হামিংবার্ড ও আমরা

একটা বনে আগুন লেগেছে। সমস্ত বন তোলপাড়, সব প্রাণিরা এসে ভীড় করেছে আগুণের চারপাশে। সবাই হা-হুতাশ করছে এখন কী হবে ভেবে। সেই বনের পাশে একটা খাল ছিলো। বনের একটা হামিংবার্ড ছুটে গেলো সেই খালে, তার ছোট্ট ঠোঁটে পানি নিয়ে এসে ফেলেছিলো আগুনে, তারপর আবার ছুটে যাচ্ছিলো খালে, আবার পানি এনে আগুনে ফেলে দিচ্ছিলো। হামিংবার্ডের এই কাজ দেখে অন্য জন্তু-জানোয়ারগুলো অবাক! সবাই জানে সবচাইতে ছোট্ট পাখি এই হামিংবার্ড, তাই ওকে তাচ্ছিল্যভরে একজন জিজ্ঞেস করলো — “তুমি এটা কী করছো হামিং?”। ছোট পাখিটি উত্তর দিলো, “আমার সামর্থ্যে যতটুকু সম্ভব, আমি ততটুকুই করছি”।

আসলেই তো, আমার জীবনে আমি আমার যোগ্যতার কতখানি কী করেছি?

আমরা যদি পরিবর্তন চাই সমাজে, নিজেই হবো সেই পরিবর্তন, আমরা যদি সমাজকে সুন্দর করে চাই, নিজেই হবো সেই সুন্দর। আমরা অন্যদের কাছে নিজের জন্য যেমনটা চাই, আগে নিজেই সেই আচরণ করবো সবার সাথে।

  • আমাদের মাঝে যারা গান গাইতে পারে, তারা হয়ত সুন্দর, অনুপ্রেরণাময় গান গেয়ে উদ্বোধিত করতে পারে অন্য আরো অনেককে।
  • যারা সুন্দর করে কথা বলতে পারে, তারা সবাইকে ডাকবে সুন্দরের পথে তাদের কথা দিয়ে, বক্তব্য দিয়ে।
  • যারা অভিনয় করতে পারে, আঁকতে পারে, তারা সৃষ্টিশীলতায় ছড়িয়ে দিবে তাদের ভিতরের স্বপ্নগুলো।
  • যারা অন্যের সাথে মিশতে পারে, তারা ছুটে যাবে আরো শত-সহস্র মানুষের কাছে, ভাগাভাগি করে নিবে তাদের কষ্টগুলো, স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে দিবে তাদের মাঝে।

কে বলেছে আমরা পারিনা? আমরা যদি অমন একশ প্রাণ আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু নিংড়ে দিই, আমরা অবশ্যই আরো অন্তত একহাজার প্রাণকে উদ্বোধিত করতে পারবো, অনুপ্রেরণা দিতে পারবো, হাসি এনে দিতে পারবো তাদের মুখে। আমরা নতুন প্রজন্ম, আমরা নতুন প্রাণের শক্তি। আমরাই পারব ইনশাআল্লাহ। অতীতের ইতিহাস দেখলে আমরা দেখতে পাবো, এই পৃথিবীর বড় বড় পরিবর্তন সবসময় অল্প কিছু মানুষই এনেছে, তারা সবসময়েই মানুষ ছিলো, খুব সুন্দর, প্রাণোচ্ছ্বল, স্বপ্নবাজ আর কর্মঠ কিছু মানুষ!


আনুসঙ্গিক লিঙ্কঃ

অমল আহমেদ আলবাজের ইউটিউব ভিডিওঃ TEDxIB@YORK

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *