আশা ও ভালোবাসার কথা

মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত। যখন আপনি এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পাবেন যারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে, যারা এই চলমান অন্যায়-অস্থিরতা-হত্যা-খুনের পৃথিবীর মাঝেও অদম্য আশাবাদের সুতোয় মালা গাঁথে–তখন আপনিও আশাবাদী হবেন আপনার জীবন নিয়ে। তখন নিজ জীবনকেও সম্ভাবনার আধার মনে হবে, মনে হবে একদিন চারপাশকে নিয়ে আপনি সুখ আনতে পারবেন। টের পাবেন আপনি বিশ্বাস করছেন যে চলমান কষ্টের সময়টা কেটে গেলেই আপনি আবার সুন্দর সময় খুঁজে পাবেন। এই আশাবাদের তরী বেয়ে চলেই এসেছে মানবজাতি এতটা পথ। নতুবা প্রতিটি মানুষের জীবনেই যে ভীষণ ধাক্কা আসে জীবনের একেকটি ক্ষেত্রে, মানুষকে পরাজিত হয়ে পদদলিত হতে থাকতে হত। কিন্তু সম্ভাবনাকে আঁকড়েই মানুষ এগিয়ে যায়।

আপনি যখন অসার ও নিরর্থক কথাবার্তা বলা, কুচিন্তা করা মানুষদের সাথে চলতে থাকবেন। দেখবেন আপনি একজন মানুষকে দেখলে তাকে সন্দেহভাজন মনে করবেন। অতিরিক্ত পাপ নিয়ে আলোচনা করতে করতে হয়ত আপনার কাউকে দেখলেই তার পাপ নিয়ে ধারণা করতে শুরু করবেন। অথচ অধিকাংশ মানুষের মাঝেই সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে। আপনি কেন কাউকে দেখলে অযথা সন্দেহ করতে থাকবেন? অকারণে কাউকে নিয়ে সন্দেহ করা ও ধারণা পোষণ করা তো আমাদের মনগুলোকে বিষিয়ে দেয়, তিক্ত করে দেয়–আমাদেরকে বন্দী করে এক অজানা কারাগারে।

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে এই বাংলার স্বাধীনতাকে উপনিবেশিকতায় বানিয়ে দিলো, মানুষ যখন ব্রিটিশদের খেলার বস্তু, দাসে পরিণত হলো–তখন কিছু মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফকির ও আলেমগণ করেছিলেন বিদ্রোহ। ফরায়েজি আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলন, ফকির বিদ্রোহ এবং সিপাহী বিদ্রোহে মুক্তিপাগল অসম্ভবকে কল্পনাকারী প্রতিপক্ষ সমগ্র পৃথিবীতে আধিপত্যবাদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। তাদের লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ধীরে ধীরে ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি পায় এই বাংলা। আধিপত্যবাদ কি থেমে থেকেছে? হয়ত মুক্তিপাগল প্রাণ, আশাবাদী প্রাণ কমে গেছে।

অথচ সবকিছু বদলে দিতে লাগে কেবল ইচ্ছা। আশাবাদী প্রাণগুলোই বদলে দেয় কদর্যতা ও কঠিন সময়। তারা গড়ে নেয় অসম্ভবকে সম্ভব করে। যারা মনের বাঁধা, নেগেটিভ চিন্তার বলয় পেরিয়ে স্বপ্ন দেখে সুন্দর ভবিষ্যতের, কেবল তারাই গড়ে তোলে সুন্দর পৃথিবী। অলসতা যাদের থাকে, যাদের থাকে ‘হবে না’, পারা যাবে না’ টাইপের চিন্তাভাবনা– তারা কেবল পদদলিত হয়। ধ্বংস করে নিজ জীবন এবং চারপাশকে। তাই, “আমি পারবোই” একথা বলে যারা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারাই নিয়ে আসে অন্ধকার রাতের পরে একটি সুন্দর দিনের সূর্যোদয়।

তবে যেকোন পরিবর্তনের শুরুতেই প্রয়োজন হয় ভালোবাসা। নিজ জীবনের, পরিবারের, সমাজের সকল পরিবর্তনের শুরু হয় ভালোবাসার স্ফূলিঙ্গ থেকে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারা একটি অমূল্য গুণ। পৃথিবীতে ভালোবাসার বড্ড আকাল। কুৎসা, নোংরামি, পরনিন্দা, কুধারণা, কূটনামিতে ভরে গেছে নাগরিক মনগুলো। আমরা চাইলেই বদলে দিতে পারি আমাদের উজাড় করা ভালবাসা দিয়ে। একদিনে কিছু বদলে যায় না, কিন্তু এরকম প্রতিদিনের একেকটি প্রত্যয় আমাদের বদলে দেবে অনেকখানি, অ-নে-ক বেশি! হয়ত সেদিন আপনার নিজেকেই আপনি চিনতে পারবেন না!

সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে সবখানে! তাকে কুড়িয়ে নিয়ে রাখুন আপন মনের মাঝারে…

[১৩ আগস্ট, ২০১৫]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *