অদ্ভুত সুন্দর অনুপ্রেরণার গল্প : ডুবন্ত জাহাজ ও বেঁচে যাওয়া নাবিক

​একবার একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। ঝড়ের তোড়ে সবাই হারিয়ে গেলেও মাত্র একজন লোক বেঁচে গেলো। জ্ঞান ফিরে পাবার পর লোকটি নিজেকে একটি নির্জন দ্বীপের আবিস্কার করলো। প্রতিটা মূহুর্ত সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো যেন কেউ এসে তাকে উদ্ধার করে। তার প্রার্থনা এক সময় হতাশায় পরিণত হলো; কেউ এলো না তাকে উদ্ধার করতে। সে উদ্ধার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে শেষতক নিজেকে দ্বীপটির সাথে মানিয়ে নিলো।

এভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলো। লোকটি এর মধ্যে নির্জন দ্বীপটিতে যুদ্ধ করে টিকে থাকা শিখে গেছে। খিদে লাগলে সে মাছ ধরে, ছোট প্রানী শিকার করে কিংবা ফলমূল দিয়ে আহার করে। শক্ত লতাপাতা, খড়কুটো এবং বড় গাছের গুড়ি দিয়ে সে একটি কুড়েঘর ও বানিয়ে ফেললো।

একদিন লোকটি খাবারের সন্ধানে বের হলো। সন্ধ্যার দিকে কিছু পাখি ধরে আনার পর সেগুলো আগুনে ঝলসাতে বসলো কিন্তু অসাবধানতাবশতঃ কুঁড়েঘরে আগুন লেগে গেলো। কুঁড়েঘরটি সমুদ্র তীর থেকে কিছুটা দূরে ছিলো, তাই সে পানি ব্যবহার করতে পারলো না এবং অন্য কোনোভাবেই আগুন নেভাতে পারলো না। মোটা কাঠের গুড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। লোকটির এতদিনকার সব পরিশ্রম চোখের সামনে ভস্মীভূত হতে দেখে লোক টি প্রচন্ড রাগ এবং ক্ষোভে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে দুই হাত উচু করে চিৎকার করতে লাগলো-

“হে খোদা, আমার সাথে এমন কেন করলে? আমি দিনের পর দিন তোমার কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমাকে কেউ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, কিন্তু কেউ আসেনি। এখন তুমি আমার শেষ সম্বলটাও আগুনে জ্বালিয়ে দিলে। কেন এমন করলে আমার সাথে?”

এরপর লোকটি বালুতে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে শুরু করলো। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর লোকটি জাহাজের ভেঁপু শুনে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো একটি জাহাজ এদিকেই আসছে। জাহাজ থেকে লোক নেমে এসে লোকটিকে উদ্ধার করার পর লোকটি ক্যাপ্টেনের কাছে তাকে কিভাবে খুঁজে পেলো জানতে চাইলো।
ক্যাপ্টেন উত্তর দিলেন, আমরা দ্বীপের অপর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত এদিকে আগুনের শিখা দেখে ভাবলাম কেউ উদ্ধার পাবার জন্য আগুন জ্বালিয়েছে। তাই জাহাজ ঘুরিয়ে এদিকে আসতেই আপনাকে পেয়ে গেলাম।

…………….

আমাদের জীবনেও এমন একের পর এক সমস্যা আর বিপদ এসে আমাদেরকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। কিন্তু আল্লাহ এই খারাপ সময় এবং সমস্যাগুলোতে যে পরবর্তীতে আমাদের কল্যাণ সাধন করার জন্যই দেন এটা আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা।

তাই বিপদে বা সমস্যায় পড়লে আল্লাহকে ভুলে না গিয়ে তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস রাখুন, যা কিছু হয়েছে তা কল্যাণকর হয়েছে। ইনশাআল্লাহ যা কিছু হবে, তা ভালো হবে। নিশ্চয়ই মু’মিনদের জীবনের বিপদ-আপদ ও কষ্ট-যন্ত্রণা সবই কল্যাণকর।

[গল্পটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *