যদি কিছু ভালো না লাগে, অস্থির লাগে তাহলে কিছু আইডিয়া

কিছু কিছু সময় আছে যখন ‘কেন যেন ভালো লাগতেসেনা’ টাইপের ফিলিং হয়। বয়ঃসন্ধিকালে যখন এরকম হতো, তখন বইপত্র ঘেঁটে এইটার কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে পড়ে নিজেকে বুঝ দিয়েছিলাম যে এখন আসলে শরীর-মনে পরিবর্তন আসছে তাই একটু মন খারাপ/উদাস হতেই পারে। সমস্যা সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়েছিলো। ভার্সিটি লাইফে উপলব্ধি করলাম হল জীবনটা হলো সুতোকাটা ঘুড়ির মতন, এখানে ‘কী যেন নেই’ অনুভূতি আরো বেড়ে গিয়েছিলো। আশেপাশে সবাইকে দেখে টের পেতাম, এরকম অনুভূতিকে খুব কম ছেলেই আলাদা ধরতে পারত, কিন্তু পালিয়ে বাঁচতে তাস খেলা, কম্পিউটার গেমস, মুভি দেখা টাইপের অর্থহীন সময় নষ্টের কাজের মাঝেই ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ খুঁজে নিতো, কিন্তু কখনই অন্তরের শূণ্যতা দূর করতে পারত না কেউ। মনের সাথে সামনে দাঁড়িয়ে বোঝাপড়া করার সাহসটাই বেশিরভাগ মানুষের থাকে না, মনকে তখন ‘চিন্তা এড়িয়ে’ যেতে দেয় সবাই। সমস্যার সমাধান তখন আর হয়না ।

সমাধান নিয়ে ভেবেছিলাম তখনো। ইদানিং বেশ কিছু আলোচনা আর বই আল্লাহ সামনে এনে দিয়েছেন যা থেকে শিখছি, মূল সমাধান আসলে খুবই সরল — জীবনের কেন্দ্রে আল্লাহকে নিয়ে আসা, প্রতিটা কাজেই আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজা। যখন ছোট ছোট কাজেও আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই এবং তা করে আল্লাহকে খুশি করতে চাই তখন তা সহজ করে দেন আল্লাহ। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা সবসময় চাইনা, ভুলে যাই বা বিষয়টিতে আনন্দ পাইনা বলে আগ্রহ একরকম থাকে না সবসময়। আমাদের মন খুবই পরিবর্তনশীল, দু’আ করা উচিত — ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কুলুবানা ‘আলা দ্বীনিক’।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে কেন্দ্রে রেখে জীবনের কাজগুলো করতে চাইলে কিছু চেষ্টা করতে হবে। প্রথমত, জানা দরকার যে এমনটা হবেই, দুনিয়াতে অন্তর কখনো পূর্ণ হবেনা, শূণ্যতা থাকবেই। কেবলমাত্র যেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাক্ষাত লাভ করবে রূহ, সেদিন আমরা প্রশান্ত হব, শান্তি পাবো। দ্বিতীয়ত, অন্তরকে সঠিক পথে ধরে রাখতে কিছু ছোট ছোট কাজ করা যেতে পারে —

# অনর্থক কথা বলা, অন্যের গীবত করায় কোন কল্যাণ নেই। এইসব কথাবার্তা এড়িয়ে চলা উচিত। কল্যাণকর কথা বলা, সম্ভব হলে জ্ঞানী ও দ্বীনি বন্ধু/ভাইদের সান্নিধ্য খোঁজা। না থাকলে নির্জনতায় জ্ঞানার্জনের জন্য বইকে সঙ্গী করার চেষ্টা করা।

# সবসময় অযুর মধ্যে থাকা। একবার অযু ভেঙ্গে গেলে, আবার অযু করা। এতে পবিত্র ভাব থাকে, শরীর-মন চনমনে থাকে, ইবাদাতের প্রতি একটা স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্ক্ষা আসে।

# সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, নিজেকেও পরিপাটি করে রাখা। নিজের ‘ড্রেস-আপ এবং টার্ন-আউট’ অনেক প্রভাব ফেলে মানসিকতায়।

# গান না শোনাঃ একজন দ্বীনদার মুসলিম বাদ্যযন্ত্র সহকারে তৈরি হওয়া প্রচলিত নষ্টধারার গান শুনবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তবুও কখনো এরকম ভুল যেন না হয়। গানের কথাগুলো বেশিরভাগেই প্রেম-বিরহ এবং শিরক বিষয়ে হয়ে থাকে, যা শুনলেও তা পথভ্রষ্ট করে উদাস করবে, নইলে মনকে সুরের মূর্ছনায় নিয়ে মনকে শূণ্যতা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবার মত কোন পথে নিয়ে যাবে, ইবাদাতের প্রতি ভালোবাসাকে কমিয়ে ফেলবে।

# কুরআন তিলাওয়াত করাঃ কুরআন তিলাওয়াত করা অন্তরকে প্রশান্ত করে। যেকোন অশান্তিকে দূর করে। জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহর গ্রন্থের এই এক অসাধারণ গুণ, সুবহানাল্লাহ!

# সলাত আদায় করাঃ দুই রাকা’আত সলাত আদায় করলেও মন প্রশান্ত ও কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবার কথা। নামাযের সিজদার সময় বান্দা আল্লাহর সবচাইতে নিকটবর্তী হয়। এই সময়টা পেলে অন্তরও প্রশান্ত হবেই ইনশাআল্লাহ। মুসলিম হিসেবে সলাত আমাদের জন্য চক্ষুশীতল করা শান্তি এনে দেবে — এটা তো আমাদের ঐতিহ্য।

♥ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, মনে রাখতে হবে কোন অবস্থাতেই বিষণ্ণতাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। মনটাকে সবসময় কাজ দিতে হবে। ভালো লাগা পছন্দের কাজে (যা কল্যাণকর) যত ছোটই হোক তা করা উচিত, এতে মন প্রফুল্ল থাকে। যেকোন নেতিবাচক চিন্তা আমাদের সৃষ্টিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সম্ভাবনাকে নষ্ট করে, ঈমানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে, সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতা হবে। বিভিন্ন বিষয় থেকে ভালো খুঁজে নিতে হবে, মন্দটুকু নিয়ে চিন্তা ও আলাপ করা ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না। ♥

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন আমাদেরকে প্রচেষ্টাগুলোকে কবুল করেন, আমাদেরকে ‘নাফসুল মুতমাইন্নাহ’ বা প্রশান্ত আত্মাকে ধারণ করার তাওফিক দেন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে পরিচালিত করেন। আমিন।


রেফারেন্স

# লা তাহযান, হতাশ হবেন না – ড আইদ আল কারনি (peace পাবলিকেশন্স, মূল্য ২৪০ টাকা, প্রাপ্তিস্থান: কাঁটাবন মসজিদ কমপ্লেক্স)
# ভিডিও লেকচার : শাইখ হামজা ইউসুফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *