আপনার হৃদয় কি ভারাক্রান্ত?

আপনার হৃদয় কি ভারাক্রান্ত? কষ্টে-যন্ত্রণায়, অপ্রাপ্তি-অশান্তি, শঙ্কায়-অস্থিরতায় কাটাচ্ছেন? একটা ব্যাপার জানেন? পৃথিবীতে এই মূহুর্তে কোটি কোটি মানুষ আপনার চেয়েও ভয়ংকর কষ্টে সময় কাটাচ্ছে। আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই মূহুর্তটা কিন্তু বেশিদিন থাকবে না!

কষ্টের একটা সময় থাকে। প্রথম ধাক্কাটা কিছুটা তীব্র হয়। কিছু বিষয়ে আবার পরবর্তীতে কষ্টটায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে হয়। সেগুলো যেমনই হোক, মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়। সন্তানকে কবরে রেখে এসে পিতাকে বের হতে হয় জীবিকার সন্ধানে। সন্তান আর স্বামী মরে যাওয়ার পরেও একজন নারী ফিরে এসে রান্নার যোগাড় করেন অন্তত খেয়ে বেঁচে থাকতে। জীবন এমনই। আপনি যে কষ্টটিকে সহ্যের অতিরিক্ত ভাবছেন, যে ক্ষতিটাকে কল্পনাতীত ভেবে আপনার বুক ফেটে যাচ্ছে — সেটুকুকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রেরণা পেতেন আরো অসংখ্য লোক। তারা সেটুকুও পান না।

[০৩ ডিসেম্বর, ২০১৫]

কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে?

 

নিজেকে দয়া করুন, নিজের প্রতি রহমদীল হোন। কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে? প্রতিটা মানুষের জীবনের স্রোত আলাদা, একের সাথে আরেকটা মিশে না। অন্যের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এমনকি নিজের অতীতের সাথেও না। শুধু জেনে নিন, আপনার জীবনে সামনে যা আসে, তা আল্লাহর পাঠানো। কিছুতেই তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না। গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না।

আমাদের উপরে যা কিছু আসে তা আমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত নয়, এ আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা। আস্থা রাখুন নিজের উপরে। দুর্যোগ মানেই জীবন ধ্বংস নয়, হোক তা প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট। দুর্যোগ কেটে যায়। ধ্বংসস্তূপ সারিয়ে তুলতে হয় সেই আপনাকেই। তাই, অপেক্ষা করুন নতুন করে গড়ে নেয়ার। এটাই জীবন। অতিকাব্যিক কিছু নেই পৃথিবীর জীবনে। আসল সফলতা আল্লাহর কাছে। দুনিয়ায় কাজ হলো সুন্দর করে মূহুর্তগুলোতে আপনার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। ফলাফল আল্লাহর হাতে। সবই আল্লাহর হাতে।

সহজভাবে গ্রহণ করুন জীবন। হাসিমুখ থাকুন, হাসিমুখ তৈরি করুন। কাজ করুন। মন দিয়ে কাজ করুন। কাজের মাঝে বেঁচে থাকুন যেন এগুলো সাদকায়ে জারিয়া হয়ে মরণের পরেও বন্ধু হয়ে রয়।

কেউ দেখে শিখে আর কেউ ঠেকে শিখে

জীবনে সবাই শেখে। কেউ কেউ শেখার জন্য বেছে নেয় খুব কষ্টের পথ। আপনি যে জিনিস হয়ত মধ্য বয়সে শিখছেন, তা হয়ত অনেকে কৈশোরে শিখে ফেলেছে। কেউ হয়ত স্কুল জীবনে যা শেখার কথা, আজো তা শেখেনি। এগুলো চিন্তা করে অবাক হবেন, তাতে লাভ নেই। আসল বিষয় হলো, আপনি কখন শিখবেন। যখনই হোক, জীবনে যখন “ঠেকে শিখবেন” তখনই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হতে হয়। প্রকৃতপক্ষে, যতই শিখবেন, শেখার সময়টা অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু না শেখা জীবন হতাশা আর গ্লানির। যারা কখনই শেখে না, বুঝেও বুঝে না, দেখেও অনুভব করে না–তারা আজীবন বুকের জ্বালায় দগ্ধ হয়ে মরে। কষ্টের উৎস খুঁজে না পাওয়ার যে জ্বালা, সেটা তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

কেউ ক্লাসরুমে আনন্দ করে শেখে, কেউ শেখে শুভাকাংখীর উপদেশ থেকে। আবার নির্মম শিক্ষা হলো খুব বড় ক্ষতি থেকে শেখা। তবুও, শেখা শেখাই। একটা কথা বহুল প্রচলিত, “শিখেছি কোথায়? ঠেকেছি যেথায়”। তাই শেখায় কোন লজ্জা নেই, বয়স নেই। ঐ যে বলে না? ‘better late than never’– দেরিতে হলেও শিখুন। শেখাই জীবন। শিখলেই জীবন বদলায়। কিন্তু শেখার পথটা খুব কষ্টের। খুব। যে কোন চিন্তা, অভিজ্ঞতা আমাদের যা শেখায়, তা একটা দুর্গম পথ। কিন্তু, শেখা ছাড়া জীবন হয় না। ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন,’ — শেখার এক পরম আদেশ, হালাল-হারাম, অমুক-তমুক, ইত্যাদি চিন্তা করার আগেই শিখতে দৌড়াতে হবে।

যারা সাধারণ বাক্যই উপলব্ধি করতে পারে না, চোখের সামনে, নিজের জীবনে শত-সহস্র ঘটনা থেকেও শিখতে পারে না। ধর্মের কথা, হালাল-হারাম আর পাপ-পুণ্যের গল্প বলে সে তো কেবল অন্যের ক্ষতিই করবে। আল্লাহ তো দিন-রাত্রির পরিবর্তনে, আকাশ আর দুনিয়ার সৃষ্টির মাঝে তাকিয়ে থেকে চিন্তাশীলদের শেখার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। কয়টা হৃদয় সত্যিকারের শিখতে পারি? এই আকাশ আর পৃথিবী, রাত আর দিনে কী কী শিখেছি তা পয়েন্ট করে লিখে নিজেরাই লজ্জায় পড়ে যাবো না?

শিখতে হবে। একদম শিশুদের মতন শেখা। শেখাতেই রয়েছে মুক্তির শুরু। শেখার মাঝেই রয়েছে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার চাবি। সবাই আটকে পড়ে আছি কারাগারে। অজ্ঞতা, অন্ধত্ব, অহং, হিংসার কারাগার। আলো দাও খোদা। ‘নূরুন আলা নূর’ কবে একটানা হতেই থাকবে আমাদের হৃদয়ে?

[১৩ নভেম্বর, ২০১৫]

কবে ভালোবাসা ফিরে আসবে আবার? হৃদয়ে হৃদয়ে…

আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরাই তাদের নিজের ভেতরের দেয়ালগুলোতে নিজেদের বন্দী করে রাখে। তাদের বন্দী থাকতে হয়, বন্দী হতে শেখানো হয় ছোট থেকেই। লোকে কী বলবে, তারা কী বলবে ভাবতে ভাবতে নষ্ট হয়ে যায় হৃদয়ের ভেতরের জৈবিক রসায়ন। ধর্মের দোহাই দিয়ে বেঁধে রাখতে চায় অনেকে।

ধর্ম কী কেবলই কিছু আচার-অনুষ্ঠান? আমরা কি জানিনা অনেক বড় আলেমদের সর্বাগ্রে জাহান্নামে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে মর্মে সতর্কবাণীর কথা? আমরা কি জানিনা উশকো-খুশকো অভাবী-দীন-হীন লোকের হাত আল্লাহর খুব পছন্দ হবার কথা? বাহিরে মোরা ভদ্র বড়, ভেতরে শুধুই পশু। বাহিরের আচ্ছাদন আর লেবাসের সৌষ্ঠবের প্রতি আগ্রহ তো বুকের ভেতরের রসায়নকে নষ্ট করে ফেলেছে।

