বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠায় দরকার শরীরের সচেতনতা

ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকলেই অনেকে অন্ধকার পছন্দ করতে শুরু করে। কম-কম খায় কেননা খাওয়ায় অরুচি হয়। কিছুতেই ভালো লাগে না বলে পারলে অন্ধকার ঘরের কোণার দিকে পড়ে থাকে। এই অভ্যাস একসময় মানুষকেই দখল করে ফেলে। ডিপ্রেশনই তখন মানুষটাকে কন্ট্রোল করতে শুরু করে।
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য অনেকে অনেক কিছু বলে। সত্যিকার অর্থে, ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই দরকার নিজের ইচ্ছা হওয়া। আপনি যখন নিজেকে বিষণ্ণ রূপে দেখতে অপছন্দ করবেন, তখনই আপনার নিজেকে আপনি প্রথম সাহায্যটি করবেন।
গুটিয়ে পড়ে থেকে কী লাভ? প্রকৃতপক্ষে, আপনার দুর্দশায় অন্য কারো তেমন কিছুই আসে যায় না। আপনি বিষণ্ণতায় কেমন রকমের কষ্টে ভুগছেন তা অন্যেরা চাইলেও অনুভব করতে পারবে না তাই কাউকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আপনার নিজেকে নিজেরই সাহায্য করতে হবে। অন্য কেউ আপনাকে টেনে তুলবে না কখনই। এই আশা করাও ভুল, অনুচিত এবং বোকামি। তাছাড়া, আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিই ‘সিস্টেমেটিক’ উপায়ে চলছে, সেগুলো একটা ছন্দের মধ্যে আবর্তিত। তাই, আপনাকে নিজের সুদিন বয়ে আনতে প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি তৈরি করতে হবে নিজের ভেতরে। 
 প্রতিজ্ঞা করুন, যেকোন উপায়ে আপনি আপনার মাঝে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। এরপর আরো যেসব পদক্ষেপ আপনাকে সাহায্য করতে পারে সেগুলো হলো–
(১) জীবন থেকে আলসেমি দূর করুন। যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো নিজে করুন। সম্ভব হলে অন্যদের কাজও করে দিন। শরীরকে কাজ দিন। কাজ করে ঘেমে উঠুন, তারপর গোসল করে নিজেকে ‘ফ্রেশ’ ফিলিং দিন।
(২) পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি থাকুন। আপনি যে ঘরে থাকেন, যে বিছানায় ঘুমান, যে টেবিলে বসেন তা পরিপাটি করে রাখুন। নিজেকে ‘ফ্রেশ’ ফিলিং দিন। সুন্দর ঘর, সুন্দর বিছানা আপনার মনের মাঝে একটি সুন্দর প্রতিচ্ছবি তৈরি করবে। এই ভালোলাগার ‘গিয়ার’ ধরে আপনি আপনাকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করুন।
(৩) মজা করে খাওয়া দাওয়া করুন। নিজের প্রিয় মেনু খাওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেকে ‘ট্রিট’ দিন। ডিপ্রেশনে ভুগলে অরুচি তৈরি হয়, অরুচির কারণে খাওয়া কম হয়, এর প্রভাব পড়ে ব্রেইনে। ঝিম-ঝিম ভাব, নিঃস্পৃহ ভাব তৈরি হয়। তাই আগ্রহ করে খান, এবং আগ্রহ করে কাজ করুন।
(৪) ভালোকাজ করুন, পরোপকার করুন। অন্যদের সাহায্য করতে কাজ করুন। অন্যদের কাজে যারা লাগে, যারা অন্যদের অভাব পূরণে এগিয়ে যায়, আল্লাহ তাদের  অভাব পূরণ করে দেয়। আপনি নিজেকে অন্য কারো হাসিমুখ হবার কারণ হিসেবে তৈরি করুন। মনে রাখবেন, আপনার হাসিমুখ কিন্তু একটি সাদাকাহ।
(৫) আলোকময় ঘরে থাকুন। অন্ধকার থেকে দূরে থাকুন। অন্ধকার হলো কালো, আলোর বিপরীত অন্ধকার। সত্য হলো নূর। আল্লাহ হলেন নূর। ঈমানের দীপ্তি হলো আলোকময়। আলো হলো ইতিবাচকতা, অন্ধকার হলো নেতিবাচকতা। তাই আলোকে পছন্দ করুন। ঘরে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করুন। সূর্যের আলো যেন ঘরে ঢুকে এমন ব্যবস্থা করুন সম্ভব হলে।
(৬) শরীরচর্চা করুন, খেলাধূলা করুন। নিজেকে কাজ দিন। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে অবশ্যই সূর্যালোকে হাঁটুন, খেলাধূলা করুন। বাইরের বাতাসের স্পর্শ দিন নিজ শরীরকে।
(৭) সচেতনভাবে শরীরকে ব্যস্ত রাখুন, মনকেও। যখন নড়াচড়া করবেন, গা এলিয়ে নড়বেন না। সচেতনভাবে নড়াচড়া করুন। আলসেমি বা যাচ্ছেতাইভাবে কোন কাজ করবেন না। হাঁটার সময় এমনভাবে হাঁটুন যেন স্টেজে হাঁটলে শত-শত দর্শক আপনাকে তাকিয়ে দেখলে আপনি যতটা সচেতন হয়ে হাঁটবেন সেভাবে সকল হাঁটা হয়। শরীরকে নিস্তেজ, এলোমেলো করে ছেঁচড়ে হাঁটবেন না। সচেতন হয়ে হাঁটুন।
(৮) পরিমিত ঘুম। খুব বেশি ঘুম নয় আবার নির্ঘুম রাত নয়। রাতে সময়মতন শুয়ে পড়ুন যেন সকালে ফজরে ওঠা যায়, ফজরের পরে হাঁটাহাটি করা যায়। পরিশ্রম করুন দিনে যেন শরীর ক্লান্ত হয়ে রাতে এশা পড়েই ঘুমিয়ে যেতে পারেন।
(৯) অটো সাজেশন দিন নিজেকে। নিজেকে বুঝান, আপনি নিজের উন্নতি অর্জন করবেন অবশ্যই। আল্লাহ আপনাকে কী কল্পনাতীত শক্তি দিয়েছেন তা অনুভব করুন, নিজেকে সেই শক্তি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করুন।
(১০) নামাযে নিয়মিত হোন। প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত সলাত আমাদের জন্য শারীরিক, মানসিক, আত্মিক সমস্যার সমাধান করে। সলাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে দূরে রাখে, জীবনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনে। সলাতের উপকার বর্ণনাতীত।
(১১) কুরআন তিলাওয়াত করুন। বিশেষ করে ফজরের সময় কুরআন  তিলাওয়াত অন্তরকে ও মনকে বিশেষ শক্তি ও প্রশান্তি দেয়। আল্লাহর বাণী পাঠ করার সময় নিজেকে অনুভব করান, যিনি আপনার স্রষ্টা তিনি ঠিক এই কথাগুলো আপনার জন্য বলেছেন। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন কুরআনে আছে শিফা, অর্থাৎ আরোগ্য।

(১২) খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, অনর্থক-অর্থহীন-নিস্ফল চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। চিন্তার অ্যানালাইসিস করে নিজেকে মানসিক প্যারালাইসিস রোগী বানাবেন না। মনকে এমন সব চিন্তা থেকে দূরে রাখুন যা আপনার বানানো দুশ্চিন্তা। আগে হতে দিন, তারপর সমস্যার মুখোমুখি হোন।

(১৩) বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। অনেক বিপদ আমাদের জীবনে আসে যা হলো আমাদের পাপের কারণে। আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাদের সঠিক পথে আসার রিমাইন্ডার দেন, কষ্টগুলো দিয়ে পাপ পুড়িয়ে আমাদের মুক্ত করেন। কিন্তু পাপ করলে তৎক্ষণাৎ হাসানাহ তথা ভালো কাজ করা আমাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) উপদেশ। তাই বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন এবং ভালো কাজ করুন। ইনশাআল্লাহ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পৃথিবীর মানুষদের জীবনকে জানতে চেষ্টা করলে দেখবেন আপনার সমস্যা আসলে খুব বেশি তীব্র নয়। প্রতিটি মানুষই নানান ঝামেলায়, কষ্টে থাকে। আল্লাহ অনেক জটিলতায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে রেখেছেন, তবু তারা দিব্যি যুদ্ধ করে যাচ্ছে ও সফল হচ্ছে। এসব থেকে অনুপ্রেরণা নিন এবং নিজেকে বুঝান, আল্লাহ আপনাকে শীঘ্রই খুব ভালো সময় দান করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর নি’আমাত আমাদের শরীর। এর যথাযথ যত্ন নেয়া আমাদের দায়িত্ব।

# বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠা সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুন:  https://onuprerona.com/archives/category/depression

যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা….

… ​যারা দুঃখভারাক্রান্ত, তাদের জন্য লেখা….

আমরা যেসব বোকা মানুষ দুনিয়ার জীবনের বিভিন্ন বিপদাপদ, আশংকা-ভয়, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি, তাদের জন্য আল্লাহ নিজেই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র শান্তি, সমাধান। মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনের এই কষ্ট এসেছে আমাদেরকে ‘শুদ্ধ’ করতে এবং ‘মুক্ত’ করতে। আপনার মাঝে যদি ঈমান থেকে থাকে, তবে জেনে রাখবেন আল্লাহ এই পরীক্ষা হাজির করেছেন আপনাকে তার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি ইস্তিগফার ও আ’মাল করাতে চান। মু’মিনদের জীবনের যেকোন পরীক্ষাই আসে কল্যাণ হিসেবে, তাই অবশ্যই সবর করার চেষ্টা করতে হবে। এই কষ্টগুলো আপনার পাপগুলোকে পুড়িয়ে আপনাকে শুদ্ধ করবে যেমন করে সোনা পুড়ে খাঁটি হয়।

দুঃখভারাক্রান্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে বেছে নিন নামাযে দাঁড়িয়ে থাকা, সিজদায় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করার কাজকে; কেননা বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে থাকে সিজদাকালীন সময়ে। শেষরাতে উঠে কান্নাকাটি করুন কেননা আল্লাহ রাতের শেষভাগে আমাদের নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন যেন আমাদেরকে তিনি ক্ষমা করতে পারেন। রাতে তাহাজ্জুদে দাঁড়ানো মানে এমন না যে মাঝরাতে উঠে সারারাত নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। বরং, ফজরের ১০ মিনিট আগে উঠে কিছুক্ষণ সলাতে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে অনুভব করুন আপনার সাথে আল্লাহর সেই সম্পর্কটিকে যা কোনদিন হারাবে না। মনে রাখবেন, আপনার এখনকার জীবনের একমাত্র এই সম্পর্কটিই অবিনশ্বর, আর দুনিয়ার সবকিছুই হারিয়ে যায়, হারিয়ে যাবে, হারিয়ে গেছে।

আপনার নিজের বুকের ভালোলাগা ও ভালোবাসার আবেগটুকু দিয়ে গভীর মন দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে একথা স্মরণ রেখে যে এই কথাগুলো এই বিশ্বজগতের প্রতিপালক, যার কাছে আমরা ফিরে যাবো তিনি ঠিক আমার জন্যই পাঠিয়েছেন, এই গ্রন্থটিতে আছে আমার হিদায়াহ, আমার মুক্তি, আমার শান্তি, আমার চিরকালীন সুখ।

খুব দরকারি একটা টিপস হলো, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ, আপনাকে-আমাকে যিনি পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন সেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী পড়া। তার সীমাহীন উঁচু মর্যাদা, সুন্দরতম আ’মাল সত্ত্বেও তাকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যে কঠিন পরীক্ষা, দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিলো তা আমাদের উপলব্ধিকেই বদলে দেবে।

হাতের কাছে রাখুন সাহাবা এবং সালাফদের জীবনীগুলো। বাজারে পাওয়া যায় ‘আসহাবে রাসূলের জীবনকথা’ সিরিজের বইগুলো, যা আপনাকে খুব অল্প কয়েক পাতায় দেখিয়ে দেবে শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের মানুষদেরকে। তাদের জীবনকে উপলব্ধি করিয়ে আপনাকে দেখিয়ে দেবে সফলতার মঞ্জিলে যেতে হলে যে পথ পাড়ি দিতে হবে, তা খুব সহজ নয়, কিন্তু তার কষ্টগুলোর মাঝেও রয়েছে অন্যরকম এক প্রশান্তি কেননা এর মাধ্যমে যার কাছে যাওয়া যায় তিনি হলেন শান্তির মূল, তিনি হলেন ‘সালাম’।

বিপদগ্রস্ত, ঋণগ্রস্তদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো খুব সুন্দর দু’আ আছে অনেকগুলো বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে। সহজে পেতে চাইলে পড়তে পারেন, ‘আযকারে মাসসূনাহ’ নামের বইটি থেকে যা ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের সংকলিত গ্রন্থ। সূরা বাকারাহতে (আয়াত ১৫৬) উল্লেখিত দু’আ “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজি’উন” পড়তে পারেন, সাইয়্যিদিনা ইউনুস আলাইহিস সালামের দু’আ হিসেবে পরিচিত “লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যোয়ালিমিন”। অথবা পড়তে পারেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উদযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসলি ওয়াল বুখলি ওয়াল যুবনি ওয়া দলা’আদ দাইনি ওয়া গলাবাতির রিজাল”… এমন আরো অনেক দু’আ।

দু’আ একটি ইবাদাত, দু’আর মাধ্যমে আল্লাহর যিকির হয়, তাকে স্মরণ করা হয়, তার সর্বময় ক্ষমতার কাছে নিজেকে সোপর্দ করা হয়, আমাদের সৃষ্টির যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়ন হয় যখন নিজেদেরকে মাটিতে লুটিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে সিজদারত থাকি এবং চোখের পানি ঝরিয়ে দু’আ করতে থাকি। এক আলোচনায় শুনেছিলাম একজন ইমাম বলেছিলেন যে দুর্দশার সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তার কাছে চাওয়ার সময় এমন এক অনুভূতি পায় যা হলো ঈমানের অসাধারণ স্বাদ, সেটা হয় কারণ সে তখন আল্লাহ ছাড়া আর কারো শক্তির প্রতি আশা-আস্থা রাখে না। ফলে কেবলমাত্র ও কেবলমাত্র আল্লাহর স্মরণ করায় হৃদয়ের এই অনুভূতির স্বাদ সে হারাতে চায় না তাই সে চায় তার এই কষ্টকর সময়টা জারি থাকুক। সুবহানাল্লাহ!

আপনার, আমার যে দুর্দশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত সময় তা আসলে ‘কপাল’ নয়, তা আমাদের কর্মের বিনিময়ে আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনা। জেনে রাখুন, আপনার জীবনে কী ঘটছে তিনি খুব ভালো করে জানেন এবং তিনি নিজেই তা ঘটাচ্ছেন। সুতরাং, জীবনে আসা পরীক্ষার সময়ে আপনি কীভাবে তার ‘রিপ্লাই’ দিচ্ছেন সে ব্যাপারে খুব সচেতন হোন।

এই দুনিয়ার জীবন তৈরি করা হয়েছে হৃদয়কে ভাঙ্গার জন্য। এখানে পরিপূর্ণ শান্তি চাওয়া কেবলই বোকামি। আল্লাহকে স্মরণ রেখে তার নির্দেশিত পথে চলার চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন আমাদেরকে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার যোগ্যতা দেবেন এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই যা দেখা যায় এবং যা দেখা যায় না (গাইব) সকল কিছুর জ্ঞান কেবলমাত্র তার এবং তিনিই আমাদের রব, আমরা সবাই তারই মুখাপেক্ষী, আর কারো নয়। আমরা সবাই তার কাছেই ফিরে যাবো, যেতেই হবে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

[লেখাটির বিষয়বস্তুর অনেকখানিই একাধিক স্কলারের আলোচনা থেকে শোনা। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।]

@ রেফারেন্স : কিছু অসাধারণ ভিডিও

# Gratitude : A way of Life – Nouman Ali Khan : http://www.youtube.com/watch?v=FfvsOD3R0gE
# Never Lose Hope in Allah : Bilal Assad : http://www.youtube.com/watch?v=nxqoLEhjA6g
# Do Not Despair : Shaikh Mukhtar Ash-Shanqiti : http://www.youtube.com/watch?v=mo2bY0Y1lhQ
# Do Not Despir 2 : Shaikh Mukhtar Ash-Shanqiti : http://www.youtube.com/watch?v=eoJcnv4d7es
# Hope : Mukhtar Magraoui : http://www.youtube.com/watch?v=Mpz1M3hY_iU
# Dont’ Be Sad : Hamza Yusuf : https://www.youtube.com/watch?v=HqfP4ADWHEQ

কৃতজ্ঞতা

আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামাত ​বাতাসের মাঝে ডুবে থেকে আমরা বাতাসের মূল্য ও বিশুদ্ধ বাতাসের মর্ম বুঝিনা, কিন্তু কিছুটা হয়ত বুঝতে পারে তারা যখন কেউ থাকে অ্যাজমা রোগী, নাক দু’টোর ফুটোকে তখন সুঁইয়ের ডগার মতন ক্ষুদ্র ছিদ্র মনে হয়, বুক আকুলি-বিকুলি করতে থাকে একটু বাতাসের জন্য…

আমাদের জীবনের ভালোবাসার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা বড্ড উদাসীন থাকি। অনেক মানুষদের কাছে পাওয়া আদর, যত্ন-আত্মি ভালোবাসাকে আমরা ‘স্বাভাবিক’ প্রাপ্তি হিসেবে হিসেব করে বেখেয়াল থাকি। অথচ মানুষের প্রতিটি সুন্দর আচরণই কষ্টের একটা ফলাফল। ভালো মানুষেরা সেগুলো নিয়মিত প্রচেষ্টার পরে তবেই অর্জন করেন। এমনকি মা-বাবার ভালোবাসাও সবক্ষেত্রে একই না। এই জগতেও অনেক মা-বাবা আছেন চরম বেখেয়াল, আবার অনেকে আছেন তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য… তাই কোনকিছুই যে আপনাআপনি হয়না বা আমরা এমনিতেই পাইনা সে কথা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।

আমাদের চারপাশে অনেক নিদর্শন আছে যা দেখে আমাদের বুঝে নেয়া উচিত আল্লাহর নিয়ামাত। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কেননা যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও হয় না। একইভাবে, যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, তার প্রকৃতপক্ষে বান্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন, অন্য বান্দাদের প্রতি সহমর্মী হবার তাওফিক দিন।

[১০ জুলাই, ২০১৪]

নাটক-সিনেমা-উপন্যাসে সবকিছু এক্সট্রিম হয় কিন্তু বাস্তব জীবন তেমন নয়

নাটক-সিনেমায় সবকিছু বেশি বেশি হয়। যখন প্রেম হয়, তখন বেশি বেশি। নায়ক নায়িকা কলেজে ব্যাগ ছাড়া বই বহনকালে ঠুয়া খেয়েই প্রেমে পড়ে যায়। আবার তাদের ট্র্যাজেডিটাও বেশি বেশি। রাস্তার রিকসাওয়ালা কোটিপতি চৌধুরী সাহেবের মেয়ের সাথে প্রেম করে। রোমিও আর জুলিয়েটের পরিবারের শত দ্বন্দ্বের পরেও তাদের পেরেম চলতেই থাকে। একটা বেকুব মরে দেখে অপরজনেও আত্মহত্যা করে। এইরকম ‘এক্সট্রিম’ (Extreme) বিষয় মানব জীবনের জন্য স্বাভাবিক না। আসলে, বাস্তবতা আর নাটক-উপন্যাসের কোন তুলনাই চলে না।

বাস্তব জীবন অনেক অন্যরকম। এখানকার ট্র্যাজেডিতে এইরকম প্রেম কাহিনী থাকে না। এই ট্র্যাজেডিতে আত্মসম্মানবোধ রাখতে, সামাজিক মর্যাদা অটুট রাখতে যে কষ্ট হয়, তার মাঝে সব পেরেম-টেরেম হারিয়ে যায়, পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে রাস্তার পাশের খুপরিতে বড় হওয়া পিচ্চিটার কাছে ডাবগাছের শাখাটা নিয়ে আনন্দের খেলাধূলার অংশ থাকে। চৌধুরী সাহেবদের কাছে চাঁদাবাজের আতঙ্ক, মেয়ের বেয়াড়া হয়ে যাওয়া, শাশুড়ির ক্যান্সার ধরা পড়ায় কেমোথেরাপির শিডিউল সামলানোর মতন কষ্ট থাকে। সব চৌধুরী সাহেবরা এখন নাইট ড্রেস পরে ডুপ্লেক্সে ঘুমাতে পারে না।

