঁটা হয়। শরীরকে নিস্তেজ, এলোমেলো করে ছেঁচড়ে হাঁটবেন না। সচেতন হয়ে হাঁটুন।
(৮) পরিমিত ঘুম। খুব বেশি ঘুম নয় আবার নির্ঘুম রাত নয়। রাতে সময়মতন শুয়ে পড়ুন যেন সকালে ফজরে ওঠা যায়, ফজরের পরে হাঁটাহাটি করা যায়। পরিশ্রম করুন দিনে যেন শরীর ক্লান্ত হয়ে রাতে এশা পড়েই ঘুমিয়ে যেতে পারেন।
(৯) অটো সাজেশন দিন নিজেকে। নিজেকে বুঝান, আপনি নিজের উন্নতি অর্জন করবেন অবশ্যই। আল্লাহ আপনাকে কী কল্পনাতীত শক্তি দিয়েছেন তা অনুভব করুন, নিজেকে সেই শক্তি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করুন।
(১০) নামাযে নিয়মিত হোন। প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত সলাত আমাদের জন্য শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সমস্যার সমাধান করে। সলাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে দূরে রাখে, জীবনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনে। সলাতের উপকার বর্ণনাতীত।
(১১) কুরআন তিলাওয়াত করুন। বিশেষ করে ফজরের সময় কুরআন  তিলাওয়াত অন্তরকে ও মনকে বিশেষ শক্তি ও প্রশান্তি দেয়। আল্লাহর বাণী পাঠ করার সময় নিজেকে অনুভব করান, যিনি আপনার স্রষ্টা তিনি ঠিক এই কথাগুলো আপনার জন্য বলেছেন। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন কুরআনে আছে শিফা, অর্থাৎ আরোগ্য।

(১২) খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, অনর্থক-অর্থহীন-নিস্ফল চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। চিন্তার অ্যানালাইসিস করে নিজেকে মানসিক প্যারালাইসিস রোগী বানাবেন না। মনকে এমন সব চিন্তা থেকে দূরে রাখুন যা আপনার বানানো দুশ্চিন্তা। আগে হতে দিন, তারপর সমস্যার মুখোমুখি হোন।

(১৩) বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। অনেক বিপদ আমাদের জীবনে আসে যা হলো আমাদের পাপের কারণে। আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাদের সঠিক পথে আসার রিমাইন্ডার দেন, কষ্টগুলো দিয়ে পাপ পুড়িয়ে আমাদের মুক্ত করেন। কিন্তু পাপ করলে তৎক্ষণাৎ হাসানাহ তথা ভালো কাজ করা আমাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) উপদেশ। তাই বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন এবং ভালো কাজ করুন। ইনশাআল্লাহ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পৃথিবীর মানুষদের জীবনকে জানতে চেষ্টা করলে দেখবেন আপনার সমস্যা আসলে খুব বেশি তীব্র নয়। প্রতিটি মানুষই নানান ঝামেলায়, কষ্টে থাকে। আল্লাহ অনেক জটিলতায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে রেখেছেন, তবু তারা দিব্যি যুদ্ধ করে যাচ্ছে ও সফল হচ্ছে। এসব থেকে অনুপ্রেরণা নিন এবং নিজেকে বুঝান, আল্লাহ আপনাকে শীঘ্রই খুব ভালো সময় দান করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর নি’আমাত আমাদের শরীর। এর যথাযথ যত্ন নেয়া আমাদের দায়িত্ব।

# বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুন:  https://onuprerona.com/archives/category/depression

রুমী কবিতা (অষ্টম কিস্তি)

* * * * *
ভোরের মৃদু হাওয়া এসে তোমাকে পরশ বুলিয়ে একটি গোপন রহস্য বলে যায় — আবার ঘুমাতে যেয়ো না।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *

তোমার জীবন দিয়ে আগুণ জ্বালাও। এবার খুঁজে নিয়ে আসো তাদেরকে যারা তোমার এই অগ্নিশিখার ভক্ত।
~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * 

তুমি হৃদয়ের যতই গভীর থেকে গভীরে স্থান নেবে, তার প্রতিবিম্ব ততই হবে পরিষ্কার ও ঝকঝকে।” ~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
যদি আলো থাকে তোমার হৃদয়ে ওই, ঘরে ফেরার পথ খুঁজে পাবে অবশ্যই।” ~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
আমি তো শিখেছি প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কিন্তু জীবনের স্বাদ পাবে খুব অল্প কিছু প্রাণ।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
তুমি এখন চুপ করো। যিনি পৃথিবীর সকল শব্দগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তাকেই কথা বলতে দাও। তিনিই দরজা সৃষ্টি করেছেন, তিনি তালা সৃষ্টি করেছেন এবং তার চাবিও তিনিই সৃষ্টি করেছেন।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
আত্মাকে শোনার ক্ষমতা দিয়ে যে কান দান করা হয়েছে তা এমন কিছু শুনতে পায় মন যা বুঝতেও পারে না।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
অন্যদের জীবনের ঘটনাগুলো কেমন করে ঘটেছে, অন্যদের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ে যেয়ো না। নিজ জীবনের লুকিয়ে থাকা কল্পকাহিনীর পর্দা উন্মোচিত করো।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
তোমার হৃদয়টাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভাঙ্গতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত তা না খুলে যায়।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
তোমার আলোয় আমার ভালোবাসতে শেখা, তোমার সৌন্দর্যে শিখেছি আমি কবিতা লেখা।~জালালুদ্দিন রুমী
 * * * 
এখনই কি তোমার হৃদয়কে আগুণের দুর্গ বানিয়ে ফেলার সময় নয়?~জালালুদ্দিন রুমী
 * * *
বসো, স্থির হও, আর খেয়াল করে শোনো,
কারণ তুমি কিন্তু এখন মাতাল,
আর আমরা আছি ছাদের একদম কিনারায়।
~ জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (সপ্তম কিস্তি)

 * * *
হতাশ হয়ো না! কেননা সবচেয়ে তীব্র হতাশার মূহুর্তগুলোতে আল্লাহ আশার আলো পাঠিয়ে দেন। ভুলে যেয়ো না, চারপাশ আঁধার করে আসা ঘনকালো মেঘ থেকেই তুমুল বৃষ্টিটা হয়ে থাকে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তুমি ভালোবাসা খুঁজতে যেয়ো না, ও তোমার কাজ নয়। বরং খেয়াল করে দেখো তোমার ভিতরে কী কী প্রাচীর তুমি গড়ে তুলেছ যা তোমাকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করছে।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তোমার কাছে যা-ই আসুক না কেন তুমি কৃতজ্ঞ থেকো, কেননা তোমার কাছে যা পাঠানো হয় তা তার পক্ষ থেকে পথনির্দেশ। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
বিশ্বজগতের সবকিছু তোমার মাঝেই আছে। নিজের ভেতর থেকেই খুঁজে নাও সব। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তুমি যা খুঁজছ সেটাও আসলে তোমাকেই খুঁজছে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
সত্য হৃদয়কে উঁচুতে তোলে, যেমন করে পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে সতেজ করে। ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তোমার বন্ধু হতে চেয়ে আমি আমার নিজের শত্রু হয়েছি।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
তুমি যা ভালোবাস তার সৌন্দর্যময়তার প্রকাশ হোক তোমার কাজগুলো।  ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
এমন একটা দিন
যেদিন বাতাসটা একদম যথযথ
যখন পাল তুলে রওনা হওয়া দরকার
পৃথিবীটা অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে আছে।
এমনই একটি দিন
আজকের দিন।
~ জালালুদ্দিন রুমী

 * * *
আর এখনো, এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও
সূর্য কখনো পৃথিবীকে বলেনি,
‘তুমি আমার কাছে ঋণী।’
চেয়ে দেখো, এমন ভালোবাসা কী করেছে,
এই সুবিশাল আকাশ হয়েছে আলোকিত।
~ জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (ষষ্ঠ কিস্তি)

 * * *
একটু ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করো। এমনভাবে যে, তুমি দেখছো, এবং মহাবিশ্বও দেখছে তোমাকে।~রুমী

 * * *
একটি গোলাপের উপমা এই ভালোবাসা, যে প্রস্ফুটিত হয় অনন্তকাল। ~রুমী

 * * *
আমি পাখির মত করে গাইতে চাই, যে চিন্তা করেনা কে শুনলো এবং কে কী ভাবলো। ~কবি জালালুদ্দিন রুমী

* * *
আমি জানি তুমি ক্লান্ত, কিন্তু তবু এসো এদিকে, হ্যাঁ এটাই সামনে যাবার পথ।~রুমী

* * *
আর এই যে তুমি? কখন তুমি তোমার নিজের মাঝে দীর্ঘ সেই যাত্রাটি শুরু করবে।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
চাঁদকে উজ্জ্বল দেখা যায় যখন সে রাতকে এড়িয়ে যায় না।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
নিজ চিন্তাগুলোর হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখো। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
একটা কন্ঠ আছে যে কোন শব্দ উচ্চারণ করে না। কান পাতো, শোনো। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
একটু ঠান্ডা হও, শুধুমাত্র আল্লাহর হাতই তোমার হৃদয়ের এই ভার সরানোর ক্ষমতা রাখে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * *
তুমি আমাকে ভালোবাসো আমার কারণে নয় বরং তোমার নিজের অভিজ্ঞতার কারণে… তুমি আমার দিকে ফিরে তাকাও তোমার নিজের আবেগকেই অনুভব করতে।~ জালালুদ্দিন রুমী