বহিরাবরণে ভদ্রলোক/ধার্মিক/ভদ্রমহিলা/শিক্ষিত অথচ বুকের মাঝে নেই মানবিক বোধ। অনেকগুলো ডিগ্রি পাশ দিয়ে আসা ডাক্তার সাহেব এক মিনিট কথা বলতে চাইছেন না রোগীর সাথে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্মার্ট আর ইয়াং ছেলেটা ঘুষি বাগিয়ে দিলো রিকসাওয়ালা ছেলেটাকে, ভেবে দেখা যায় না ছেলেটা কতটা কষ্টে রিকসা নিয়ে বের হয়েছে, শরীর দিয়ে টেনেছে এই যানটি–জীবনের প্রয়োজনে? এই চলমান সমাজে মনুষ্যত্ব লুকিয়েছে শব্দের খোলসে, মানুষের হৃদয় কেবলই শূণ্য। হৃদয়গুলোতে লোভ, হিংসা, ক্রোধ, অহংকার এবং সর্বোপরি ক্ষমতার লালসা।

কবে ভালোবাসা ফিরে আসবে আবার? হৃদয়ে হৃদয়ে…
কবে ভালোবাসা পাবে গাছের পাতা, পাখি, প্রাণী; ভালোবাসা পাবে চলতি পথের পথিক। ভালোবাসা পাবে অসহায়, আহত হৃদয়ের মানুষগুলো। ভালোবাসা তো পারে বদলে দিতে সবকিছু। আসলে, যা ভালো লাগে করতে হয়। বাইরে দেখতে যেমনটি লাগে, নিজেরা যেন তেমনটিই হই। নিজেরা যেমন,  তেমনটি যেন লোকে মনে করে। কী লাভ তীব্র বৈপরিত্যের মাঝে সদা বসবাসে?

[২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫]

মানুষ হিসেবে ভুল করার অধিকার আপনার আছে

মানুষ হিসেবে ভুল করার অধিকার আপনার আছে। আপনি প্রতিদিনই ভুল করবেন, সেগুলো থেকে উত্তরণই আপনার প্রতিদিনের সফলতা। আপনার ভুলকে পুঁজি করে কেউ আহত করলে, আঘাত দিলেই কিন্তু আপনি ভেংগে পড়বেন না। আপনাকে সম্পূর্ণ ভুল মানুষ হিসেবে কেউ দাবী করলে তাতে কষ্ট পাবেন না। কেননা, আপনি এই মানুষটা একদিনে হননি।

আপনার গোটা জীবনের প্রতিটি দিনের ছোট ছোট সৌন্দর্য মিলেই এই আপনি। আল্লাহর পৃথিবী একদিনে উলটে যায় না। কারো কথায়, আচরণে আহত হবেন না। শক্ত হোন, নিজের কাছে সততা রাখুন। আল্লাহ ঠিক জানেন আপনার অন্তরের সৌন্দর্য, অন্যদের প্রতি আপনার ভালোবাসা, শুভকামনা আর দোয়া– আপনি সবকিছুর বিনিময় অবশ্যই পাবেন। আপনার সংগোপনে করা সুন্দর চিন্তাগুলোর প্রতিবিম্ব আপনি খুঁজে পাবেন অন্য মানুষের আচরণে, কথায়।

আল্লাহর পৃথিবীটা অনন্য সুন্দর। এখানে সবকিছু মিলেই সবকিছু। অল্পতেই আশাহত হবেন না। 🙂

[১৩ নভেম্বর, ২০১৫]

আপনি কি নিজের ভেতরের জিঞ্জিরগুলো চুরমার করতে পেরেছেন?

 

আচ্ছা, আপনি কি কখনো নিজের ভেতরের সমস্ত জিঞ্জিরগুলো ভেঙ্গে চুরমার করতে পেরেছেন? আপনি কি সমস্ত খারাপলাগা, কষ্ট, ক্লেদ, ঘৃণা, হিংসা, অপ্রাপ্তির হিসেব, অস্বস্তি, অশান্তিকে ভেঙ্গে নিজেকে ফুরফুরে হাসি উপহার দিতে পেরেছেন? পেরেছেন নিজেকে ভালোবাসতে? নিজেকে যে ভালোবাসতে পারে না, সে অন্যদেরকেও পারে না। যে নিজের একাকীত্বকে সহ্য করতে পারেনা, সে অন্যের সান্নিধ্যেও শান্তি পায় না। যে নিজের কারাগারে নিজে বন্দী থাকে, সে অপর কারো সান্নিধ্যে আরো বেশি বন্দীত্ব অনুভব করে।

খেয়াল রাখুন যেন নিজের চারপাশের শেকলগুলো আপনাকে বেঁধে না রাখে, যেন অতীতের মতন গ্লানিময় না হয় আগামীর দিনগুলো। হাসুন মন খুলে, বৃষ্টিকে উপভোগ করুন আনন্দে। আপনার মতন জীবন তো পৃথিবীতে কোটি-কোটি মানুষ এখনো উপভোগ করছে– সাগ্রহে কিংবা বাধ্য হয়ে। আপনি যা পাচ্ছেন, সে তো আল্লাহর একান্ত দান। তিনি যা দিচ্ছেন, তা আপনার জন্যই নির্ধারিত। তিনি যা থেকে আপনাকে বঞ্চিত করছেন, তা আপনি কিছুতেই পেতেন না। এই বর্তমানের মূহুর্তটুকু উপভোগ করুন। প্রাণের, অনুভূতির, উপলব্ধির এই মহামূল্যবান সময়ের জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করুন। আপনার চারপাশেই অনেক মানুষ চিন্তা ও উপলব্ধির সময় কিংবা সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না। কীসের জ্বালা আপনাকে ভারাক্রান্ত করছে বলুন তো?

ভেবে দেখুন, এই মূহুর্তটির মতন মূল্যবান কিন্তু কিছু আপনার জীবনে নেই। এই এক্ষুনি বুকের মাঝে আনন্দের ঢেউ খেলাতে পারবেন কি? না পারলে চিন্তিত হয়ে দেখুন তো, কোন নষ্ট অনুভূতির বাঁধ আপনার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার স্রোতকে আটকে দিচ্ছে? সমস্ত শান্তি ও ভালোবাসার ভান্ডারের চাবি তো আমাদের হৃদয়ের গহীনেই, কেন তবু আমরা দুঃখিত, বিষণ্ণ, অশান্ত?

[৬ অক্টোবর, ২০১৫]

আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি?

 

আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি? কেমন করে বুঝি সেটা? আমরা যা পছন্দ করি, আসলেই কি করি? নাকি অন্যেরা যা ভালোবাসায়, পছন্দ করায়, তা আমরা অবচেতনভাবে পছন্দ করি, ভালোবাসি, উত্তম মনে করি? আমরা কতটুকু সময় নিজের চিন্তা নিজে করি? লোকের বলা ছাঁচেই আমরা বেশিরভাগ চিন্তা করি, তাইনা? অথচ আমরা কেউ অন্য কারো মতন না। আমাদের জীবনগুলো পরস্পরের চেয়ে একদম আলাদা।

আমরা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চিন্তার কারাগারে বন্দী থাকি। চারপাশের মানুষগুলো আমাদের বন্দী করতে চায় তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ আরোপ করে সৃষ্ট যে কারাগার তার মাঝে। আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন অবারিত পৃথিবী। পৃথিবীতে খুব অল্প বিষয় নিষিদ্ধ। পৃথিবী আল্লাহর নিয়ামতে পরিপূর্ণ। উপভোগের জন্য পাপহীন বিনোদনে পৃথিবী ভরপুর।

আচ্ছা, ক’জন আমরা ঘৃণাহীন, হিংসাহীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারি? পত্রিকা, চ্যানেলের খবরে, অপদার্থ বন্ধু/আত্মীয়র মুখে, ফেসবুকের পন্ডিতন্মন্য মানুষদের সমালোচনামুখর পোস্টে আমরা শুধু ঘৃণা, অবিশ্বাস, সন্দেহ, অশান্তি, পরনিন্দা, অপবাদ, মিথ্যায় ডুবে থাকি… শান্তির ঘুম কেমন করে আসবে জঞ্জালভরা হৃদয়ে, অতৃপ্ত ও অসুস্থ চোখে?

কেন লোকের গীবত-পরনিন্দা থেকে দূরে যাইনা? কেন যাবতীয় নেগেটিভিটি থেকে সরে আসিনা? কেন সবাইকে ভালোবাসতে পারিনা? কেন লোকের উত্তম গুণাবলী নিয়েই আলাপ করিনা?

সমস্ত রং যেখানে থাকে, সেটি হয় কালো। যেখানে কোন রং থাকে না, তার রং সাদা। হৃদয় যখন সমস্ত ক্লেদ ও পংকিলতামুক্ত হয়– সেটি শুভ্র হৃদয়। সেটিই প্রশান্ত আত্মা।

নিজেদের শত্রু যেন নিজেরাই না হই কখনো। আমাদের আত্মা যেন হয় সদাকৃতজ্ঞ, স্নিগ্ধ, ভালোবাসায় ভরপুর প্রশান্ত আত্মা।

[২৯ আগস্ট, ২০১৫]

সুখে থাকার খুব সহজ একটা তরিকা

পৃথিবীতে সুখে থাকার খুব সহজ একটা তরিকা আছে। স্রেফ বর্তমানে থাকুন। এটা একদমই কঠিন কোন বিষয় না। সুখী হতে হলে আপনাকে অনেক কিছু করে দুনিয়া উলটে দিতে হবে না। স্রেফ বর্তমানের মাঝে জীবনকে ধারণ করুন। বর্তমানকে খুব গভীরভাবে দেখুন, বর্তমানকে নিয়ে বেঁচে থাকুন, বর্তমানের মূহুর্তগুলোকে উপভোগ করুন।

অতীতের কারণে অনুশোচনা ও দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যত নিয়ে যত বেশি উদ্বেগ ও শংকা করবেন, আপনি তত বেশি অশান্তিতে থাকবেন। অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা করে মূলত আপনি অন্য কারো/অন্য কিছুর কাছে নিজের স্বস্তি/শান্তি/সুখ জমা দিয়ে দিলেন।

যা হবার হবেই। যা হয়েছে, তা হবারই ছিলো। কিছুই পরিবর্তনের ক্ষমতা, যোগ্যতা আপনার ছিলো না, থাকবেও না। আপনি বর্তমানটুকুকে সুন্দর করুন, যেন এটুকু নিয়ে আপনার আফসোস করতে না হয়। যে কোন সুন্দর, আনন্দময়, পাপহীন, ফলদায়ক সময় আপনাকে জীবনে শক্তি ও স্বস্তি এনে দেবে। তাই বর্তমানকে গড়ুন। বর্তমানকে সুন্দর করুন। কেবল আজকের দিনটিতে সুন্দর করে বাঁচুন।

গ্রহণ করে নিন জীবনে যা ঘটেছে। গ্রহণ করে নিন এই ভেবে যে এর চেয়েও খুব খারাপ কিছু ঘটলেও আপনার কিছু করার ছিলো না। জীবনকে আপনি যতটা মেনে নিতে পারবেন, আপনি ততটাই সুখী হবেন। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন, জীবনকে নিয়ে প্রশান্ত থাকুন, আনন্দিত থাকুন, মন দিয়ে কাজ করুন। সুখী হবেন। দুনিয়াতে ও আখিরাতে — উভয় স্থানেই কল্যাণ পাবেন। তাই, বর্তমানে মনোযোগ দিন, এই মূহুর্তটিতেই মন দিন। সুখী হোন।

# চিন্তার উদ্দীপনা: https://www.youtube.com/watch?v=Qy5A8dVYU3k

[০৬ নভেম্বর, ২০১৫]

অর্ধেক পানিভর্তি গ্লাস নিয়ে যত কথা

অর্ধেক পানিপূর্ণ গ্লাসের কতটুকু ভর্তি অথবা খালি এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। এই যেমন যারা নাকি বলে অর্ধেক পূর্ণ তারা নাকি অপটিমিস্ট, আর যারা বলে অর্ধেক শূণ্য তারা নাকি পেসিমিস্ট! অথচ একজন জ্ঞানী মানুষ বলেছিলেন, অর্ধেক খালি বলা ঐ ছেলেটি তার কাছে রিয়েল অপটিমিস্ট এবং স্বাপ্নিক কেননা সে ভেবেছে আরো অর্ধেক পানিতে গ্লাসটি পূর্ণ হতে পারতো।

আবার কেউ বলেন, অপটিমিস্ট আর পেসিমিস্ট যখন গ্লাসের কতটুকু ভরা বা খালি তা নিয়ে তর্ক করছিলো তখন অপরচুনিস্ট এসে পানিটুকু খেয়ে ফেলে গেছে।

খুব গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে সেই মানুষটির কথা যিনি বলেছেন, গ্লাসটি কতটুকু ভারী। উত্তরে কেউ বললো হয়ত দু-আড়াইশো গ্রাম! তিনি বললেন, গ্লাসটির ওজন সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। যতই আপনি গ্লাসটি ধরে রাখবেন, ততই তার ওজন বাড়তে থাকবে। তাই গ্লাসটি বেশিক্ষণ ধরে রাখবেন না, নামিয়ে রেখে দিন।

জীবনের চিন্তাগুলোই এমন। যতই ভাববেন, ততই তারা আপনাকে ভারাক্রান্ত করে ফেলবে। একই চিন্তা তাই বেশিক্ষণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে নেই। একই চিন্তা বেশি বেশি করলেই সমাধান আসে না, বরং তা মনকে অসুস্থ ও অসাড় করে ফেলে।  মনকে সুস্থ-সুন্দর রাখতে হলে চিন্তাগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও গুছানো রাখা প্রয়োজন।

আশা ও ভালোবাসার কথা

মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত। যখন আপনি এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পাবেন যারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, যারা এই চলমান অন্যায়-অস্থিরতা-হত্যা-খুনের পৃথিবীর মাঝেও অদম্য আশাবাদের সুতোয় মালা গাঁথে–তখন আপনিও আশাবাদী হবেন আপনার জীবন নিয়ে। তখন নিজ জীবনকেও সম্ভাবনার আধার মনে হবে, মনে হবে একদিন চারপাশকে নিয়ে আপনি সুখ আনতে পারবেন। টের পাবেন আপনি বিশ্বাস করছেন যে চলমান কষ্টের সময়টা কেটে গেলেই আপনি আবার সুন্দর সময় খুঁজে পাবেন। এই আশাবাদের তরী বেয়ে চলেই এসেছে মানবজাতি এতটা পথ। নতুবা প্রতিটি মানুষের জীবনেই যে ভীষণ ধাক্কা আসে জীবনের একেকটি ক্ষেত্রে, মানুষকে পরাজিত হয়ে পদদলিত হতে থাকতে হত। কিন্তু সম্ভাবনাকে আঁকড়েই মানুষ এগিয়ে যায়।

আপনি যখন অসার ও নিরর্থক কথাবার্তা বলা, কুচিন্তা করা মানুষদের সাথে চলতে থাকবেন। দেখবেন আপনি একজন মানুষকে দেখলে তাকে সন্দেহভাজন মনে করবেন। অতিরিক্ত পাপ নিয়ে আলোচনা করতে করতে হয়ত আপনার কাউকে দেখলেই তার পাপ নিয়ে ধারণা করতে শুরু করবেন। অথচ অধিকাংশ মানুষের মাঝেই সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে। আপনি কেন কাউকে দেখলে অযথা সন্দেহ করতে থাকবেন? অকারণে কাউকে নিয়ে সন্দেহ করা ও ধারণা পোষণ করা তো আমাদের মনগুলোকে বিষিয়ে দেয়, তিক্ত করে দেয়–আমাদেরকে বন্দী করে এক অজানা কারাগারে।

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে এই বাংলার স্বাধীনতাকে উপনিবেশিকতায় বানিয়ে দিলো, মানুষ যখন ব্রিটিশদের খেলার বস্তু, দাসে পরিণত হলো–তখন কিছু মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফকির ও আলেমগণ করেছিলেন বিদ্রোহ। ফরায়েজি আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলন, ফকির বিদ্রোহ এবং সিপাহী বিদ্রোহে মুক্তিপাগল অসম্ভবকে কল্পনাকারী প্রতিপক্ষ সমগ্র পৃথিবীতে আধিপত্যবাদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। তাদের লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ধীরে ধীরে ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি পায় এই বাংলা। আধিপত্যবাদ কি থেমে থেকেছে? হয়ত মুক্তিপাগল প্রাণ, আশাবাদী প্রাণ কমে গেছে।

অথচ সবকিছু বদলে দিতে লাগে কেবল ইচ্ছা। আশাবাদী প্রাণগুলোই বদলে দেয় কদর্যতা ও কঠিন সময়। তারা গড়ে নেয় অসম্ভবকে সম্ভব করে। যারা মনের বাঁধা, নেগেটিভ চিন্তার বলয় পেরিয়ে স্বপ্ন দেখে সুন্দর ভবিষ্যতের, কেবল তারাই গড়ে তোলে সুন্দর পৃথিবী। অলসতা যাদের থাকে, যাদের থাকে ‘হবে না’, পারা যাবে না’ টাইপের চিন্তাভাবনা– তারা কেবল পদদলিত হয়। ধ্বংস করে নিজ জীবন এবং চারপাশকে। তাই, “আমি পারবোই” একথা বলে যারা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারাই নিয়ে আসে অন্ধকার রাতের পরে একটি সুন্দর দিনের সূর্যোদয়।

তবে যেকোন পরিবর্তনের শুরুতেই প্রয়োজন হয় ভালোবাসা। নিজ জীবনের, পরিবারের, সমাজের সকল পরিবর্তনের শুরু হয় ভালোবাসার স্ফূলিঙ্গ থেকে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারা একটি অমূল্য গুণ। পৃথিবীতে ভালোবাসার বড্ড আকাল। কুৎসা, নোংরামি, পরনিন্দা, কুধারণা, কূটনামিতে ভরে গেছে নাগরিক মনগুলো। আমরা চাইলেই বদলে দিতে পারি আমাদের উজাড় করা ভালবাসা দিয়ে। একদিনে কিছু বদলে যায় না, কিন্তু এরকম প্রতিদিনের একেকটি প্রত্যয় আমাদের বদলে দেবে অনেকখানি, অ-নে-ক বেশি! হয়ত সেদিন আপনার নিজেকেই আপনি চিনতে পারবেন না!

সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে সবখানে! তাকে কুড়িয়ে নিয়ে রাখুন আপন মনের মাঝারে…

[১৩ আগস্ট, ২০১৫]