বাস্তব জীবনটা সুন্দর, তবে ভাষায় অপ্রকাশ্য। প্রতিটি মানুষের জীবনই একেকটা গল্পের চেয়েও বেশি। প্রত্যেকের জীবনেই সুন্দর কিছু গল্প আছে, কিছু প্রাপ্তি আছে, কিছু তীব্র বেদনা আছে। সব মিলিয়েই, সবাই মানুষ। এই সকল অপ্রাপ্তি-বঞ্চনা-গঞ্জনার বিপরীতে উত্তম প্রতিদান মিলিয়ে দিবেন আল্লাহ। বেঁচে থাকার সুখ আর দুঃখ সবই আল্লাহর জন্যই। সবাই আমরা তারই, তার কাছেই তো ফিরে যাবো। দুনিয়াতে এসে এই ফিরে যাওয়া অবধি কাহিনীগুলো হোক অনন্যসুন্দর এক ভালোবাসার মহাকাব্য…

[৩১ মার্চ, ২০১৪]

আমাদের হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন

আমরা কত্তো কিছুই তো করি… নিজের জন্য, অন্যের জন্য। অন্য কারো সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতেও চেষ্টা করি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই, তাদের চেষ্টাও থাকে যত বেশি পারা যায় লোকের সামনে হোক অথবা অগোচরেই হোক, বেশি বেশি অন্যের উপকার করতে থাকা। কখনো জনমভোর অন্যের জন্য করে একসময় কষ্ট পেয়ে যাওয়া, অথবা কারো ভালো করতে গিয়ে যেন হয়ত নিজের ক্ষতি হলেও মেনে নিই, ভালোবাসা থেকে, দয়া থেকে। অন্যের জন্য নিজের কেমন ধরণের ক্ষতি মেনে নিচ্ছি, সেটা নিয়েও একপ্রস্ত চিন্তা করার আছে…

মনে হয় একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে, যেটা হয়ত আমাদের চিন্তা থেকে এড়িয়ে যায়–  আল্লাহ যেদিন আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, সেদিন আমরা কারো ভাই হিসেবে না, কারো বোন হিসেবে না, কারো ছেলে কিংবা মেয়ে হয়ে নয়, কারো সন্তান কিংবা বাবা/মা হয়েও নয়, কারো স্বামী বা স্ত্রী হয়েও নয় — আমরা দাঁড়াবো ‘আমি’ হয়ে। যেই আমি আমার অন্তরটাকে ধারণ করতাম, যেই আমি আমার হৃদয় নিয়ে কাজ করেছি পৃথিবীতে… বাইরে যা-ই করেছি, হৃদয় জানতো আসল উদ্দেশ্য কী ছিলো, কী করতে পারা যেত অথচ হয়ত করা হয়নি… এমন আরো অনেক কিছু…


হৃদয়টার যত্ন নেয়া প্রয়োজন। হৃদয়ের ব্যাপারে সচেতন হওয়াও প্রয়োজন। হৃদয়ে কীসের স্পর্শ লাগছে, হৃদয় কীসের জন্য আকুল হচ্ছে, হৃদয় আমার কাকে বেশি ভালোবাসে, কী বেশি ভালোবাসে… হৃদয় আমার কাকে খুশি করতে চায়, কেন চায়। অশান্ত আর অন্যায়ের মাঝে আমার হৃদয় কাকে আশ্রয় হিসেবে নেয়… এমন হয়তো আরো অজস্র বিষয় আছে, তা নিজ নিজ জীবনে আমাদের উপলব্ধি ও আবিষ্কারের বিষয়, সচেতনতার বিষয়। কারণ, সেই দিনটি অবধারিত যেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে দাঁড় করাবেন, আমাদেরকে বলতে হবে কী করেছিলাম, কেন করেছিলাম।  এই দুনিয়াতেও আল্লাহ আমাদের এই হৃদয়ের দিকেই তাকান, বাহ্যিক বিষয়গুলো তো বাহ্যিকই।

যার সামনে যেমন উপকরণ তার ‘আউটপুট’ তেমনি বদলে যায়। এই এখন, হাতের সামনে কম্পিউটার-ইন্টারনেট কানেকশন থাকায় এই কথাগুলো হয়ত কিছু মানুষের কাছে পঠিত হবে কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অনেক কঠিন পরীক্ষার মাঝে অনেক অনেক গভীর থেকে উপলব্ধি করেন, নিজেদের বদলে দেন — কিন্তু তাদের সুযোগ নেই/ইচ্ছা নেই অন্যদের কাছে ছড়ানোর। তাই বলে অনুভব আটকে থাকে না। আল্লাহ ঐ অন্তরটাকেই দেখেন, বাহ্যিক বিষয়গুলো তো কেবলই ‘শো-অফ’, এ থেকে কেমন অর্জন হতে পারে, তা হৃদয় বুঝতে পারে একটু হলেও…

হৃদয় নিয়ে শঙ্কা-ভীতি-সন্দেহ-অসহায়ত্ব হয়ই, তবে নিজের জন্য রোগের উপশম হিসেবে শিখেছি সেই দু’আ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম হৃদয়ের মানুষটি শিখিয়েছিলেন যেন অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহর কাছে আমাদের অন্তরকে দ্বীনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার সাহায্য চাওয়া যায় প্রতিনিয়ত, “ইয়া মুক্কাল্লিবাল ক্কুলুব, সাব্বিত ক্কুলুবানা ‘আলা দ্বীনিক”…

[১০ জানুয়ারি, ২০১৪]

যদি কিছু ভালো না লাগে, অস্থির লাগে তাহলে কিছু আইডিয়া

কিছু কিছু সময় আছে যখন ‘কেন যেন ভালো লাগতেসেনা’ টাইপের ফিলিং হয়। বয়ঃসন্ধিকালে যখন এরকম হতো, তখন বইপত্র ঘেঁটে এইটার কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে পড়ে নিজেকে বুঝ দিয়েছিলাম যে এখন আসলে শরীর-মনে পরিবর্তন আসছে তাই একটু মন খারাপ/উদাস হতেই পারে। সমস্যা সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়েছিলো। ভার্সিটি লাইফে উপলব্ধি করলাম হল জীবনটা হলো সুতোকাটা ঘুড়ির মতন, এখানে ‘কী যেন নেই’ অনুভূতি আরো বেড়ে গিয়েছিলো। আশেপাশে সবাইকে দেখে টের পেতাম, এরকম অনুভূতিকে খুব কম ছেলেই আলাদা ধরতে পারত, কিন্তু পালিয়ে বাঁচতে তাস খেলা, কম্পিউটার গেমস, মুভি দেখা টাইপের অর্থহীন সময় নষ্টের কাজের মাঝেই ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ খুঁজে নিতো, কিন্তু কখনই অন্তরের শূণ্যতা দূর করতে পারত না কেউ। মনের সাথে সামনে দাঁড়িয়ে বোঝাপড়া করার সাহসটাই বেশিরভাগ মানুষের থাকে না, মনকে তখন ‘চিন্তা এড়িয়ে’ যেতে দেয় সবাই। সমস্যার সমাধান তখন আর হয়না ।

সমাধান নিয়ে ভেবেছিলাম তখনো। ইদানিং বেশ কিছু আলোচনা আর বই আল্লাহ সামনে এনে দিয়েছেন যা থেকে শিখছি, মূল সমাধান আসলে খুবই সরল — জীবনের কেন্দ্রে আল্লাহকে নিয়ে আসা, প্রতিটা কাজেই আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজা। যখন ছোট ছোট কাজেও আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই এবং তা করে আল্লাহকে খুশি করতে চাই তখন তা সহজ করে দেন আল্লাহ। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা সবসময় চাইনা, ভুলে যাই বা বিষয়টিতে আনন্দ পাইনা বলে আগ্রহ একরকম থাকে না সবসময়। আমাদের মন খুবই পরিবর্তনশীল, দু’আ করা উচিত — ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কুলুবানা ‘আলা দ্বীনিক’।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে কেন্দ্রে রেখে জীবনের কাজগুলো করতে চাইলে কিছু চেষ্টা করতে হবে। প্রথমত, জানা দরকার যে এমনটা হবেই, দুনিয়াতে অন্তর কখনো পূর্ণ হবেনা, শূণ্যতা থাকবেই। কেবলমাত্র যেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাক্ষাত লাভ করবে রূহ, সেদিন আমরা প্রশান্ত হব, শান্তি পাবো। দ্বিতীয়ত, অন্তরকে সঠিক পথে ধরে রাখতে কিছু ছোট ছোট কাজ করা যেতে পারে —

