রুমী কবিতা (ষোড়শ কিস্তি)

 

* * * * * * *
তোমার জীবনটা তাকে সঁপে দাও যিনি ইতোমধ্যেই তোমার সমস্ত শ্বাস-প্রশ্বাস এবংমূহুর্তগুলোর মালিক। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
ভালোবাসার দৃষ্টি হলো স্ফটিকের মতন স্বচ্ছ। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
আমার গহীন ভেতরে কে আছে তা খুঁজে দেখতে আমি নিজেকে খুঁড়ে চলি। কিন্তু, যতই গভীরে খুঁড়তে থাকি, ততই আমি নিজের চিহ্নটুকু হারিয়ে ফেলতে থাকি। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
আমার মুখ বন্ধ রেখে আমি তোমার সাথে আরো শত উপায়ে কথা বলেছি। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
কারো আলিঙ্গনে আবদ্ধ হতে চাইলে তুমি আগে তোমার বাহু দু’টি প্রসারিত করো।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
ভালোবাসার সফরে বেরিয়ে পড়ো। সে তো তোমার কাছ থেকে শুরু হয়ে তোমাতেই এসে শেষ হয়।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
হৃদয়ের একটা নিজস্ব ভাষা আছে। সে কথা বলার করার হাজারটি উপায় জানে। ~জালালুদ্দিন রুমী

সুখে থাকার খুব সহজ একটা তরিকা

পৃথিবীতে সুখে থাকার খুব সহজ একটা তরিকা আছে। স্রেফ বর্তমানে থাকুন। এটা একদমই কঠিন কোন বিষয় না। সুখী হতে হলে আপনাকে অনেক কিছু করে দুনিয়া উলটে দিতে হবে না। স্রেফ বর্তমানের মাঝে জীবনকে ধারণ করুন। বর্তমানকে খুব গভীরভাবে দেখুন, বর্তমানকে নিয়ে বেঁচে থাকুন, বর্তমানের মূহুর্তগুলোকে উপভোগ করুন।

অতীতের কারণে অনুশোচনা ও দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যত নিয়ে যত বেশি উদ্বেগ ও শংকা করবেন, আপনি তত বেশি অশান্তিতে থাকবেন। অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা করে মূলত আপনি অন্য কারো/অন্য কিছুর কাছে নিজের স্বস্তি/শান্তি/সুখ জমা দিয়ে দিলেন।

যা হবার হবেই। যা হয়েছে, তা হবারই ছিলো। কিছুই পরিবর্তনের ক্ষমতা, যোগ্যতা আপনার ছিলো না, থাকবেও না। আপনি বর্তমানটুকুকে সুন্দর করুন, যেন এটুকু নিয়ে আপনার আফসোস করতে না হয়। যে কোন সুন্দর, আনন্দময়, পাপহীন, ফলদায়ক সময় আপনাকে জীবনে শক্তি ও স্বস্তি এনে দেবে। তাই বর্তমানকে গড়ুন। বর্তমানকে সুন্দর করুন। কেবল আজকের দিনটিতে সুন্দর করে বাঁচুন।

গ্রহণ করে নিন জীবনে যা ঘটেছে। গ্রহণ করে নিন এই ভেবে যে এর চেয়েও খুব খারাপ কিছু ঘটলেও আপনার কিছু করার ছিলো না। জীবনকে আপনি যতটা মেনে নিতে পারবেন, আপনি ততটাই সুখী হবেন। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন, জীবনকে নিয়ে প্রশান্ত থাকুন, আনন্দিত থাকুন, মন দিয়ে কাজ করুন। সুখী হবেন। দুনিয়াতে ও আখিরাতে — উভয় স্থানেই কল্যাণ পাবেন। তাই, বর্তমানে মনোযোগ দিন, এই মূহুর্তটিতেই মন দিন। সুখী হোন।

# চিন্তার উদ্দীপনা: https://www.youtube.com/watch?v=Qy5A8dVYU3k

[০৬ নভেম্বর, ২০১৫]

রুমী কবিতা (পঞ্চদশ কিস্তি)

* * * * * * *
খোদা, সেখানে নিয়ে চলো
আমার আত্মাকে
যেখানে হয়ত শব্দ ব্যবহার না করেই
আমি কথা বলতে পারবো।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
তুমি যে অনুপ্রেরণা খুঁজছো হন্যে হয়ে
তা ইতোমধ্যেই তোমার মাঝেই রয়েছে।
চুপ করো আর কান পেতে শোনো।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
যখন আমরা মারা যাবো,
কবরের ফলকের মাঝে আমাদের খুঁজো না।
আমাদের খুঁজিয়ো মানুষজনের মাঝে।
~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
একটা গাছের মত হও আর মরে যাওয়া পাতাগুলোকে ঝরে যেতে দাও।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
খোদার কাছে পৌঁছানোর অনেকগুলো পথ আছে। আমি বেছে নিয়েছি ভালোবাসা।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
আমাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।
আমি ভালোবাসা এবং আমি সবসময় তোমারই। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * *
কিছুক্ষণের জন্য হলেও তোমার উচিত নৈঃশব্দের বাগানে একাকী পদচারণা করা।~জালালুদ্দিন রুমী

অর্ধেক পানিভর্তি গ্লাস নিয়ে যত কথা

অর্ধেক পানিপূর্ণ গ্লাসের কতটুকু ভর্তি অথবা খালি এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। এই যেমন যারা নাকি বলে অর্ধেক পূর্ণ তারা নাকি অপটিমিস্ট, আর যারা বলে অর্ধেক শূণ্য তারা নাকি পেসিমিস্ট! অথচ একজন জ্ঞানী মানুষ বলেছিলেন, অর্ধেক খালি বলা ঐ ছেলেটি তার কাছে রিয়েল অপটিমিস্ট এবং স্বাপ্নিক কেননা সে ভেবেছে আরো অর্ধেক পানিতে গ্লাসটি পূর্ণ হতে পারতো।

আবার কেউ বলেন, অপটিমিস্ট আর পেসিমিস্ট যখন গ্লাসের কতটুকু ভরা বা খালি তা নিয়ে তর্ক করছিলো তখন অপরচুনিস্ট এসে পানিটুকু খেয়ে ফেলে গেছে।

খুব গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে সেই মানুষটির কথা যিনি বলেছেন, গ্লাসটি কতটুকু ভারী। উত্তরে কেউ বললো হয়ত দু-আড়াইশো গ্রাম! তিনি বললেন, গ্লাসটির ওজন সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। যতই আপনি গ্লাসটি ধরে রাখবেন, ততই তার ওজন বাড়তে থাকবে। তাই গ্লাসটি বেশিক্ষণ ধরে রাখবেন না, নামিয়ে রেখে দিন।

জীবনের চিন্তাগুলোই এমন। যতই ভাববেন, ততই তারা আপনাকে ভারাক্রান্ত করে ফেলবে। একই চিন্তা তাই বেশিক্ষণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে নেই। একই চিন্তা বেশি বেশি করলেই সমাধান আসে না, বরং তা মনকে অসুস্থ ও অসাড় করে ফেলে।  মনকে সুস্থ-সুন্দর রাখতে হলে চিন্তাগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও গুছানো রাখা প্রয়োজন।

রুমী কবিতা (চতুর্দশ কিস্তি)

* * * * * * * *
সূর্যের মতন হও মানুষকে অনুগ্রহ ও দয়া করায়
রাতের মতন হও অন্যদের ভুলগুলো ঢেকে দেয়ায়
বয়ে চলা স্রোতধারার মতন হও উদারতায়
মৃত্যুর মতন হয়ে যাও রাগ ও ক্ষুব্ধতায়,
মাটির মতন হও বিনম্রতায়,
তুমি যেমন তেমন করেই নিজেকে প্রকাশ করো।
যেমন করে নিজেকে প্রকাশ করো, তেমনটিই হও।

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * *
আমরা তো কেবল শ্রেষ্ঠতম চিত্রশিল্পীর হাতে থাকা এক রংতুলি। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
আমার ভেতরে যে সৌন্দর্য তুমি দেখতে পাও, তা আসলে তোমারই প্রতিচ্ছবি। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
প্রতিটি মূহুর্ত, একটি নতুন সৌন্দর্য। ~রুমী

* * * * *
মাটি ও পানির এই আবাসের মাঝে,
আমি যেন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আছি।
এসো এখানে, হে মোর প্রিয়,
নতুবা আমায় চলে যেতে দাও।

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
আমার হৃদয়ের আকার তো ক্ষুদ্র, এতটাই ছোট যে তা প্রায় দেখাই যায় না। এত বিশাল পরিমাণ দুঃখ-বেদনা আমি কীভাবে ধারণ করবো এতে?

তিনি উত্তর দিলেন, “খেয়াল করে দেখো, তোমার চোখটাও তো অনেক ক্ষুদ্র। কিন্তু এই চোখে তো তুমি গোটা বিশ্বজগতকেই ধারণ করো।”

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
গতকাল আমি চতুর ছিলাম তাই পৃথিবীকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। আজ আমি বুদ্ধিমান হয়েছি, তাই নিজেকেই বদলে দিচ্ছি।~ জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (ত্রয়োদশ কিস্তি)

* * * * * * * *
তুমি যখন পথ ধরে হাঁটতে শুরু করবে, সামনের পথ তখন স্পষ্ট হয়ে দেখা দিবে।” — রুমী

* * * * * * * *
তুমি জন্মেছিলো দু’টি ডানা নিয়ে। কেন তবে জীবনভর হামাগুড়ি দিতেই তোমার এত পছন্দ?” — রুমী

* * * * * * * *
তুমি যে কষ্টদের সহ্য করছ তারা তোমার কাছে বার্তাবাহক হয়ে এসেছে, তাদের কথা শোন। ~ রুমী

* * * * * * * *
যখন তোমাকে দিতে চেয়ে কেউ  হাতে স্বর্ণ তুলেছে, তখন তোমার হাতের দিকে তাকিয়ো না, কিংবা স্বর্ণের দিকেও না। যে দিচ্ছে তার দিকে তুমি তাকাও। ~ রুমী [মসনবী, দ্বিতীয় খন্ড]

* * * * * * * *
তুমি তো সমুদ্রের মাঝে কোন জলবিন্দু নও, তুমি এক ফোঁটা জলবিন্দুর মাঝে সম্পূর্ণ এক সমুদ্র। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
যদি কবিতার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে বসন্তও ফিরে ফিরে আসবে।~ রুমী

* * * * * * * *
তুমি মনে করো তুমি হলে বিপদ অথচ তুমি হলে সুরক্ষা। তুমি মনে করো তুমি দরজার তালা অথচ তুমি সেই চাবিটি যা তালাটি খুলে দেয়। তুমি যে আসলে অন্য কেউ হতে চাও, তা খুবই বাজে একটা ব্যাপার। তুমি তোমার নিজের চেহারাটি দেখো না, তোমার সৌন্দর্য তুমি দেখো না। যদিও তোমার চেয়ে বেশি সুন্দর কেউ নয়। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
তুমি কি মনে করো আমি যা করছি তা আমি জানি? নাকি আমার একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের অর্ধেকটাও আমার নিজের অধিকারে আছে? এ তো এমনই যে কলমটি যা লিখছে তা যতটুকু সে জানে, অথবা বলটি এরপর যেদিকে যাবে বলে সে ধারণা করে। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
দুঃখ-কষ্টগুলো হতে পারে সহানুভূতির বাগান। তুমি যদি তোমার হৃদয়কে সবকিছুর জন্যই উন্মুক্ত রাখতে পারো, তাহলে তোমার কষ্টগুলো হয়ে যেতে পারে ভালোবাসা আর প্রজ্ঞার প্রতি তোমার জীবনভর আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় বন্ধু। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
যখন তোমার শরীরের চিন্তা ও চাওয়ার উর্ধে এসে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে, তখন এমনিতেই একদম নতুন এক জগতে প্রবেশ করবে। ~জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (দ্বাদশ কিস্তি)

 

* * * * * * * *
অন্যেরা যা বলে তা করতে গিয়ে, আমি হয়েছিলাম অন্ধ।
অন্যদের ডাকাডাকি শুনে আসতে গিয়ে, আমি হারিয়েছিলাম পথ।
এরপর আমি সবাইকেই ছেড়েছিলাম, এমনকি আমার নিজেকেও।
তখন আমি সবাইকেই খুঁজে পেয়েছি, এমনকি আমার নিজেকেও।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
তোমার দু’হাত প্রসারিত করো যদি প্রিয়তমর আলিঙ্গন পেতে চাও। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
তুমি যা খুঁজছো তা যদি হয় খাবার, তুমি খাবার পাবে।
তুমি যা খুঁজছো তা যদি হয় আত্মা, তুমি তোমার আত্মাকে খুঁজে পাবে।
তুমি যদি এই গোপন রহস্যটি বুঝতে পারো,
তুমি জানবে তুমি সেটাই যা তুমি খুঁজে বেড়াও।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
একটা কলম একাই লিখতে শুরু করেছিলো। সে যখন লিখতে এলো ‘ভালোবাসা’, তখন ভেঙ্গে গেলো। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
তুমি দেখেছ তোমার অফুরন্ত শক্তি
তুমি দেখেছ তোমার মোহনীয় সৌন্দর্য
তুমি দেখেছ তোমার সোনালী ডানা
তবে কেন তুমি উদ্বিগ্ন?
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
যে পথ তোমাকে শুদ্ধ করে সেটাই সঠিক পথ। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
প্রতিটি দিনকে পেছনে ফেলে আসাই ভালো। বয়ে যাওয়া পানির স্রোতের মতন যেন, সমস্ত দুঃখ-কষ্টকে ফেলে চলে যাওয়া। গতকালের দিনটি তো শেষ, সেই দিনটির সমস্ত গল্প বলা হয়ে গেছে। আজকে নতুন কিছু অংকুর মাটি বিদীর্ণ করে মাথা তুলে জাগবে। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * * * *
যদি তোমার অহংবোধ তোমার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকে, তাহলে আর ভাগ্যের সাহায্যের জন্য নির্ভর করো না। তুমি দিনের বেলায় ঘুমিয়ে কাটাও আর রাতগুলো তো এমনিতেই ক্ষুদ্র। তুমি যখন জেগে উঠবে তখন হয়ত তোমার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে। ~জালালুদ্দিন রুমী

রুমী কবিতা (একাদশ কিস্তি)

* * * * * *
আমি বললাম: আমার চোখ দুটোর কী হবে?
তিনি বললেন: পথের উপর তাদের স্থির রাখো।

আমি বললাম: আমার কামনার কী হবে?
তিনি বললেন: ওদের পুড়তে দাও।

আমি বললাম: আমার হৃদয়ের ব্যাপারে বলুন?
তিনি বললেন: এর মাঝে কী আছে তা আমাকে বলো।

আমি বললাম: কষ্ট আর ব্যথা।
তিনি বললেন: এগুলো থাকুক তোমার হৃদয়েই।

ক্ষতগুলো তো এমনই স্থান যার ভেতর দিয়ে তোমার মাঝে আলো প্রবেশ করে।

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
সমস্ত উদ্বেগ মুছে ফেলে একদম মুক্ত হয়ে যাও,
চিন্তা করো তার কথা যিনি সকল চিন্তাকে সৃষ্টি করেছেন।
যখন সমস্ত দ্বার এখনো এত অবারিত
কেন তুমি তবু বন্দীশালাতেই বাস করো?
 ~ রুমী

* * * * * *
অনেক মানুষ দেখেছি যাদের জড়িয়ে রাখার মতন কোন কাপড় ছিলো না,
অনেক কাপড় দেখেছি যা যাদের জড়িয়ে রেখেছিলো তারা মানুষ ছিলো না।
~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
প্রার্থনাগুলো কুয়াশাকে দূর করে দিয়ে প্রাণের শান্তিকে ফিরিয়ে এনে দেয়।~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
যাও, তোমার নিজ হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ো। ~ রুমী

* * * * * *
তুমি যদি তোমার মাঝে আমাকে খুঁজে না পাও তাহলে আর কোথাও পাবে না কোনদিন। আমি তো তোমার মাঝেই ছিলাম, আমার সূচনা থেকে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
সৌন্দর্য আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
নীরবতার মাঝে উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। ~ জালালুদ্দিন রুমী

শামস তাবরিজি [২]

* * * * * *
ভালোবাসা ছাড়া জীবন হলো স্রেফ আবর্জনার মতন।

“আমি কি আত্মিক, নাকি বস্তুগত, নাকি শারীরিক ভালোবাসার দিকে মন দিবো?”

এসব প্রশ্ন করতে যেয়ো না। বৈষম্য তো কেবল বৈষম্যেরই জন্ম দেয়। ভালোবাসার জন্য এসব নানান রকম নাম, বিভাজন অথবা সংজ্ঞার প্রয়োজন নেই। হয় তুমি ভালোবাসার মাঝেই আছ, একদম কেন্দ্রে। নতুবা এই পরিসীমার বাইরে তুমি আছ, এই দুরত্বের হাহাকার বুকে নিয়ে।

~শামস তাবরিজি

* * * * * *
জীবনে তোমার যা-ই হোক না কেন, কখনো হতাশ হয়ে পড়ো না। এমনকি সবগুলো দরজাও যদি বন্ধ হয়ে যায়, একটি গোপন পথ তুমি খুঁজে পাবে যার হদিস কেউ জানেনা। তুমি হয়ত এখনো দেখতে পাচ্ছ না, কিন্তু এই পথের শেষে জান্নাতের অনেকগুলো বাগান আছে। কৃতজ্ঞ হও! তুমি যা চাও তা পাওয়ার পর শুকরিয়া করা তো সহজ, বরং যা চাইছ তা পাওয়ার আগেই শুকরিয়া করো।

~ শামস তাবরিজি

* * * * * * *
তুমি কি ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছ জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে? অথচ তোমার বর্তমানের মাঝেই রয়েছে সেগুলো। যখন তুমি কোন চুক্তি, যুক্তি আর প্রত্যাশা ছাড়াই ভালোবাসতে পারবে, তখন তুমি জান্নাত খুঁজে পাবে। যখন তুমি ঘৃণা আর মারামারিতে জড়িয়ে থাকবে, তুমি খুঁজে পাবে জাহান্নাম।

~শামস তাবরিজি

* * * * * * *
আল্লাহর বান্দারা তো কখনো ধৈর্যহারা হয় না। কেননা সে তো জানেই যে সদ্য প্রকাশিত বাকা চাঁদটির পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হতে সময় লাগবে। ~শামস তাবরিজি

রুমী কবিতা (দশম কিস্তি)

* * * * *
কখনো আশা হারিয়ো না, হে আমার হৃদয়। অদেখার জগতে তো অনেক অলৌকিক ঘটনার বসবাস। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
যদি তুমি মণিমুক্তোর ভাণ্ডারে পরিণত হতে চাও,
তবে তোমার ভেতরের সুপ্ত গভীর সমুদ্রটিকে উন্মুক্ত করে দাও।
~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
ভাগ্যবান তো সে মানুষ যে হিংসাকে তার সংগী করে নিয়ে চলে না। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
যা কিছুই ঘটুক না কেন, তুমি প্রাণখুলে হাসো; আর ভালোবাসার মাঝে নিজেকে হারিয়ে দাও। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
তোমার মাঝে আমি আমার ধ্বংসস্তূপ ছেড়ে পালিয়ে এসে লুকাই। দয়া করো, আমাকে আর আমার মাঝে ফিরিয়ে দিয়ো না। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
তুমি কেন সবার দরজায় করাঘাত করে ফিরছো? যাও, তুমি তোমার নিজ হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ো। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * *
আমি একজন চিত্রশিল্পী
সারাদিন একে যাই নানান ছবি।
কিন্তু যখন তোমার সৌন্দর্যের কথা স্মরণ করি,
আমার সমস্ত চিত্রকর্ম ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়।

আমি একজন ভাষ্কর,
যে পাথর খোদাই করে তৈরি করি সে ছবির প্রতিমূর্তি,
কিন্তু যখন তোমার সৌন্দর্যের কথা মনে হয়,
আমার সমস্ত শিল্পকর্ম আগুনে ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়।

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * *

নিশ্চুপ হয়ে নিজের ভেতরে বয়ে চলা তরঙ্গের শব্দমালা শোনো। ~জালালুদ্দিন রুমী