বিদায় ২০১৫ : পাওলো কোয়েলহো

goodbye2015
​​বিদায় ২০১৫

সবাইকে জানতে হয় কখন কোনো একটা পর্যায় শেষ হয়। যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি সময় তাকে থাকার জন্য যদি আমরা জোর খাটাই, আমরা শান্তি হারিয়ে ফেলবো। আরো হারাবো সেই পর্যায়টির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে যা শেখা যায় সে ব্যাপারগুলোকেও।

কোনো একটি পর্যায়ের শেষ, দরজা বন্ধ হওয়া, অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি — যে নামটিই আমরা দেই না কেন, যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো জীবনের যে মূহুর্তগুলো শেষ হয়ে গেলো, তাদের ছেড়ে দেয়া।

আপনি কি চাকরিটা হারিয়েছেন? ভালোবাসার সম্পর্কটি শেষ হয়ে গেছে? বাবা-মায়ের বাড়িটি ছেড়ে আসতে হয়েছে? দেশ ছেড়ে প্রবাসে গিয়েছেন? দীর্ঘকাল ধরে চলা বন্ধুত্বের সম্পর্কটি হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে? 

আপনি দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন কেন এমনটা হলো তা ভাবতে ভাবতে। 

আপনি নিজেকে নিজে বলতেই পারেন– যে জিনিসটি আপনার জীবনে এতটা দৃঢ়ভাবে ছিলো, এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো তা হঠাৎ করে কেন এমন করে ধূলিস্মাত হয়ে গেলো তার কারণ উদঘাটন না করে আপনি আর একটি পদক্ষেপও দিবেন না সামনের দিকে।

কিন্তু এমন আচরণ আপনার সাথে জড়িয়ে থাকা সবগুলো মানুষকে তীব্র কষ্টের মাঝে রাখবে – আপনার বাবা-মা, আপনার স্বামী কিংবা স্ত্রী, আপনার ভাই-বোন, সন্তান, বন্ধুদের।

সবাই তাদের নিজ অধ্যায়গুলো শেষ করে চলেছে, নতুন পাতা উল্টেছে, জীবনে সবাই যখন এগিয়ে চলেছে তখন আপনাকে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে সবার খারাপ লাগবে।

সবকিছুই পেরিয়ে যায়। সবচেয়ে  ভালো যে কাজটি আপনি করতে পারেন তা হলো সত্যিকারভাবে পার হয়ে যেতে দিন।

সে কারণেই যে কাজটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ (যত কষ্টেরই হোক না কেন) তা হলো স্মৃতিগুলো ধ্বংস করে ফেলা। এগিয়ে চলুন, এতিমদের অনেক কিছু দান করুন, আপনার কাছে থাকা বইগুলো বিক্রি করুন নয়ত উপহার দিয়ে দিন।

আপনি যা কিছু দেখতে পান, তার সবকিছুই অদৃশ্য জগতের একটা স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি– তাই কিছু স্মৃতিদের হাত থেকে নিজেকে মুক্তি দেয়া মানে অন্যান্য স্মৃতিদের সেখানে কিছু জায়গা করে দেয়া।

যা কিছু যাবার যেতে দিন। মুক্তি দেন সেগুলোকে। নিজেকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে নিন। জীবনকে কেউ কখনো স্পষ্ট করে বুঝতে পারে না; তাই আমরা কখনো জয়ী হই এবং কখনো হেরে যাই।

কোন কিছুর বিনিময় চেয়ে কাজ করবেন না, আশা করবেন না আপনার কাজগুলো প্রশংসিত হবে। তেমনি আশা করবেন না আপনার প্রতিভার স্ফূরণ হবে, আপনার ভালোবাসা কেউ বুঝতে পারবে।

আপনার আবেগের টেলিভিশনে একই অনুষ্ঠান একটানা বারবার করে দেখা বন্ধ করুন যেখানে আপনি দেখতে পান কেমন করে আপনার একটা ক্ষত হয়েছিলো আর তাতে আপনি কতটাই না ভুগেছেন– এমন ব্যাপার তো আপনাকে শুধুই বিষাক্ত করে চলেছে, আর কিছুই নয়।

আপনার ভালোবাসার যে সম্পর্কটি ভেঙ্গে গেছে, তাকে গ্রহণ করতে না পারার মতন ভয়ংকর ব্যাপার তো আর নেই। তেমনই ভয়ংকর হলো এমন কাজ যার কোন শুরু হবার তারিখ নেই, এমন সিদ্ধান্ত যা সবসময় ‘উপযুক্ত মূহুর্তটির’ জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়।

একটা নতুন অধ্যায় শুরু করার আগে আগেরটা শেষ হতে হয়। নিজেকে বলুন যে যা চলে গেছে তা আর ফিরে আসবে না। নিজেকে সেই সময়টার কথা মনে করিয়ে দিন যখন আপনি সেই মানুষটি কিংবা সেই জিনিসগুলো ছাড়াই আপনি বেঁচে থাকতে পারতেন — কোনো কিছুই তো অপূরণীয় নয়। একটা অভ্যাস তো আর অভাব নয়। হয়ত কথাটি বেশি সরল শোনাচ্ছে, হয়ত ব্যাপারটি খুব বেশি কঠিন, কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু চক্র বন্ধ হয়। তা কোন অহংকার, অযোগ্যতা, দম্ভের জন্য নয় বরং স্রেফ তা আপনাকে সাথে আর যায় না। দরজা বন্ধ করুন, স্মৃতিখাতাকে বদলে ফেলুন, ঘরদোর পরিষ্কার করুন, ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলুন।

আপনি যা ছিলেন তা থেকে বদলে আপনি প্রকৃতপক্ষে যা , সেটিই হয়ে যান।

—– পাওলো কোয়েলহো

অদ্ভুত সুন্দর অনুপ্রেরণার গল্প : ডুবন্ত জাহাজ ও বেঁচে যাওয়া নাবিক

​একবার একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। ঝড়ের তোড়ে সবাই হারিয়ে গেলেও মাত্র একজন লোক বেঁচে গেলো। জ্ঞান ফিরে পাবার পর লোকটি নিজেকে একটি নির্জন দ্বীপের আবিস্কার করলো। প্রতিটা মূহুর্ত সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো যেন কেউ এসে তাকে উদ্ধার করে। তার প্রার্থনা এক সময় হতাশায় পরিণত হলো; কেউ এলো না তাকে উদ্ধার করতে। সে উদ্ধার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে শেষতক নিজেকে দ্বীপটির সাথে মানিয়ে নিলো।

এভাবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলো। লোকটি এর মধ্যে নির্জন দ্বীপটিতে যুদ্ধ করে টিকে থাকা শিখে গেছে। খিদে লাগলে সে মাছ ধরে, ছোট প্রানী শিকার করে কিংবা ফলমূল দিয়ে আহার করে। শক্ত লতাপাতা, খড়কুটো এবং বড় গাছের গুড়ি দিয়ে সে একটি কুড়েঘর ও বানিয়ে ফেললো।

একদিন লোকটি খাবারের সন্ধানে বের হলো। সন্ধ্যার দিকে কিছু পাখি ধরে আনার পর সেগুলো আগুনে ঝলসাতে বসলো কিন্তু অসাবধানতাবশতঃ কুঁড়েঘরে আগুন লেগে গেলো। কুঁড়েঘরটি সমুদ্র তীর থেকে কিছুটা দূরে ছিলো, তাই সে পানি ব্যবহার করতে পারলো না এবং অন্য কোনোভাবেই আগুন নেভাতে পারলো না। মোটা কাঠের গুড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। লোকটির এতদিনকার সব পরিশ্রম চোখের সামনে ভস্মীভূত হতে দেখে লোক টি প্রচন্ড রাগ এবং ক্ষোভে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে দুই হাত উচু করে চিৎকার করতে লাগলো-

“হে খোদা, আমার সাথে এমন কেন করলে? আমি দিনের পর দিন তোমার কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমাকে কেউ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, কিন্তু কেউ আসেনি। এখন তুমি আমার শেষ সম্বলটাও আগুনে জ্বালিয়ে দিলে। কেন এমন করলে আমার সাথে?”

এরপর লোকটি বালুতে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে শুরু করলো। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর লোকটি জাহাজের ভেঁপু শুনে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো একটি জাহাজ এদিকেই আসছে। জাহাজ থেকে লোক নেমে এসে লোকটিকে উদ্ধার করার পর লোকটি ক্যাপ্টেনের কাছে তাকে কিভাবে খুঁজে পেলো জানতে চাইলো।
ক্যাপ্টেন উত্তর দিলেন, আমরা দ্বীপের অপর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত এদিকে আগুনের শিখা দেখে ভাবলাম কেউ উদ্ধার পাবার জন্য আগুন জ্বালিয়েছে। তাই জাহাজ ঘুরিয়ে এদিকে আসতেই আপনাকে পেয়ে গেলাম।

…………….

আমাদের জীবনেও এমন একের পর এক সমস্যা আর বিপদ এসে আমাদেরকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। কিন্তু আল্লাহ এই খারাপ সময় এবং সমস্যাগুলোতে যে পরবর্তীতে আমাদের কল্যাণ সাধন করার জন্যই দেন এটা আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা।

তাই বিপদে বা সমস্যায় পড়লে আল্লাহকে ভুলে না গিয়ে তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস রাখুন, যা কিছু হয়েছে তা কল্যাণকর হয়েছে। ইনশাআল্লাহ যা কিছু হবে, তা ভালো হবে। নিশ্চয়ই মু’মিনদের জীবনের বিপদ-আপদ ও কষ্ট-যন্ত্রণা সবই কল্যাণকর।

[গল্পটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত]

১০টি চীনা প্রবাদ যা অনেক কিছুকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়ে দেবে

নদীর স্রোতধারার গভীরতা মাপতে যেয়ে কখনো দু’টি পা-ই ডুবিয়ো না।

যে ফুল উপহার দেয়, তার হাতে কিছুটা সুগন্ধ লেগে থাকে।

পাখি এই কারণে গান গায় না যে সে কোন প্রশ্নের উত্তর জানে। পাখি গান গায় কারণ তার একটি গান আছে।

ধীরগতিতে বড় হবার কারণে ভয় পেয়ো না, ভয় করো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকে।

কাউকে একটি মাছ দিলে তাকে তুমি একদিন খেতে দিলে, কাউকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে তুমি তাকে সারাজীবন খাওয়ার সুযোগ করে দিলে।

তুমি যা করো  তা যদি তুমি কাউকে জানতে দিতে না চাও, তাহলে সে কাজ কখনো করিয়ো না।

ভালো উপদেশ তিতা ঔষধের মতন।

চরিত্রে যদি সৌন্দর্য থাকে তাহলে ঘরে মিল থাকবে। ঘরে মিল থাকলে তা জাতির মাঝে শৃঙ্খলা বয়ে আনবে। জাতির মাঝে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে।

“চেষ্টা” শব্দটি বুঝায় সাহস, “পারি” শব্দটি বুঝায় ক্ষমতা।

নদীর পাশে দাঁড়িয়ে মাছের আশা করে বসে থেকো না, বাড়ি ফিরে যাও এবং জাল বুনে নিয়ে এসো।

….
উৎস: স্পিরিট সাইন্স ডট নেট

ঐ পারেতে সর্বসুখ বোকাদের বিশ্বাস

এক বনে এক কাক বাস করতো।
কাকটি তার জীবন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু একদিন সে একটি রাজহাঁস দেখতে পেল…
কিন্তু কথায় আছে, “নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ও পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।” কাকটি ভাবলো, আহা! রাজহাঁস কতই না সুন্দর!  নিশ্চয়ই সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পাখি। কাকটি তার এই ভাবনার কথা রাজহাঁসকে জানালো।

রাজহাঁস জবাব দিলো, “আসলে, আমি ভাবতাম আমিই বুঝি এখানকার সবচেয়ে সুখী পাখি যতক্ষণ না আমি একটি টিয়াকে দেখলাম… টিয়ার গায়ে আছে দু’ধরনের রং। তাই এখন আমি মনে করি, টিয়াই হলো সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে সুখী পাখি।”

কাক এরপর গেল টিয়ার কাছে। টিয়া তাকে বললো, “আমি ছিলাম খুব খুব সুখী, যতক্ষণ না আমি ময়ূরকে দেখতে পেলাম…… আমার গায়ে তো মাত্র দু’টি রং, আর ময়ূরের শরীরে কত বর্ণেরই না সমাহার!”

কাক এরপর চিড়িয়াখানায় গেল ময়ূরের সাথে দেখা করতে। সেখানে সে দেখতে পেল, ময়ূরকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছে।  সবাই চলে যাওয়ার পর, কাক ময়ূরের কাছে গেল–
“ও ময়ূর, তুমি দেখতে কতই না সুন্দর! তোমাকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। আর আমি? আমাকে দেখলেই মানুষ দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয়ই জগতের সবচেয়ে সুখী পাখি।”

ময়ূর জবাব দিলো,
“আমিও ভাবতাম, আমিই বোধহয় এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর এবং সুখী পাখি। কিন্তু এই সৌন্দর্যের কারণে আমাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমি এই চিড়িয়াখানা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি কাকই হচ্ছে একমাত্র পাখি যাকে কখনোই খাঁচায় বন্দি করা হয় না।তাই গত ক’দিন যাবত আমি ভাবছি, ইশ! আমি যদি কাক হতাম, তাহলে যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পারতাম।”

………………..
এটাই হলো আমাদের সমস্যা।
আমরা অহেতুক অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করি আর দুঃখ পাই।
আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন,আমরা তার কোন গুরুত্ব দিই না। এভাবে আমরা সকলেই দুঃখের দুষ্টচক্রে পড়ে ঘুরপাক খেতে থাকি।

তাই স্রষ্টা আপনাকে যা দিয়েছেন, তার গুরুত্ব দিয়ে, সুখী হওয়ার গোপন রহস্যটা বুঝতে শিখুন আর অহেতুক অন্যদের সাথে তুলনায় নিয়ে নিজে অসুখী হওয়াকে দূরে ছুড়ে ফেলুন।

* * * * * * *
শাইখ যাহির মাহমুদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।
অনুবাদ কৃতজ্ঞতা: ইমরান হেলাল]

জীবনে যা হয় তা আসলে কল্যাণময়

এক রাজার একজন কর্মচারি ছিলো যে সবসময় যেকোন অবস্থাতেই রাজাকে বলতো, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না কেননা আল্লাহ যা করেন সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।”

একদিন তারা শিকারে বের হয় এবং এক হিংস্র প্রাণি তাদের আক্রমণ করে। রাজার কর্মচারীটি সেই প্রাণীকে মেরে ফেলতে সমর্থ হলেও রাজাকে তার একটি আঙ্গুল হারানো থেকে রক্ষা করতে পারেনি। কৃতজ্ঞ না হয়ে বরং ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা তাকে বলে ওঠে, “আল্লাহ যদি ভালো হতেন তাহলে আমাকে এই আক্রমণে পড়ে আঙ্গুল হারাতে হতো না।”

সেই কর্মচারি উত্তর দিলো, “এতকিছুর পরেও আমি বলবো, আল্লাহ অত্যন্ত ভালো এবং তিনি যা করেন সবই নিখুঁত এবং কল্যাণময়।” এ কথায় অপমানিত হয়ে রাজা তার কর্মচারিকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়।

এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হন এবং একদল বন্য মানুষদের হাতে বন্দী হয় যারা মানুষকে বলী দিত। অন্যদিকে সেই বন্য মানুষরা দেখতে পেলো রাজার একটি আঙ্গুল নেই। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিলো কেননা তারা বিশ্বাস করতো শারীরিক খুঁতসম্পন্ন কোন মানুষকে দেবতার উদ্দেশ্যে বলী দিলে তা গ্রহণ হয় না।

মুক্ত হয়ে প্রাসাদের ফেরার পথে রাজা সেই কর্মচারীটির মুক্তি ঘোষণা করে ডেকে এনে বলে, “বন্ধু, আল্লাহ আমার প্রতি সত্যি সদয় ছিলেন। আমি মৃত্যুর মুখোমুখি চলে গিয়েছিলাম কিন্তু আঙ্গুল হারানোর কারণে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে,  আল্লাহ যদি এতই ভালো হবেন, তাহলে তিনি কেন আমার দ্বারা তোমাকে কারাভোগ করতে দিলেন?”

কর্মচারী উত্তর দিলো, “রাজামশাই, আমি যদি আপনার সাথে যেতাম তাহলে তারা আমাকে বলী দিতো কেননা আমার কোন আঙ্গুলে ক্ষত নেই।  আল্লাহ যা করেন সবই নিপুণ এবং সঠিক, তিনি কখনো কোন ভুল করেন না।”

আমরা প্রায়ই জীবনের ব্যাপারে এবং জীবনে যেসব কষ্টকর বিষয়ের মুখোমুখি হই সেসব নিয়ে অভিযোগ করি। আমরা ভুলে যাই কোন কিছুই আপনাআপনি হয় না, বরং সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।  আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কেন এই কথাগুলো আপনাকে পড়ার সুযোগ করে দিলেন আজকে, তাই অনুগ্রহ করে এই মেসেজটি মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের প্রতি দয়া করুন।

সবকিছুই নির্দিষ্ট কোন কারণে ঘটে, সবকিছুর একটি উদ্দেশ্য আছে এবং তা আমাদের কল্যাণের জন্যই। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান, আল্লাহু আকবার!

(লেখাটি শাইখ যাহির মাহমুদের পেইজ থেকে সংগৃহীত ও অনূদিত)
* * * *

[২৯ আগস্ট, ২০১৩]

অনুপ্রেরণা – ১

“যে মানুষটাকে ভালোবাসি, তাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। আমাদের ভালোবাসা যদি হয় কেবল কাউকে দখল করে রাখার কোন চাওয়া, তাহলে তা ভালোবাসা নয়। আমরা যদি শুধু আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করি, শুধু আমাদের প্রয়োজনগুলোই বুঝি এবং অন্যদের প্রয়োজনকে এড়িয়ে যাই, তাহলে আমরা কখনই ভালোবাসতে পারবো না। যাদের ভালোবাসি তাদের প্রয়োজন, চাওয়া, ভালোলাগা এবং কষ্টগুলো আমাদেরকে অবশ্যই গভীরভাবে খেয়াল করতে। এটাই প্রকৃত ভালোবাসার পথ। আপনি যখন কাউকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবেন, তখন তাকে ক্রমাগত ভালোবেসে যাওয়া থেকে আপনি নিজেকে ঠেকাতে পারবেন না।” [গ্রন্থ : Peace Is Every Step: The Path of Mindfulness in Everyday Life]

* * *
“আপনাকে যারা ভালোবাসে তারা আপনার করা ভুলগুলো অথবা আপনার বাজে স্মৃতিগুলোকে মনে রাখার বোকামি করবে না। আপনাকে যখন দেখতে খারাপ লাগে তখন তারা আপনার সৌন্দর্যকে স্মরণ রাখে, আপনি যখন ভেঙ্গে পড়েন তখন আপনার পূর্ণতার সময়গুলোকে মনে রাখে, আপনি যখন অপরাধবোধে ভুগেন তখন আপনার সরলতাকে খেয়ালে রাখে এবং আপনি যখন দ্বিধায় থাকেন তখন আপনার উদ্দেশ্যকে মনে রাখে। [অ্যালান কোহেনের উদ্ধৃতির ভাবানুবাদ]

* * *
জীবনের যেসব বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ মেলেনি, সেগুলোর ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন। সেই উত্তর-না-পাওয়া প্রশ্নগুলোকেই ভালোবাসতে চেষ্টা করুন, যেমন করে আপনি গ্রহণ করে থাকেন বন্ধ দরজার একটি ঘর অথবা ভিনদেশি ভাষায় লেখা কোন একটা বই। এখনই সব উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হবেন না। আপনাকে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন দেয়া হবে না কেননা সেসব জেনে আপনি ঠিকভাবে বাঁচতে পারবেন না। তাছাড়া, এই বিষয়গুলো হলো অভিজ্ঞতার পথ দিয়ে যাওয়া। জীবনের এই দিনগুলোতে আপনার এই প্রশ্নগুলো বুকে নিয়েই বাঁচতে হবে। হয়ত, সময়ের সাথে কোন একদিন, আপনি নিজের অজান্তেই ধীরে ধীরে প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে যাবেন। [রেইনার রিলকার ‘Letters To A Young Poet’ থেকে উদ্ধৃত অংশের ভাবানুবাদ]

* * *
যারা আপনাকে সাধারণ কিছু স্নিগ্ধ ও শান্ত কথা বলে একটুখানি স্বস্তি এনে দিতে চেষ্টা করেন, তাদের দেখে  এমনটা ভেবে বসবেন না যে তাদের জীবনটা যন্ত্রণাবিহীন। তার জীবনেও দুঃখ-কষ্ট এবং যন্ত্রণা থাকতে পারে যা হয়ত আপনার চাইতেও বেশি। যদি তেমনটা না-ই হতো, তাহলে তিনি এমন কিছু শব্দ কখনো খুঁজে পেতেন না।
~ রেইনার রিলকা [অস্ট্রিয়ান ঔপন্যাসিক, ১৮৭৫-১৯২৬]

* * *
“চারপাশে অনেক ঘৃণার মাঝে আমি আমার ভেতরে এক অপরাজেয় ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছি। অনেক অশ্রুধারার মাঝে আমি নিজের ভেতরে এক প্রশান্তিকে খুঁজে পেয়েছি। তীব্র শীতের মাঝে আমি খুঁজে পেয়েছি আমার ভেতরে এক অপরাজেয় গ্রীষ্মকাল ছিলো, যা আমাকে সুখী করেছে। এগুলো উপলব্ধি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, এই পৃথিবী আমাকে যতই চাপ দিয়ে পিষ্ট করতে চেষ্টা করুক না কেন, আমার ভেতরে তার চেয়ে শক্তিশালী কিছু রয়েছে যা সেই তাকে আপন শক্তিতে ফিরিয়ে দিচ্ছে।” [আলবার্ট কামুসের উদ্ধৃতি অনুসরণে]

* * *
আপনি যেমন ঠিক তেমন করেই আরেকজনকে ভালোবাসতে দিন — থাকুক না আপনার খুঁতগুলো, কিংবা নিজেকে অনাকর্ষণীয় মনে হওয়া কিংবা নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করা। হয়ত ভেবেছেন নিখুঁত হতে পারেননি বলে হয়ত আপনাকে কেউ ভালোবাসতে পারবে না, আর সেই কারণে আপনার খুঁতগুলোকে অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। এমন বিশ্বাসের সাথে তো তুলনা চলে সেই বিশ্বাসের যাতে মনে করা হয় সূর্যের আলো এসে ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করতে পারবে না। [মার্ক হ্যাকের উদ্ধৃতির অবলম্বনে]

* * *
অসাধারণ আর চমৎকার মানুষ হিসেবে আমরা তাদেরকেই পাই যারা জীবনে পরাজিত হয়েছেন, দুঃখ-কষ্টে ভুগেছেন, জীবনযুদ্ধে ধুঁকেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন; যারা শত কষ্ট ও প্রতিবন্ধকতায় জীবনকে গভীর থেকে উপলব্ধি করেছেন। তাদের থাকে জীবনের প্রতি ভালোবাসা, স্পর্শকাতরতা, থাকে গভীর জীবনবোধ, ভাঙ্গাকে গড়ে নেয়ার প্রতি আর্তি যা তাদেরকে সহানুভূতিশীল, বিনয়ী, নম্র, দয়ার্দ্র এবং অন্যের কষ্টের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে। অসাধারণ আর সুন্দর মানুষেরা আপনা আপনিই তৈরি হয়ে যায় না। [Elisabeth Kubler-Ross-এর উদ্ধৃতির আলোকে]

* * *
“কখনো ব্যর্থ না হবার মাঝে নয়, বরং প্রতিটি ব্যর্থতার পরে উঠে দাঁড়ানোর মাঝেই আমাদের গৌরব লুকিয়ে থাকে।”~ কনফুসিয়াস

* * *
“চিন্তাগুলোর ব্যাপারে সচেতন হোন, আপনার চিন্তা মুখের কথায় পরিণত হয়,
মুখের কথার ব্যাপারে সচেতন হোন, আপনার কথা কাজে পরিণত হয়,
কাজগুলোর ব্যাপারে সচেতন হোন, আপনার কাজ স্বভাবে পরিণত হয়,
স্বভাবের ব্যাপারে সচেতন হোন, আপনার স্বভাব চরিত্রে পরিণত হয়,
চরিত্রের ব্যাপারে সচেতন হোন, কেননা তা আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করে দেবে।”
~  লাও যু, প্রাচীন চৈনিক দার্শনিক [খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক]