# অনর্থক কথা বলা, অন্যের গীবত করায় কোন কল্যাণ নেই। এইসব কথাবার্তা এড়িয়ে চলা উচিত। কল্যাণকর কথা বলা, সম্ভব হলে জ্ঞানী ও দ্বীনি বন্ধু/ভাইদের সান্নিধ্য খোঁজা। না থাকলে নির্জনতায় জ্ঞানার্জনের জন্য বইকে সঙ্গী করার চেষ্টা করা।

# সবসময় অযুর মধ্যে থাকা। একবার অযু ভেঙ্গে গেলে, আবার অযু করা। এতে পবিত্র ভাব থাকে, শরীর-মন চনমনে থাকে, ইবাদাতের প্রতি একটা স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্ক্ষা আসে।

# সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, নিজেকেও পরিপাটি করে রাখা। নিজের ‘ড্রেস-আপ এবং টার্ন-আউট’ অনেক প্রভাব ফেলে মানসিকতায়।

# গান না শোনাঃ একজন দ্বীনদার মুসলিম বাদ্যযন্ত্র সহকারে তৈরি হওয়া প্রচলিত নষ্টধারার গান শুনবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তবুও কখনো এরকম ভুল যেন না হয়। গানের কথাগুলো বেশিরভাগেই প্রেম-বিরহ এবং শিরক বিষয়ে হয়ে থাকে, যা শুনলেও তা পথভ্রষ্ট করে উদাস করবে, নইলে মনকে সুরের মূর্ছনায় নিয়ে মনকে শূণ্যতা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবার মত কোন পথে নিয়ে যাবে, ইবাদাতের প্রতি ভালোবাসাকে কমিয়ে ফেলবে।

# কুরআন তিলাওয়াত করাঃ কুরআন তিলাওয়াত করা অন্তরকে প্রশান্ত করে। যেকোন অশান্তিকে দূর করে। জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহর গ্রন্থের এই এক অসাধারণ গুণ, সুবহানাল্লাহ!

# সলাত আদায় করাঃ দুই রাকা’আত সলাত আদায় করলেও মন প্রশান্ত ও কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবার কথা। নামাযের সিজদার সময় বান্দা আল্লাহর সবচাইতে নিকটবর্তী হয়। এই সময়টা পেলে অন্তরও প্রশান্ত হবেই ইনশাআল্লাহ। মুসলিম হিসেবে সলাত আমাদের জন্য চক্ষুশীতল করা শান্তি এনে দেবে — এটা তো আমাদের ঐতিহ্য।

♥ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, মনে রাখতে হবে কোন অবস্থাতেই বিষণ্ণতাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। মনটাকে সবসময় কাজ দিতে হবে। ভালো লাগা পছন্দের কাজে (যা কল্যাণকর) যত ছোটই হোক তা করা উচিত, এতে মন প্রফুল্ল থাকে। যেকোন নেতিবাচক চিন্তা আমাদের সৃষ্টিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সম্ভাবনাকে নষ্ট করে, ঈমানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে, সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতা হবে। বিভিন্ন বিষয় থেকে ভালো খুঁজে নিতে হবে, মন্দটুকু নিয়ে চিন্তা ও আলাপ করা ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না। ♥

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন আমাদেরকে প্রচেষ্টাগুলোকে কবুল করেন, আমাদেরকে ‘নাফসুল মুতমাইন্নাহ’ বা প্রশান্ত আত্মাকে ধারণ করার তাওফিক দেন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে পরিচালিত করেন। আমিন।


রেফারেন্স

# লা তাহযান, হতাশ হবেন না – ড আইদ আল কারনি (peace পাবলিকেশন্স, মূল্য ২৪০ টাকা, প্রাপ্তিস্থান: কাঁটাবন মসজিদ কমপ্লেক্স)
# ভিডিও লেকচার : শাইখ হামজা ইউসুফ