* * *
“যারা কথা বলে তারা জানে না, যারা জানে তারা কথা বলে না।”~ প্রাচীন চৈনিক দার্শনিক লাও-যু

* * *
“চরিত্র গড়েই উঠে পছন্দ থেকে। দিনের পর দিন, আপনি যা পছন্দ করেন,চিন্তা করেন এবং যেঁ কাজগুলো করেন  — তা আপনাকে গড়তে থাকে, একদিন তা ‘আপনি’তে পরিণত হয়।” ~ হেরাক্লিটাস

* * *
“আমি যখন জীবনের পেছনে ফিরে তাকাই, আমি উপলব্ধি করি যতবার ভেবেছিলাম আমি কোন ভালো কিছুর প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, আমাকে আসলে আরো বেশি ভালো কিছুর দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছিলো। ~স্টিভ মারাবোলি

* * *
এমন এক ভালোবাসাতে বিশ্বাস করুন যা আপনার জন্য জমা আছে যেমন থাকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ। দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন সেই ভালোবাসার মাঝে এমন সুবিশাল শক্তি আর আশীর্বাদ আছে যার মাঝে আপনি যত ইচ্ছা তত ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং সেই ভালোবাসার বৃত্ত থেকে বাইরে পা দেয়ার দরকারই আপনার হবে না। [রেইনার মারিয়া রিলকার উদ্ধৃতি অনুসরণে]

আপনার হৃদয় কি ভারাক্রান্ত?

আপনার হৃদয় কি ভারাক্রান্ত? কষ্টে-যন্ত্রণায়, অপ্রাপ্তি-অশান্তি, শঙ্কায়-অস্থিরতায় কাটাচ্ছেন? একটা ব্যাপার জানেন? পৃথিবীতে এই মূহুর্তে কোটি কোটি মানুষ আপনার চেয়েও ভয়ংকর কষ্টে সময় কাটাচ্ছে। আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই মূহুর্তটা কিন্তু বেশিদিন থাকবে না!

কষ্টের একটা সময় থাকে। প্রথম ধাক্কাটা কিছুটা তীব্র হয়। কিছু বিষয়ে আবার পরবর্তীতে কষ্টটায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে হয়। সেগুলো যেমনই হোক, মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়। সন্তানকে কবরে রেখে এসে পিতাকে বের হতে হয় জীবিকার সন্ধানে। সন্তান আর স্বামী মরে যাওয়ার পরেও একজন নারী ফিরে এসে রান্নার যোগাড় করেন অন্তত খেয়ে বেঁচে থাকতে। জীবন এমনই। আপনি যে কষ্টটিকে সহ্যের অতিরিক্ত ভাবছেন, যে ক্ষতিটাকে কল্পনাতীত ভেবে আপনার বুক ফেটে যাচ্ছে — সেটুকুকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রেরণা পেতেন আরো অসংখ্য লোক। তারা সেটুকুও পান না।

[০৩ ডিসেম্বর, ২০১৫]

কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে?

 

নিজেকে দয়া করুন, নিজের প্রতি রহমদীল হোন। কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে? প্রতিটা মানুষের জীবনের স্রোত আলাদা, একের সাথে আরেকটা মিশে না। অন্যের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এমনকি নিজের অতীতের সাথেও না। শুধু জেনে নিন, আপনার জীবনে সামনে যা আসে, তা আল্লাহর পাঠানো। কিছুতেই তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না। গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না।

আমাদের উপরে যা কিছু আসে তা আমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত নয়, এ আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা। আস্থা রাখুন নিজের উপরে। দুর্যোগ মানেই জীবন ধ্বংস নয়, হোক তা প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট। দুর্যোগ কেটে যায়। ধ্বংসস্তূপ সারিয়ে তুলতে হয় সেই আপনাকেই। তাই, অপেক্ষা করুন নতুন করে গড়ে নেয়ার। এটাই জীবন। অতিকাব্যিক কিছু নেই পৃথিবীর জীবনে। আসল সফলতা আল্লাহর কাছে। দুনিয়ায় কাজ হলো সুন্দর করে মূহুর্তগুলোতে আপনার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। ফলাফল আল্লাহর হাতে। সবই আল্লাহর হাতে।

সহজভাবে গ্রহণ করুন জীবন। হাসিমুখ থাকুন, হাসিমুখ তৈরি করুন। কাজ করুন। মন দিয়ে কাজ করুন। কাজের মাঝে বেঁচে থাকুন যেন এগুলো সাদকায়ে জারিয়া হয়ে মরণের পরেও বন্ধু হয়ে রয়।

কেউ দেখে শিখে আর কেউ ঠেকে শিখে

জীবনে সবাই শেখে। কেউ কেউ শেখার জন্য বেছে নেয় খুব কষ্টের পথ। আপনি যে জিনিস হয়ত মধ্য বয়সে শিখছেন, তা হয়ত অনেকে কৈশোরে শিখে ফেলেছে। কেউ হয়ত স্কুল জীবনে যা শেখার কথা, আজো তা শেখেনি। এগুলো চিন্তা করে অবাক হবেন, তাতে লাভ নেই। আসল বিষয় হলো, আপনি কখন শিখবেন। যখনই হোক, জীবনে যখন “ঠেকে শিখবেন” তখনই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হতে হয়। প্রকৃতপক্ষে, যতই শিখবেন, শেখার সময়টা অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু না শেখা জীবন হতাশা আর গ্লানির। যারা কখনই শেখে না, বুঝেও বুঝে না, দেখেও অনুভব করে না–তারা আজীবন বুকের জ্বালায় দগ্ধ হয়ে মরে। কষ্টের উৎস খুঁজে না পাওয়ার যে জ্বালা, সেটা তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

কেউ ক্লাসরুমে আনন্দ করে শেখে, কেউ শেখে শুভাকাংখীর উপদেশ থেকে। আবার নির্মম শিক্ষা হলো খুব বড় ক্ষতি থেকে শেখা। তবুও, শেখা শেখাই। একটা কথা বহুল প্রচলিত, “শিখেছি কোথায়? ঠেকেছি যেথায়”। তাই শেখায় কোন লজ্জা নেই, বয়স নেই। ঐ যে বলে না? ‘better late than never’– দেরিতে হলেও শিখুন। শেখাই জীবন। শিখলেই জীবন বদলায়। কিন্তু শেখার পথটা খুব কষ্টের। খুব। যে কোন চিন্তা, অভিজ্ঞতা আমাদের যা শেখায়, তা একটা দুর্গম পথ। কিন্তু, শেখা ছাড়া জীবন হয় না। ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন,’ — শেখার এক পরম আদেশ, হালাল-হারাম, অমুক-তমুক, ইত্যাদি চিন্তা করার আগেই শিখতে দৌড়াতে হবে।

যারা সাধারণ বাক্যই উপলব্ধি করতে পারে না, চোখের সামনে, নিজের জীবনে শত-সহস্র ঘটনা থেকেও শিখতে পারে না। ধর্মের কথা, হালাল-হারাম আর পাপ-পুণ্যের গল্প বলে সে তো কেবল অন্যের ক্ষতিই করবে। আল্লাহ তো দিন-রাত্রির পরিবর্তনে, আকাশ আর দুনিয়ার সৃষ্টির মাঝে তাকিয়ে থেকে চিন্তাশীলদের শেখার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। কয়টা হৃদয় সত্যিকারের শিখতে পারি? এই আকাশ আর পৃথিবী, রাত আর দিনে কী কী শিখেছি তা পয়েন্ট করে লিখে নিজেরাই লজ্জায় পড়ে যাবো না?

শিখতে হবে। একদম শিশুদের মতন শেখা। শেখাতেই রয়েছে মুক্তির শুরু। শেখার মাঝেই রয়েছে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার চাবি। সবাই আটকে পড়ে আছি কারাগারে। অজ্ঞতা, অন্ধত্ব, অহং, হিংসার কারাগার। আলো দাও খোদা। ‘নূরুন আলা নূর’ কবে একটানা হতেই থাকবে আমাদের হৃদয়ে?

[১৩ নভেম্বর, ২০১৫]

কবে ভালোবাসা ফিরে আসবে আবার? হৃদয়ে হৃদয়ে…

আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরাই তাদের নিজের ভেতরের দেয়ালগুলোতে নিজেদের বন্দী করে রাখে। তাদের বন্দী থাকতে হয়, বন্দী হতে শেখানো হয় ছোট থেকেই। লোকে কী বলবে, তারা কী বলবে ভাবতে ভাবতে নষ্ট হয়ে যায় হৃদয়ের ভেতরের জৈবিক রসায়ন। ধর্মের দোহাই দিয়ে বেঁধে রাখতে চায় অনেকে।

ধর্ম কী কেবলই কিছু আচার-অনুষ্ঠান? আমরা কি জানিনা অনেক বড় আলেমদের সর্বাগ্রে জাহান্নামে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে মর্মে সতর্কবাণীর কথা? আমরা কি জানিনা উশকো-খুশকো অভাবী-দীন-হীন লোকের হাত আল্লাহর খুব পছন্দ হবার কথা? বাহিরে মোরা ভদ্র বড়, ভেতরে শুধুই পশু। বাহিরের আচ্ছাদন আর লেবাসের সৌষ্ঠবের প্রতি আগ্রহ তো বুকের ভেতরের রসায়নকে নষ্ট করে ফেলেছে।

বহিরাবরণে ভদ্রলোক/ধার্মিক/ভদ্রমহিলা/শিক্ষিত অথচ বুকের মাঝে নেই মানবিক বোধ। অনেকগুলো ডিগ্রি পাশ দিয়ে আসা ডাক্তার সাহেব এক মিনিট কথা বলতে চাইছেন না রোগীর সাথে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্মার্ট আর ইয়াং ছেলেটা ঘুষি বাগিয়ে দিলো রিকসাওয়ালা ছেলেটাকে, ভেবে দেখা যায় না ছেলেটা কতটা কষ্টে রিকসা নিয়ে বের হয়েছে, শরীর দিয়ে টেনেছে এই যানটি–জীবনের প্রয়োজনে? এই চলমান সমাজে মনুষ্যত্ব লুকিয়েছে শব্দের খোলসে, মানুষের হৃদয় কেবলই শূণ্য। হৃদয়গুলোতে লোভ, হিংসা, ক্রোধ, অহংকার এবং সর্বোপরি ক্ষমতার লালসা।

কবে ভালোবাসা ফিরে আসবে আবার? হৃদয়ে হৃদয়ে…
কবে ভালোবাসা পাবে গাছের পাতা, পাখি, প্রাণী; ভালোবাসা পাবে চলতি পথের পথিক। ভালোবাসা পাবে অসহায়, আহত হৃদয়ের মানুষগুলো। ভালোবাসা তো পারে বদলে দিতে সবকিছু। আসলে, যা ভালো লাগে করতে হয়। বাইরে দেখতে যেমনটি লাগে, নিজেরা যেন তেমনটিই হই। নিজেরা যেমন,  তেমনটি যেন লোকে মনে করে। কী লাভ তীব্র বৈপরিত্যের মাঝে সদা বসবাসে?

[২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫]

রুমী কবিতা (সপ্তদশ কিস্তি)

 

* * * * *
প্রিয় হৃদয়! কখনো ভেবো না তুমি অন্যদের চেয়ে উত্তম। অপরের দুঃখগুলো সহানূভুতির সাথে শোনো। তুমি যদি শান্তি চাও, খারাপ চিন্তাগুলোকে মনের মাঝে রেখো না, পরনিন্দা কোরো না এবং এমন কিছু শেখাতে যেয়ো না যা তুমি জানো না। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * * 
আমার হৃদয় তো তোমার হাতে থাকা কলমের মতন
আমার সবকিছুই তোমার হাতে
আমাকে সুখী অথবা দুখী করে লিখতে পারো
তুমি আমার জন্য যা প্রকাশিত করো কেবল তা-ই আমি দেখি
আর যেমন করে থাকতে বলো, আমি তেমনটিই থাকি।
আমার সমস্ত অনুভূতিগুলো সেই রঙ ধারণ করে
যা তুমি রাঙ্গাতে চাও।
আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত
তুমি ছাড়া কেউ নয়।
দয়া করো, আমার ভবিষ্যতকে
আমার অতীতের চেয়ে সুন্দর করে দাও।

~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
তোমার হৃদয়ের গভীরে একটি প্রদীপ আছে, জ্বেলে দিতে তৈরি হও।
তোমার আত্মায় গহীন শূণ্যতা আছে, তাকে পূর্ণ করতে তৈরি হও।
তুমি তা অনুভব করতে পারছ, তাইনা?
~ রুমী

* * * * *
তোমার শব্দকে উঁচু করো, কন্ঠ চড়িয়ো না। কারণ, বৃষ্টিই ফুলকে প্রস্ফুটিত করে, বজ্রপাত নয়।~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
আত্মাটা যখন ঘাসের ওপরে শুয়ে পড়ে,কথা বলার বিষয়ে পেতে গোটা পৃথিবীকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ মনে হয়। ~জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
তোমার চোখের পাতা আমার হৃদয়ে যে কবিতা লিখবে, সে কবিতা কোন কবির কলম থেকে বের হবেনা কোনদিন। ~ জালালুদ্দিন রুমী

* * * * *
কিন্তু তুমি কি এমন কারো কথা ভাবতে পারো যে ধোঁয়াচ্ছন্ন অস্পষ্ট নয়? ~জালালুদ্দিন রুমী

 * * * **
বিদায় কেবল তাদের জন্য যারা তাদের কেবল চোখ দিয়ে ভালোবাসে। কেননা, যারা হৃদয় এবং আত্মা দিয়ে ভালোবাসে তাদের জন্য বিচ্ছেদ বলে কিছু নেই। ~জালালুদ্দিন রুমী

[অনুবাদ] পাওলো কোয়েলহো

 

* * * * * *
জীবনকে হয় দীর্ঘ নয়ত সংক্ষিপ্ত বলে মনে হয় যা নির্ভর করে আপনি জীবনে কেমন করে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন তার উপরে।~ পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
পৃথিবীর কোন কিছুই পুরোপুরি ভুল নয়। এমনকি পড়ে থাকা নষ্ট ঘড়িটাও দিনে দু’বার সঠিক সময় দেয়। ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
পৃথিবী আপনার বক্তব্য আর মতামত দিয়ে কোনদিন বদলাবে না। পৃথিবী বদলায় আপনার কাজ দিয়ে যে দৃষ্টান্ত আপনি তৈরি করেন তা দিয়ে।~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
অনেক সময় আমরা যে জীবনধারায় চলছি সেভাবে সেভাবেই চলতে এতটাই মত্ত হয়ে থাকি যে অনেক সুন্দর সুন্দর সম্ভাবনাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করে ফেলি তা স্রেফ এই কারণে যে আমরা জানিনা সে সুযোগ দিয়ে কী করা যেতে পারে।~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
আপনি যখন ‘বিদায়’ জানানোর মতন সাহসী হবেন, দেখবেন জীবন আপনাকে নতুন করে ‘স্বাগত’ জানিয়ে পুরষ্কার দেবে। ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
“স্বপ্নকে সত্য হওয়াকে অসম্ভব করে ফেলার পেছনে যে একমাত্র কারণটি কাজ করে তা হলো ব্যর্থতার ভয়।”~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
অপেক্ষা করা কষ্টকর, ভুলে যাওয়া কষ্টকর। কিন্তু ঠিক কী করতে হবে তা না জানা হলো সবচেয়ে বেশি কষ্টকর ভোগান্তি। ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
পেছনের দিনে কেউ যেতে পারে না, কিন্তু সবাই সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তাই আগামীকাল যখন সূর্য উঠবে তখন নিজেকে আপনার বলতে হবে, আজকের দিনটিকে আমি আমার জীবনের প্রথম দিন হিসেবে মনে করবো।~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
সবাইকে দেখলে যেন মনে হয় অন্যদের কেমন করে জীবন যাপন করা উচিত সেই সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা আছে, কিন্তু কারোই তো তার নিজের জীবন-যাপন নিয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। ~পাওলো কোয়েলহো [দি-আলকেমিস্ট] 

* * * * * *
আমরা যখন ভালোবাসি, তখন চেষ্টা করি নিজেকে আরো উন্নত করার। যখন নিজেকে উন্নত করার সাধনা করি, তখন আমাদের চারপাশের সবকিছুও উন্নত হয়ে যায়।  ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
নিজের ভেতরের শিশুটির হাত চেপে ধরুন কেননা শিশুদের কোন অসম্ভব কাজ করতেই আটকায় না। ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
কোন কিছু করতে দ্বিধা হলে তা করে ফেলুন। আপনি সবসময় পরে আফসোস করতে পারবেন। ~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
আপনার সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু যেন আপনার দুই কানের মমধ্যবর্তী জায়গায় বসবাস না করে তা নিশ্চিত করুন।~পাওলো কোয়েলহো

* * * * * *
অনেক সময় নীরবতাই সবচেয়ে বড় উত্তর। ~পাওলো কোয়েলহো

মানুষ হিসেবে ভুল করার অধিকার আপনার আছে

মানুষ হিসেবে ভুল করার অধিকার আপনার আছে। আপনি প্রতিদিনই ভুল করবেন, সেগুলো থেকে উত্তরণই আপনার প্রতিদিনের সফলতা। আপনার ভুলকে পুঁজি করে কেউ আহত করলে, আঘাত দিলেই কিন্তু আপনি ভেংগে পড়বেন না। আপনাকে সম্পূর্ণ ভুল মানুষ হিসেবে কেউ দাবী করলে তাতে কষ্ট পাবেন না। কেননা, আপনি এই মানুষটা একদিনে হননি।

আপনার গোটা জীবনের প্রতিটি দিনের ছোট ছোট সৌন্দর্য মিলেই এই আপনি। আল্লাহর পৃথিবী একদিনে উলটে যায় না। কারো কথায়, আচরণে আহত হবেন না। শক্ত হোন, নিজের কাছে সততা রাখুন। আল্লাহ ঠিক জানেন আপনার অন্তরের সৌন্দর্য, অন্যদের প্রতি আপনার ভালোবাসা, শুভকামনা আর দোয়া– আপনি সবকিছুর বিনিময় অবশ্যই পাবেন। আপনার সংগোপনে করা সুন্দর চিন্তাগুলোর প্রতিবিম্ব আপনি খুঁজে পাবেন অন্য মানুষের আচরণে, কথায়।

আল্লাহর পৃথিবীটা অনন্য সুন্দর। এখানে সবকিছু মিলেই সবকিছু। অল্পতেই আশাহত হবেন না। 🙂

[১৩ নভেম্বর, ২০১৫]

আপনি কি নিজের ভেতরের জিঞ্জিরগুলো চুরমার করতে পেরেছেন?

 

আচ্ছা, আপনি কি কখনো নিজের ভেতরের সমস্ত জিঞ্জিরগুলো ভেঙ্গে চুরমার করতে পেরেছেন? আপনি কি সমস্ত খারাপলাগা, কষ্ট, ক্লেদ, ঘৃণা, হিংসা, অপ্রাপ্তির হিসেব, অস্বস্তি, অশান্তিকে ভেঙ্গে নিজেকে ফুরফুরে হাসি উপহার দিতে পেরেছেন? পেরেছেন নিজেকে ভালোবাসতে? নিজেকে যে ভালোবাসতে পারে না, সে অন্যদেরকেও পারে না। যে নিজের একাকীত্বকে সহ্য করতে পারেনা, সে অন্যের সান্নিধ্যেও শান্তি পায় না। যে নিজের কারাগারে নিজে বন্দী থাকে, সে অপর কারো সান্নিধ্যে আরো বেশি বন্দীত্ব অনুভব করে।

খেয়াল রাখুন যেন নিজের চারপাশের শেকলগুলো আপনাকে বেঁধে না রাখে, যেন অতীতের মতন গ্লানিময় না হয় আগামীর দিনগুলো। হাসুন মন খুলে, বৃষ্টিকে উপভোগ করুন আনন্দে। আপনার মতন জীবন তো পৃথিবীতে কোটি-কোটি মানুষ এখনো উপভোগ করছে– সাগ্রহে কিংবা বাধ্য হয়ে। আপনি যা পাচ্ছেন, সে তো আল্লাহর একান্ত দান। তিনি যা দিচ্ছেন, তা আপনার জন্যই নির্ধারিত। তিনি যা থেকে আপনাকে বঞ্চিত করছেন, তা আপনি কিছুতেই পেতেন না। এই বর্তমানের মূহুর্তটুকু উপভোগ করুন। প্রাণের, অনুভূতির, উপলব্ধির এই মহামূল্যবান সময়ের জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করুন। আপনার চারপাশেই অনেক মানুষ চিন্তা ও উপলব্ধির সময় কিংবা সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না। কীসের জ্বালা আপনাকে ভারাক্রান্ত করছে বলুন তো?

ভেবে দেখুন, এই মূহুর্তটির মতন মূল্যবান কিন্তু কিছু আপনার জীবনে নেই। এই এক্ষুনি বুকের মাঝে আনন্দের ঢেউ খেলাতে পারবেন কি? না পারলে চিন্তিত হয়ে দেখুন তো, কোন নষ্ট অনুভূতির বাঁধ আপনার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার স্রোতকে আটকে দিচ্ছে? সমস্ত শান্তি ও ভালোবাসার ভান্ডারের চাবি তো আমাদের হৃদয়ের গহীনেই, কেন তবু আমরা দুঃখিত, বিষণ্ণ, অশান্ত?

[৬ অক্টোবর, ২০১৫]

আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি?

 

আমরা যাকে ভালোবাসি, আসলেই কি বাসি? কেমন করে বুঝি সেটা? আমরা যা পছন্দ করি, আসলেই কি করি? নাকি অন্যেরা যা ভালোবাসায়, পছন্দ করায়, তা আমরা অবচেতনভাবে পছন্দ করি, ভালোবাসি, উত্তম মনে করি? আমরা কতটুকু সময় নিজের চিন্তা নিজে করি? লোকের বলা ছাঁচেই আমরা বেশিরভাগ চিন্তা করি, তাইনা? অথচ আমরা কেউ অন্য কারো মতন না। আমাদের জীবনগুলো পরস্পরের চেয়ে একদম আলাদা।

আমরা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চিন্তার কারাগারে বন্দী থাকি। চারপাশের মানুষগুলো আমাদের বন্দী করতে চায় তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ আরোপ করে সৃষ্ট যে কারাগার তার মাঝে। আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন অবারিত পৃথিবী। পৃথিবীতে খুব অল্প বিষয় নিষিদ্ধ। পৃথিবী আল্লাহর নিয়ামতে পরিপূর্ণ। উপভোগের জন্য পাপহীন বিনোদনে পৃথিবী ভরপুর।

আচ্ছা, ক’জন আমরা ঘৃণাহীন, হিংসাহীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারি? পত্রিকা, চ্যানেলের খবরে, অপদার্থ বন্ধু/আত্মীয়র মুখে, ফেসবুকের পন্ডিতন্মন্য মানুষদের সমালোচনামুখর পোস্টে আমরা শুধু ঘৃণা, অবিশ্বাস, সন্দেহ, অশান্তি, পরনিন্দা, অপবাদ, মিথ্যায় ডুবে থাকি… শান্তির ঘুম কেমন করে আসবে জঞ্জালভরা হৃদয়ে, অতৃপ্ত ও অসুস্থ চোখে?

কেন লোকের গীবত-পরনিন্দা থেকে দূরে যাইনা? কেন যাবতীয় নেগেটিভিটি থেকে সরে আসিনা? কেন সবাইকে ভালোবাসতে পারিনা? কেন লোকের উত্তম গুণাবলী নিয়েই আলাপ করিনা?

সমস্ত রং যেখানে থাকে, সেটি হয় কালো। যেখানে কোন রং থাকে না, তার রং সাদা। হৃদয় যখন সমস্ত ক্লেদ ও পংকিলতামুক্ত হয়– সেটি শুভ্র হৃদয়। সেটিই প্রশান্ত আত্মা।

নিজেদের শত্রু যেন নিজেরাই না হই কখনো। আমাদের আত্মা যেন হয় সদাকৃতজ্ঞ, স্নিগ্ধ, ভালোবাসায় ভরপুর প্রশান্ত আত্মা।

[২৯ আগস্ট, ২০১৫]